প্রবাসী ও মোবাইল আমদানিতে নতুন শুল্ক ও নিয়ম ঘোষণা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪৫ বার
মোবাইল আমদানিতে নতুন শুল্ক

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সরকার বৈধভাবে মোবাইল ফোন আমদানি সহজ ও সাশ্রয়ী করার পাশাপাশি অবৈধ হ্যান্ডসেট নিয়ন্ত্রণের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১ ডিসেম্বর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিটিআরসি এবং এনবিআরের কর্মকর্তারা প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের নেতৃত্বে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্তগুলো চূড়ান্ত করেন। বৈঠকে মোবাইল আমদানি শুল্ক হ্রাস, প্রবাসীদের সুবিধা, অবৈধ হ্যান্ডসেট ও সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রবাসীরা দেশে ছুটি কাটানোর সময় ৬০ দিন পর্যন্ত স্মার্টফোন রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই ব্যবহার করতে পারবেন। ৬০ দিনের বেশি অবস্থানের ক্ষেত্রে অবশ্যই মোবাইল ফোন রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন কার্ডধারীরা ফ্রিতে সর্বাধিক তিনটি ফোন আনতে পারবেন, যার মধ্যে নিজেদের ব্যবহারের ফোনসহ দুটি নতুন ফোন ফ্রিতে আনা যাবে। চতুর্থ ফোনের ক্ষেত্রে শুল্ক দিতে হবে। কার্ডধারী নয় এমন প্রবাসীরা নিজের ব্যবহারের ফোনের পাশাপাশি অতিরিক্ত একটি ফোন ফ্রিতে আনতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে মোবাইল ক্রয়ের বৈধ কাগজ সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক, কারণ বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে চোরাচালানকারীরা প্রবাসীদের ফোন ও মূল্যবান সামগ্রী পাচারের চেষ্টা করছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈধভাবে মোবাইল আমদানির শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হবে, যা দেশের বাজারে মোবাইলের দাম কমাতে সহায়ক হবে। বর্তমানে বৈধ পথে মোবাইল আমদানির শুল্ক প্রায় ৬১ শতাংশ। শুল্ক কমানো হলে দেশি ফ্যাক্টরিতে উৎপাদিত মোবাইলের শুল্ক ও ভ্যাটও কমানো সম্ভব হবে। এনবিআর ও বিটিআরসি একাধিকবার বৈঠক করে শুল্ক ও অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের সমন্বয় নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, যেকোনো সাইবার অপরাধ, অনলাইন স্ক্যামিং, মোবাইল ব্যাংকিং বা অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত অপরাধে আপনার নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার হচ্ছে কিনা তা সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। দেশে ক্লোন মোবাইল, চুরি/ছিনতাই বা রিফারবিসড ফোন আমদানি বন্ধ করা হবে। এছাড়া ১৬ ডিসেম্বরের আগে বাজারে থাকা অবৈধভাবে আমদানি করা ফোনগুলোর মধ্যে বৈধ IMEI নম্বর থাকলে, সেই তালিকা বিটিআরসিতে জমা দিয়ে হ্রাসকৃত শুল্কে বৈধ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ক্লোন ও রিফারবিশড ফোনের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

প্রচলিত গুজব থেকে জনগণকে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানানো হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর থেকে NEIR কার্যক্রম শুরু হলে বৈধ IMEI নম্বরবিহীন ফোন ব্যবহার বন্ধ করা হবে। এ মাধ্যমে অবৈধ আমদানিকৃত, চোরাচালানকৃত এবং ক্লোন ফোন দেশে ব্যবহার থেকে বন্ধ হবে। বিদেশ থেকে পুরোনো ফোনের ডাম্পিংও বন্ধ করা হবে। কেসিং পরিবর্তনের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক বর্জ্য ঢুকিয়ে চোরাকারবারি পরিচালনা বন্ধ করতে কাস্টমস পর্যায়ে অভিযান চলবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, প্রস্তাবিত টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশ (সংশোধনী) ২০২৫ মোবাইল সিমের eKYC ও IMEI রেজিস্ট্রেশন ডেটা সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত তথ্য লঙ্ঘনকারীদের অপরাধের আওতায় আনা হয়েছে। তাই জনগণকে সচেতন থাকতে এবং অযথা ভয় বিস্তারকারী গুজবে কান না দিতে বলা হয়েছে।

সরকারের এই পদক্ষেপ মোবাইল ইন্ডাস্ট্রির জন্য সুফল বয়ে আনবে এবং প্রবাসীদের সুবিধা নিশ্চিত করবে। একদিকে বৈধ আমদানিকে উৎসাহিত করা হবে, অন্যদিকে অবৈধ হ্যান্ডসেট ও চোরাচালান রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশের প্রযুক্তি ও মোবাইল বাজারে স্বচ্ছতা ও সাশ্রয়ী পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত