হবিগঞ্জে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি দমনে অভিযান, জরিমানা ৭ যাত্রীকে

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৭৪ বার
হবিগঞ্জে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি দমনে অভিযান, জরিমানা ৭ যাত্রীকে

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৫।  একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি রোধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯)। এ সময় অবৈধভাবে টিকিট কেনার অভিযোগে সাতজন যাত্রীকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়। র‌্যাবের এ অভিযান এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।

শনিবার (২৫ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে র‌্যাব-৯ এর সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার শাহ আলমের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত ছিলেন শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পল্লব হোম দাস, যিনি পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সাতজন যাত্রীকে ২ হাজার ৭৫০ টাকা জরিমানা করেন।

র‌্যাব জানায়, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ জংশনে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অবৈধভাবে অনলাইন এবং কাউন্টার উভয় মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করে বাড়তি দামে বিক্রি করে আসছে। এ কারণে অনেক সাধারণ যাত্রী বৈধভাবে টিকিট না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন। কিছু অসাধু যাত্রীও নিজেদের সুবিধার জন্য এই কালোবাজারি চক্রের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন, যা রেলওয়ে ব্যবস্থায় অনিয়মকে আরও বিস্তৃত করছে।

শনিবারের অভিযানে র‌্যাব গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শায়েস্তাগঞ্জ জংশনে অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সন্দেহভাজন কয়েকজন যাত্রীকে আটক করা হয়, যাদের কাছে অতিরিক্ত মূল্যে কেনা টিকিট পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেন, নির্ধারিত সময়ের আগে টিকিট না পাওয়ায় তারা বিক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দামে টিকিট কিনেছেন। পরবর্তীতে বিষয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালতে উপস্থাপন করলে সাতজন যাত্রীকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পল্লব হোম দাস বলেন, “কালোবাজারি টিকিট বিক্রি রোধে আমরা এই অভিযান পরিচালনা করেছি। যাত্রীরা যেন অবৈধভাবে টিকিট না কিনে, সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করাই মূল লক্ষ্য। যারা নিয়ম ভঙ্গ করেছেন, তাদের জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ দমন করতে অভিযান নিয়মিত চলবে।”

তিনি আরও বলেন, “রেলওয়ে বাংলাদেশের মানুষের অন্যতম জনপ্রিয় ও সাশ্রয়ী গণপরিবহন ব্যবস্থা। কিন্তু কিছু অসাধু চক্রের কারণে সাধারণ যাত্রীরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আমরা চাই, প্রত্যেক যাত্রী যেন বৈধভাবে টিকিট সংগ্রহ করেন এবং ভোগান্তিমুক্তভাবে যাত্রা সম্পন্ন করতে পারেন।”

র‌্যাব-৯ এর কোম্পানি কমান্ডার শাহ আলম বলেন, “আমরা কিছুদিন ধরে অভিযোগ পাচ্ছিলাম, শায়েস্তাগঞ্জ জংশনে টিকিট কালোবাজারি বেড়ে গেছে। অনেক যাত্রী নিয়ম মেনে টিকিট না পেয়ে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে কিনছেন। এতে যেমন রাষ্ট্রীয় ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন। তাই আমরা কঠোর নজরদারি শুরু করেছি এবং নিয়মিত অভিযান চালানো হবে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, টিকিটের সংকটের সুযোগে কিছু দালাল চক্র অনলাইন আইডি ব্যবহার করে আগেভাগে টিকিট সংগ্রহ করে রাখে। এরপর চড়া মূল্যে সেই টিকিট বিক্রি করে দেয় ট্রেনের আগমুহূর্তে। এতে প্রকৃত যাত্রীদের অনেকেই টিকিট না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যান বা বিকল্প পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের এক কর্মকর্তার মতে, “আমরা দেখেছি, অনলাইন টিকিটিং সিস্টেম চালু হওয়ার পর থেকেই কিছু দালাল আইডি ব্যবহার করে দ্রুত টিকিট কিনে নেয়। এতে সাধারণ যাত্রীদের টিকিট পাওয়ার সুযোগ কমে যায়। বিষয়টি নজরদারিতে আছে এবং আমরা র‌্যাবসহ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি।”

অভিযান চলাকালে স্টেশনে উপস্থিত কয়েকজন যাত্রী র‌্যাবের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আমরা অনেক দিন ধরেই ভুগছিলাম। টিকিট বিক্রি শেষ বলে ঘোষণা দেওয়ার পরও দেখা যেত দালালরা কিছুক্ষণ পরেই টিকিট নিয়ে হাজির হয়। তারা ২০০ টাকার টিকিট ৫০০ টাকায় বিক্রি করে। আজকের অভিযানে অন্তত বোঝা গেছে, কর্তৃপক্ষ এখন সচেতন হয়েছে।”

কালোবাজারি টিকিট বিক্রি নিয়ে শুধু হবিগঞ্জ নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও যাত্রীদের অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে বড় উৎসবের সময়—যেমন ঈদ, পূজা বা সরকারি ছুটিতে টিকিটের চাহিদা বেড়ে গেলে দালাল চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। সরকার অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থা চালু করলেও প্রযুক্তিগত ঘাটতি, সীমিত সার্ভার ক্ষমতা এবং দুর্বল পর্যবেক্ষণের কারণে চক্রগুলো সুবিধা নেয়।

তবে রেল মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, টিকিট বিক্রিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উন্নত সফটওয়্যার চালু করা হবে এবং প্রত্যেক যাত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে টিকিটের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হবে। এর ফলে কালোবাজারি অনেকটাই কমে আসবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

অভিযানের পর শায়েস্তাগঞ্জে সাধারণ মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও র‌্যাব জানায়, এটি কোনো একদিনের প্রচেষ্টা নয়। তারা নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে, যাতে যাত্রীরা নিজেরাই অবৈধভাবে টিকিট কেনা থেকে বিরত থাকেন।

জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, মীর কাসেম আলী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ অনেক আলেম-ওলামাকে মিথ্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।”

অভিযান শেষে শায়েস্তাগঞ্জ জংশনে এক র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, “এটি শুধু আইন প্রয়োগ নয়, এটি একটি বার্তা—রেলওয়ে ব্যবস্থার স্বচ্ছতা রক্ষায় আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। কেউ যদি নিজের সুবিধার জন্য নিয়ম ভঙ্গ করে, তবে তার শাস্তি হবেই।”

হবিগঞ্জে র‌্যাবের এই অভিযান শুধু সাতজন যাত্রীকে জরিমানা করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি আসলে একটি প্রতীকী পদক্ষেপ, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে—দেশব্যাপী রেলওয়ে ব্যবস্থায় কালোবাজারি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসন এখন কঠোর অবস্থানে। সাধারণ যাত্রীদের প্রত্যাশা, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে রেল ভ্রমণ আবারও সবার কাছে নিরাপদ ও ন্যায্য যাতায়াতের প্রতীকে পরিণত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com