আড়াইহাজারে ১১ বিসিএস ক্যাডারকে সংবর্ধনা ও ফ্রি চিকিৎসাসেবা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫৬ বার
আড়াইহাজারে ১১ বিসিএস ক্যাডারকে সংবর্ধনা ও ফ্রি চিকিৎসাসেবা

প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার দ্বীপাঞ্চল কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নে এক অনন্য মানবিক ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ১১ জন বিসিএস ক্যাডারকে সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠান। শুক্রবার সকাল ১০টায় কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠজুড়ে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয়দের অংশগ্রহণ, চিকিৎসাসেবা গ্রহণের ভিড় এবং সম্মাননা প্রদান উপলক্ষে তৈরি হওয়া আনন্দঘন দৃশ্য পুরো এলাকা জুড়ে অন্যরকম আমেজ নিয়ে আসে।

কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন উন্নয়ন ফোরাম নামে স্থানীয় একটি সামাজিক সংগঠন এই আয়োজনের উদ্যোগ নেয়। তাদের লক্ষ্য ছিল একই সঙ্গে এলাকার কৃতিশীল ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদান ও সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া। দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা সকাল থেকেই স্কুল মাঠে জমায়েত হতে থাকেন। প্রায় ১৫ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বিত প্যানেল বিনামূল্যে ২ হাজার রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করেন। বিশেষ করে দ্বীপাঞ্চলের মানুষের জন্য এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা অনেক সময়ই নাগালের বাইরে থাকে। তাই স্থানীয়দের উৎসাহ—উদ্দীপনা ও সন্তুষ্টির চিত্র ছিল পুরো অনুষ্ঠানে।

এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ১১তম বিসিএস ক্যাডার হিসেবে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কর্মরত কালাপাহাড়িয়ার ১১ জন সন্তানকে সংবর্ধনা প্রদান। যারা রাষ্ট্রযন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অবদান রাখছেন, তাদেরকে সামনে পেয়ে এলাকাবাসীর মাঝে গর্ব ও আনন্দের অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ে। সংবর্ধিত ব্যক্তিরা হলেন মো. আল আমিন, মো. কামাল হোসেন, ডা. আমিনুল হক, ডা. আনোয়ার উল্লাহ আপেল, ডা. মোহাম্মদ রাসেল, ডা. জান্নাতুল নাদিয়া, ডা. লুৎফুল হাসান শোভন, মো. মহিউদ্দিন, মো. রাকিব হোসেন, মো. শেখ ফরিদ ও মো. মাইনুদ্দিন। তারা কেউ প্রশাসনে, কেউ স্বাস্থ্যখাতে, কেউ বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের সাফল্য শুধু পরিবার বা ব্যক্তিগত অর্জন নয়, পুরো ইউনিয়নের মানুষের কাছে এক অনুপ্রেরণার উৎস।

সংবর্ধনা প্রদানকালে বক্তারা বলেন, এই এলাকার তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে এই কৃতি ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তারা নিয়মানুবর্তিতা, কঠোর পরিশ্রম ও ইতিবাচক মনোভাবের মাধ্যমে কিভাবে সফল হতে হয়, তার প্রাণবন্ত উদাহরণ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা তাদের প্রতি শুভকামনা জানান এবং ভবিষ্যতে আরো বড় সাফল্য কামনা করেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে গত বছর এই ইউনিয়ন থেকে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়া ৬ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট, ফুল ও সনদ তুলে দেওয়া হলে তারা অত্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করেন। এলাকাবাসী মনে করেন, এই ধরনের উৎসাহ-উদ্দীপনা ভবিষ্যতে আরও শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী করবে এবং সমাজে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করবে।

অনুষ্ঠানে অর্থপেডিক বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল মালেক এবং ডা. মোহাম্মদ রাসেল চিকিৎসাসেবার তত্ত্বাবধান করেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সালাহউদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব মোবারক হোসেন, আড়াইহাজার থানা প্রেসক্লাবের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ, মাওলানা শামসুল হকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। তাদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব যোগ করে এবং স্থানীয় জনসাধারণের কাছে আস্থা ও অনুপ্রেরণার বার্তা পৌঁছে দেয়।

ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারী রোগীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন জানিয়েছেন, এত বড় পরিসরে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের উপস্থিতিতে চিকিৎসাসেবা পাওয়া তাদের জন্য বিরল সুযোগ। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য বিনামূল্যে ওষুধপ্রাপ্তি ছিল এক বড় সহায়তা। অনেক প্রবীণ মানুষ, নারী ও শিশু এ সেবায় ব্যাপকভাবে উপকৃত হন। স্থানীয়রা মনে করেন, এই ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে এবং সবাইকে এক সুস্থ, সুশৃঙ্খল ও সচেতন সমাজ গঠনের দিকে এগিয়ে দেয়।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

সংবর্ধিত বিসিএস ক্যাডাররা তাদের বক্তব্যে বলেন, তারা কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের সন্তান হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব আরও গভীরভাবে অনুভব করেন। তারা ভবিষ্যতে এলাকার উন্নয়নে আরও ভূমিকা রাখতে চান এবং তরুণদের পাশে থাকতে আগ্রহী। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণে দিকনির্দেশনা দিতে চান তারা। বক্তৃতায় তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সংগঠনের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর। ছোট-বড়, নারী-পুরুষ সবাই অংশগ্রহণ করেন। শিশুদের কোলাহল, প্রবীণদের আগ্রহ, তরুণদের উদ্যম—সব মিলিয়ে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। এই আয়োজন শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা, মানবিকতা ও সমষ্টিক উন্নয়নের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে স্থান করে নেয়।

অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের সদস্যরা জানান, তাদের লক্ষ্য শুধু অনুষ্ঠান আয়োজন নয়, বরং সমাজের প্রতিটি স্তরে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করা। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সমাজসেবা ও মানবিক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে তারা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কাজ করার পরিকল্পনা করছেন। তাদের মতে, মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও সহযোগিতার মনোভাব বাড়লে সমাজ আরও দ্রুত উন্নতির পথে এগোতে পারবে।

আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের এই আয়োজন নিঃসন্দেহে একটি মানবিক ও অনুপ্রেরণাদায়ী উদ্যোগ। এই ধরনের কর্মকাণ্ড সমাজের উন্নয়ন এবং নতুন প্রজন্মের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেই স্থানীয়দের বিশ্বাস।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত