ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ৫০৬ জন হাসপাতালে ভর্তি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪৩ বার
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ৫০৬ জন হাসপাতালে ভর্তি

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

সারা দেশে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে শুক্রবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে আশার খবর হলো, এই সময়সীমায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ১২৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন, ঢাকা বিভাগের অন্যান্য শহরে ২১৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯১ জন, বরিশাল বিভাগে ৫৩ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ২৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদিকে চলতি বছর এখন পর্যন্ত এডিস মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ২৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মারা যাদের মধ্যে ১৪৮ জন পুরুষ এবং ১৩০ জন নারী।

এই বছর মোট ৬৯,৮৬২ জন মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা ও সেবা প্রদানের চাপ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, জনসাধারণকে আবাসিক ও শহুরে এলাকায় এডিস মশার প্রজনন কেন্দ্র দূর করতে হবে, পানির ট্যাংক ঢাকনা সহ রাখার মাধ্যমে মশার ডিম পাড়ার সুযোগ বন্ধ করতে হবে এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা বজায় রাখতে হবে।

ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যথাযথ রক্তশূন্যতা পরীক্ষা, রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ, ফ্লুইড ইলেক্ট্রোলাইট ব্যবস্থাপনা এবং জ্বর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর সতর্ক করেছেন, ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখলেই দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গুর উপসর্গগুলো সাধারণত জ্বর, মাথাব্যথা, চোখে ব্যথা, শরীর ব্যথা এবং ক্লান্তি হিসেবে প্রকাশ পায়। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এটি হিমোরেজিক ডেঙ্গু বা ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে রূপ নেয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা প্রাণঘাতী হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, ঢাকার মহানগরীর হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম ও বরিশালের হাসপাতালগুলোতে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা কিছুটা কম হলেও স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্কতা এখনো বজায় রয়েছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় স্বাস্থ্য বিভাগ সচেতনতা কার্যক্রম চালাচ্ছে। স্কুল, কলেজ, সরকারি অফিস ও আবাসিক এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জনগণকে সতর্ক করে বলছেন, পানির ট্যাংক ঢাকনা লাগানো, পুকুর ও হোঁচটখোলা স্থানে পানি জমতে না দেওয়া এবং মশার কিট ব্যবহারের মাধ্যমে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কমানো সম্ভব।

বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বাস্থ্য অধিদফতর এবং স্থানীয় প্রশাসন মিলিতভাবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে জনগণের অংশগ্রহণ না থাকলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। তাই সবাইকে মশার প্রজনন বন্ধ, বাড়ির চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা মাত্র চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ডেঙ্গুর কারণে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির মধ্যে, স্বাস্থ্য অধিদফতর দেশের জনগণকে সতর্ক করে বলেছে, আগামী মাসগুলোতে মশার প্রজনন বৃদ্ধি পায়। তাই ব্যক্তিগত সতর্কতা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং ডেঙ্গু নিয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত