ডেঙ্গুতে একদিনে ১০ জনের প্রাণহানি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৬ বার
ডেঙ্গুতে একদিনে ১০ জনের প্রাণহানি

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

সারা দেশে ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাব ক্রমেই বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি, অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৬৯ জন রোগী। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, নগর ও গ্রামীণ এলাকায় ডেঙ্গুর বিস্তার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।

ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসা ও রোগনির্ণয়ের জন্য দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রস্তুতি বাড়ানো হয়েছে। শারীরিক দুর্বলতা, জ্বর, র‍্যাশ এবং হঠাৎ ব্লিডিংয়ের মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, প্রাথমিক অবস্থায় সঠিক চিকিৎসা না পেলে ডেঙ্গু মৃত্যুর কারণ হতে পারে, এবং হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়ছে।

দেশের বিভিন্ন জেলার স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ মশার প্রজনন রোধে মাঠপর্যায়ে অভিযান চালাচ্ছে। মশার লার্ভা ধ্বংস, আবর্জনা নিষ্পত্তি এবং পানির জমাট বাঁধা স্থানগুলো সরিয়ে দেওয়া এই প্রচেষ্টার অংশ। সরকারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জনগণকে বাড়ির আশেপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে, খোলা পানি রাখা এড়িয়ে যেতে এবং ব্যক্তিগতভাবে মশার প্রতিরোধী ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, শহরাঞ্চলসহ গ্রামীণ এলাকায় এখনও অনেক পরিবার নিকটবর্তী জলাশয়, বর্জ্য বা জমাট বাঁধা পানি সরিয়ে নেয়নি। এর ফলে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেশি। তারা বলেন, “শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য ডেঙ্গু মারাত্মক হতে পারে। রোগ প্রতিরোধে স্বচ্ছ পানি, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া সবচেয়ে জরুরি।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। হাসপাতালে যথাযথ মেডিকেল কিট সরবরাহ, চিকিৎসক ও নার্সদের প্রস্তুত রাখা এবং রোগীদের তত্ত্বাবধানে রাখার ব্যবস্থা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রশাসন এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো সচেতনতা মূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে, যাতে মানুষ বাড়ি ও আশেপাশের এলাকায় মশার প্রজনন রোধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।

সাধারণ মানুষও সতর্ক হয়েছে। একাধিক পরিবার তাদের বাড়ির পানি সরিয়ে দিয়েছে, খোলা পানির ট্যাংক ঢেকে দিয়েছে এবং মশার জাল ব্যবহার করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি যথেষ্ট নয়। “সরাসরি ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, ডেঙ্গু উপসর্গ চিনে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া এবং সম্প্রদায়িক সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। অন্যথায়, মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে পারে,” সতর্ক করেছেন একজন চিকিৎসক।

ডেঙ্গু প্রতি বছরের মতো এখনো বাংলাদেশের স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হিসেবে রয়ে গেছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, জনসাধারণের সহযোগিতা এবং প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া এই রোগের বিস্তার রোধ করা সম্ভব নয়। নাগরিকরা যদি সতর্ক না হন, তাহলে আগামী কয়েকদিনে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত