রাজশাহী-রংপুরসহ দেশের বেশ কিছু জেলায় শৈত্যপ্রবাহ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৯ বার
শৈত্যপ্রবাহ রাজশাহী রংপুর জেলায়

প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগসহ বেশ কিছু জেলায় হালকা থেকে মাঝারি তাপমাত্রার কমতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সব জেলা এবং গোপালগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ফেনী, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দেশের সর্বত্র রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকলেও সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। বিশেষ করে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকার কিছু এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যান্য স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে, যা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ও যানবাহনে প্রভাব ফেলতে পারে।

ঢাকায় বৃহস্পতিবার সকালে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৮ শতাংশ। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা গতকাল টেকনাফে রেকর্ড করা হয়েছে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা শ্রীমঙ্গলে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছে। আবহাওয়ার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই শৈত্যপ্রবাহ বেশ কিছু মানুষের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে প্রবীণ ও শিশুদের শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি, হাঁপানি ও অন্যান্য শীতজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই গরম কাপড় পরিধান, গরম পানি খাওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার জন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সিনপটিক পরিস্থিতি সম্পর্কেও আবহাওয়া অধিদপ্তর একটি বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে বর্তমানে ‘গভীর নিম্নচাপ’ হিসেবে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এটি আরো পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে শ্রীলঙ্কা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এই গভীর নিম্নচাপের একটি বর্ধিত অংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। অন্যদিকে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের একটি অংশ পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থান করছে। আবহাওয়ার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবস্থা শীতপ্রবাহকে সামান্য শক্তিশালী করতে পারে এবং দেশের কিছু অঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই শীতজনিত সমস্যার সঙ্গে মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ শীতজনিত রোগ প্রতিরোধে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নিয়েছে। স্কুল-কলেজ এবং জনসাধারণের কর্মক্ষেত্রে সতর্কতা জোরদার করতে স্থানীয় প্রশাসন সচেতনতার বার্তা প্রচার করছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, দেশের পশ্চিমাঞ্চল এবং উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর রাতে তাপমাত্রা অনেক কমতে পারে। তাপমাত্রার এই অস্বাভাবিক কমতি বিশেষ করে কৃষি ও যান্ত্রিক কাজের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। শীতপ্রবাহের কারণে মাঠের কাজ এবং গবাদিপশুর যত্নে সচেতনতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

নদী অববাহিকার এলাকাগুলোতে কুয়াশার সম্ভাবনা থাকায় নিরাপত্তা বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সড়ক ও নৌপথে চলাচলে সীমিত দৃশ্যমানতার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। এই সময় পর্যাপ্ত গরম কাপড় পরিধান, হালকা খাদ্য ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানানো হয়েছে।

সংক্ষিপ্তভাবে বলা যায়, রাজশাহী, রংপুর, গোপালগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ফেনী, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়াসহ দেশের কয়েকটি জেলায় শীতপ্রবাহের প্রভাব অব্যাহত থাকবে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় প্রশাসনকে শীতজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এই শৈত্যপ্রবাহ সাময়িক হলেও বিশেষ করে রাতে ও সকাল-বিকেলের সময় তাপমাত্রার উল্লেখযোগ্য কমতি এবং কুয়াশা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com