প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার মো. শাহজাহান জানিয়েছেন, মধ্য বাড্ডায় একটি বাসে আগুন লাগার খবর তারা পেয়েছেন। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বা এর পেছনে কারা থাকতে পারে সে বিষয়ে এখনও তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। তিনি বলেন, “আমরা শুধু শুনেছি যে একটি বাসে আগুন লেগেছে। ঘটনাস্থলে আমাদের টিম যাচ্ছে, পরিস্থিতি বোঝার পর বিস্তারিত জানা যাবে।”
এর আগে সন্ধ্যায় রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার সামনে একটি চলন্ত গাড়িকে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে। হঠাৎ বিস্ফোরণে আশপাশের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে ছুটোছুটি শুরু করেন। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
অল্প সময় পর, রাত ৯টার দিকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বাসার সামনেও দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। একের পর এক হামলায় রাজধানীজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাংলামোটর এলাকায় এনসিপি কার্যালয়ের সামনেও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলের আশপাশে তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করতে শুরু হয় অভিযান।
এই ধারাবাহিক নাশকতাকে কেন্দ্র করে পুরো রাজধানীতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও কঠোর করা হয়েছে। সোমবার মানবতাবিরোধী অপরাধে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের রায় ঘোষণা হওয়ার কথা। রায়কে ঘিরে গত সপ্তাহজুড়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। আওয়ামী লীগ ‘লকডাউন’ কর্মসূচি আহ্বান করার পর ১০ নভেম্বর থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বাস ও ট্রেনে অগ্নিসংযোগসহ একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে।
ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় ডিএমপি কমিশনার শেখ মোহাম্মদ সাজ্জাত আলী নাশকতাকারীদের দেখামাত্রই গুলি করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাজধানীতে ইতোমধ্যে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে—যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।
পরিবেশ উত্তপ্ত, আর রাজধানীবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে অস্বস্তি ও অনিশ্চয়তা। নিরাপত্তা বাহিনী বলছে, রায় ঘোষণার আগামিকাল পর্যন্ত শহরে কঠোর নজরদারি থাকবে।