সর্বশেষ :
গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে রুদ্ধদ্বার বৈঠকেও দূরত্ব ঘোচেনি ড্রোন অনুপ্রবেশে দোষীদের শাস্তির অঙ্গীকার দক্ষিণ কোরিয়ার ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রকে বহিষ্কারের দাবি ব্রিটিশ এমপিদের বিবাহবার্ষিকীতে ডিভোর্স পেপার, সেলিনার জীবনের কঠিন সত্য উত্তেজনার মধ্যে ইরানের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ হাদীর বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ নিয়ে স্ত্রীর প্রশ্ন ছয় মাসে এডিপি বাস্তবায়নে ধস, উন্নয়ন গতি পাঁচ বছরে সর্বনিম্ন রংপুরের ছয় আসনে ভোটের লড়াই, শক্ত অবস্থানে জামায়াত যুব বিশ্বকাপে আজ পর্দা উঠছে, শুরুতেই ভারতের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ হয়েছে, দাবি ট্রাম্পের

ক্যানসারের বৃদ্ধি বাড়ায় ‘টিএকে১’ প্রোটিনের প্রভাব

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৯ বার
ক্যানসারের বৃদ্ধি বাড়ায় ‘টিএকে১’ প্রোটিনের প্রভাব

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মানবদেহের স্বাভাবিক কার্যকলাপে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ‘টিএকে১’ নামের প্রোটিন। এটি কোষের জন্ম, বৃদ্ধি এবং ক্ষত সারানোর প্রক্রিয়ায় অবদান রাখে, তাই স্বাভাবিক অবস্থায় এর উপস্থিতি দেহের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু যখন এই প্রোটিনের ভেতরে রাসায়নিক বা কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটে, তখন এটি বিপজ্জনক রূপ ধারণ করতে পারে এবং ক্যানসারের কোষের জন্ম ও বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে। সাম্প্রতিক গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা এই প্রোটিনের বিশেষ ক্ষমতা এবং ক্যানসারের সঙ্গে এর সম্পর্ক চিহ্নিত করেছেন।

ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং অস্ট্রেলিয়ার অলিভিয়া নিউটন-জন ক্যানসার রিসার্চ ইনস্টিটিউটের যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, টিএকে১ প্রোটিন ক্যানসার কোষকে বেঁচে থাকতে সহায়তা করে এবং কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপির মতো চিকিৎসার সময়ও তাদের ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষা করে। এই প্রোটিন ক্যানসার কোষের চারপাশে শক্তিশালী ‘বর্ম’ তৈরি করে, যা ওষুধকে কোষের ভেতরে পৌঁছতে বাধা দেয়। এভাবেই ক্যানসার কোষ নিরাপদ থাকে এবং অতি দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

গবেষকরা বলছেন, টিএকে১ প্রোটিনটি যতক্ষণ না রাসায়নিকভাবে পরিবর্তিত হয়, ততক্ষণ এটি স্বাভাবিক কোষের ক্ষত সারানোর কাজেও সাহায্য করে। তবে ক্যানসার কোষের ক্ষেত্রে প্রোটিনটি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধকারী টি-কোষের কার্যকলাপেও বাধা দেয়। সাধারণভাবে, যখন ক্যানসার কোষ বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, তখন টি-কোষ ছুটে গিয়ে সেই কোষগুলোকে আক্রমণ করতে থাকে। কিন্তু টিএকে১ প্রোটিনের উপস্থিতিতে এই প্রক্রিয়ায় বাধা তৈরি হয় এবং ক্যানসার কোষকে বাঁচিয়ে রাখে।

গবেষণার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিজ্ঞানীরা এমন ওষুধ তৈরির দিকে কাজ করছেন যা টিএকে১ প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করার সঙ্গে সঙ্গে ক্যানসার কোষকেও ধ্বংস করতে সক্ষম হবে। ইঁদুরের ওপর পরীক্ষায় ইতিমধ্যেই সাফল্য পাওয়া গেছে এবং গবেষকরা আশা করছেন মানুষের শরীরে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। এটি ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন একটি বিপ্লবী পদক্ষেপ হতে পারে।

প্রোটিনটিকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ক্যানসারের বৃদ্ধিকে ধীর করা সম্ভব, ফলে চিকিৎসা আরও কার্যকর এবং রোগীর জীবনমান উন্নত করা যাবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, টিএকে১ প্রোটিন ক্যানসারের কোষকে যেন আড়াল করে রাখে, যাতে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা তাদের ধ্বংস করতে না পারে। এই প্রক্রিয়ার বোঝাপড়া ও নিয়ন্ত্রণ ক্যানসার থেরাপিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

টিএকে১ প্রোটিন কেবল কোষের বৃদ্ধি ও ক্ষত সারানোর কাজে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ক্যানসার কোষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ক্যানসারের ক্ষেত্রে প্রোটিনটি এমনভাবে কাজ করে যে, সাধারণ কোষের স্বাভাবিক কার্যকলাপেও প্রভাব ফেলে এবং টি-কোষের সঙ্গে লড়াই করে ক্যানসার কোষকে বাঁচিয়ে রাখে। এটি বিজ্ঞানীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ, প্রোটিনটি নিয়ন্ত্রণ করলে ক্যানসারের বৃদ্ধি ধীর করা সম্ভব এবং চিকিৎসা আরও ফলপ্রসূ হতে পারে।

সেল রিপোর্ট জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, নতুন ওষুধের মাধ্যমে প্রোটিন নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব এবং একই সঙ্গে ক্যানসার কোষকে ধ্বংস করা যাবে। ইঁদুরের ওপর প্রাথমিক পরীক্ষায় ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, মানুষের শরীরে পরীক্ষা সম্পন্ন হলে প্রোটিনের নিয়ন্ত্রণ ক্যানসার থেরাপিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারবে।

এই গবেষণা কেবল বিজ্ঞানীদের জন্য নয়, সাধারণ মানুষের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। টিএকে১ প্রোটিনের কার্যকারিতা ও বিপজ্জনক রূপ বোঝার মাধ্যমে ক্যানসারের চিকিৎসায় আরও উন্নত ও লক্ষ্যভিত্তিক পদ্ধতি অবলম্বন করা সম্ভব হবে। বর্তমানে চিকিৎসা পদ্ধতি যেমন কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি ব্যবহার করা হয়, তা অনেক সময় সীমিত ফলাফল দেয়। কিন্তু প্রোটিনটিকে লক্ষ্য করে তৈরি ওষুধ ক্যানসারের বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা দিতে পারে।

সাধারণভাবে বলা যায়, টিএকে১ প্রোটিন স্বাভাবিক অবস্থায় দেহের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এটি কোষের বৃদ্ধি, ক্ষত সারানো এবং দেহের স্বাভাবিক কার্যকলাপে সহায়ক। কিন্তু যেহেতু এটি ক্যানসার কোষকে বাঁচিয়ে রাখতে সক্ষম, তাই বিজ্ঞানীরা এখন প্রোটিনটিকে লক্ষ্য করে ক্যানসারের চিকিৎসার নতুন পথ তৈরি করছেন। এটি ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে এবং রোগীকে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যের জন্য নতুন আশার দিক দেখাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত