নেস্‌লে বাংলাদেশে গাট হেলথ ওয়ার্কশপের নতুন দিগন্ত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪৬ বার
নেস্‌লে বাংলাদেশে গাট হেলথ ওয়ার্কশপের নতুন দিগন্ত

প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশে বিজ্ঞান ও পুষ্টি বিষয়ে জ্ঞানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে নেস্‌লে। প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘দ্য গাট নেক্সাস; দ্য সায়েন্স অব দ্য গাট মাইক্রোবায়োম’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী বিশেষ ওয়ার্কশপে গাট হেলথ এবং ফাংশনাল গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ডিসঅর্ডার বিষয়ে সর্বশেষ বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি তুলে ধরা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন সেক্টরের ২৫০-এর বেশি বিশেষজ্ঞ ও গবেষক এতে অংশগ্রহণ করেছেন।

ওয়ার্কশপে আন্তর্জাতিকভাবে স্বনামধন্য প্রফেসর ড. শামন রাজেন্দ্রজিৎ (শ্রীলঙ্কা) এবং প্রফেসর ড. মার্ক এ. বেনিঙ্গা (নেদারল্যান্ডস) গাট হেলথ এবং ফাংশনাল গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ডিসঅর্ডার নিয়ে মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন। তারা গাট মাইক্রোবায়োমের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সংক্রান্ত বিভিন্ন দিকের গুরুত্ব এবং গবেষণার সর্বশেষ ফলাফল তুলে ধরেন, যা চিকিৎসা ও ডায়েটারি পরিকল্পনার ক্ষেত্রে নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন আইসিডিডিআর,বি-এর প্রফেসর ড. মো. ইকবাল হোসেন। তিনি স্থানীয় খাদ্যাভ্যাস এবং গাট–বান্ধব খাবারের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। তার বক্তব্যে বলা হয়, দেশীয় খাবার এবং প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস গাট হেলথ রক্ষা এবং ফাংশনাল গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার সমন্বয়কে বোঝার সুযোগ পান।

ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণকারীরা প্রোবায়োটিক ও সিনবায়োটিক উদ্ভাবন বিষয়ক সায়েন্টিফিক বুথগুলো পরিদর্শন করেন। এসব বুথে গাট হেলথ বিষয়ে বিভিন্ন উদ্ভাবন এবং পুষ্টির নতুন অগ্রগতি প্রদর্শন করা হয়। নেস্‌লে নিউট্রিশন ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালা, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্যের জন্য বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও পুষ্টির সমন্বয়কে আরও এগিয়ে নেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গাট মাইক্রোবায়োম ও ফাংশনাল গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ডিসঅর্ডার বিষয়ে এই ধরনের কর্মশালা শুধু চিকিৎসক বা গবেষকদের জন্য নয়, সাধারণ মানুষের জন্যও শিক্ষামূলক। এটি মানুষকে নিজের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হতে উৎসাহিত করে এবং খাদ্যাভ্যাসে প্রোবায়োটিক ও সিনবায়োটিক অন্তর্ভুক্ত করার গুরুত্ব প্রকাশ করে।

ওয়ার্কশপে বিভিন্ন সেক্টরের গবেষক ও পুষ্টিবিদরা অংশগ্রহণ করেছেন, যারা নিজেদের গবেষণার ফলাফল এবং অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। এতে নেস্‌লে বাংলাদেশ দেশের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি খাতে বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের প্রসার ঘটানোর ক্ষেত্রে একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গাট হেলথ নিয়ে শিক্ষামূলক এই কর্মশালা স্বাস্থ্য সচেতন সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নেস্‌লে নিউট্রিশন ইনস্টিটিউটের পদক্ষেপ, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান এবং পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে। এটি সুস্বাস্থ্যের জন্য বৈজ্ঞানিক সমাধান ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করবে। কর্মশালার মাধ্যমে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও নতুন নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এই কর্মশালা একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও পুষ্টি সচেতনতা একসাথে যুক্ত হলে সমাজে সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করা সম্ভব। নেস্‌লে বাংলাদেশ এই ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি খাতে নেতৃত্ব বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত