ঢাকায় আইফোন-বিদেশি মদসহ তিন চাইনিজ নাগরিক গ্রেপ্তার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬০ বার
ঢাকায় আইফোন-মদ চাইনিজ গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর উত্তরা ও খিলক্ষেত এলাকায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচালিত পৃথক অভিযানে বিভিন্ন মডেলের ৩৬৩টি আইফোন, আইফোনের খুচরা যন্ত্রাংশ, বিদেশি মদ ও নগদ অর্থসহ তিন চাইনিজ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন তান জিয়ান, উ জুন ও ডং হংওয়েই। তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

ডিবি মিরপুর বিভাগের সূত্রে জানা যায়, বুধবার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানার ১৩ নম্বর সেক্টরে একটি বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে চীনা নাগরিক তান জিয়ানকে ৫৮টি আইফোনসহ গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় উদ্ধার করা হয় আইফোনের খুচরা যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য সামগ্রী। তান জিয়ানের গ্রেপ্তারের পর তদন্তকারীরা আরও একটি অভিযান পরিচালনা করে খিলক্ষেত থানার নিকুঞ্জ-১ এলাকায়। সেখানে উ জুন ও ডং হংওয়েইকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে আরও ৩০৫টি আইফোন, আইফোনের খুচরা যন্ত্রাংশ, নগদ ২৬ হাজার টাকা এবং আট বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।

ডিবি কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত চাইনিজ নাগরিকরা মূলত দামি ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোনের খুচরা যন্ত্রাংশ নানা উপায়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসে। পরে সংযুক্ত করে তারা স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করত। এই চক্রের সঙ্গে স্থানীয় কিছু অসাধু মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরও জড়িত থাকার সন্দেহ রয়েছে। তাদেরও শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ডিবি নিশ্চিত করেছে।

ডিবি মিরপুর বিভাগের টিমের নেতা জানান, এই ধরণের চক্র রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল ফোনের বাজারে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের পাশাপাশি আইফোনের প্রামাণ্য চাহিদা ও বাজারে ন্যায্য মূল্য ব্যবস্থাও প্রভাবিত হয়। এছাড়া অবৈধভাবে বিদেশি মদ বাজারজাত করার কারণে আইনশৃঙ্খলার ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি কর ফাঁকি এবং দেশীয় অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ডিবি কর্মকর্তারা আরও বলেন, অভিযানের সময় গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনের সংখ্যা, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং নগদ অর্থ পর্যালোচনা করে দেখা হয়েছে যে, চাইনিজ নাগরিকদের চক্র দীর্ঘদিন ধরে গোপনে ব্যবসা পরিচালনা করছিল। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা সরাসরি বা মাঝেমধ্যেই স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাহিদা অনুযায়ী আইফোন ও খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ করত।

ডিবি জানিয়েছে, চাইনিজ নাগরিকদের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলমান আছে এবং এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও অন্যান্য আসামিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ডিবি আশা করছে, এই অভিযান ভবিষ্যতে অবৈধ মোবাইল ফোন ব্যবসা ও বিদেশি মদ চক্রের ওপর কঠোর বার্তা দেবে এবং রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করবে।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে এ ধরনের চক্রের কার্যক্রম কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অবৈধ সহযোগিতার দিকেও নজর রাখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো আশা করছে, এই অভিযান সাধারণ জনগণকে নিরাপদ সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজধানীর বাজারে আইফোন ও অন্যান্য পণ্যের খুচরা দরের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনবে।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, আগামী দিনে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং যে কোনো ধরনের অবৈধ বাণিজ্য, বিশেষ করে বিদেশি পণ্য ও মদ নিয়ে অবৈধ লেনদেন, তা কঠোরভাবে দমন করা হবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিদেশি নাগরিক উভয়ের নিয়ন্ত্রণ ও আইনি দায়িত্ব নিশ্চিত করা হবে।

শহরের বাসিন্দারা ইতোমধ্যেই এই অভিযানের জন্য ডিবি পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেন, রাজধানীর বাজারে ভ্রান্ত তথ্য ও অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। ডিবির এই পদক্ষেপ বাজারে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখযোগ্য যে, এই অভিযান বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ডিবির সক্রিয় ভূমিকার প্রতিফলন। বিশেষ করে বিদেশি পণ্য ও মদের অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এসব অভিযান গুরুত্বপূর্ণ। ডিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আরও কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে যাতে রাজধানী ও দেশের অন্যান্য এলাকায় এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পুনরায় শুরু না হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত