ইসরাইলে যাওয়া কথিত ইমামরা মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব করে না: আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১২ জুলাই, ২০২৫
  • ৩২ বার
ইসরাইলে যাওয়া কথিত ইমামরা মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব করে না: আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ১২ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সম্প্রতি ইউরোপের কয়েকটি দেশ থেকে আগত ১৫ জন ইমামের দখলদার ইসরাইল সফর এবং সে দেশের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘিরে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার জন্ম নিয়েছে মুসলিম বিশ্বে। এই সফরের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসলামী শিক্ষার শীর্ষস্থানীয় ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি এক স্পষ্ট ভাষার বিবৃতিতে জানায়, এসব ইমাম নিজেদের যেভাবে উপস্থাপন করছেন, তা কোনোভাবেই মুসলিম উম্মাহ বা ইসলামের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নয়।

গত সপ্তাহে ইউরোপের ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, ইতালি এবং যুক্তরাজ্য থেকে আগত একদল ইমাম ইসরাইল সফর করেন। সফরে তারা প্রেসিডেন্ট হারজগের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ইসরাইলের সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন। এই সফরের উদ্দেশ্য হিসেবে প্রতিনিধিদলটি দাবি করে, তারা ‘আন্তঃধর্মীয় সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বার্তা’ পৌঁছে দিতে গেছেন।

তবে এই বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় তাদের এক বিবৃতিতে জানায়, “ইসলাম যে ন্যায়, সত্য ও ন্যায্যতার পক্ষে, নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয়—এই কথিত ইমামরা সে মূলনীতি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্যুত। তাদের সফর শুধু নৈতিক বিচ্যুতি নয়, বরং এটি এক ধরনের বিশ্বাসঘাতকতাও বটে।” বিশ্ববিদ্যালয় আরও বলে, “এই ব্যক্তি ও ব্যক্তিবর্গ কোনোভাবেই ইসলাম, মুসলিম সমাজ কিংবা ইউরোপীয় মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব করেন না। তারা নিজেদের স্বার্থে, রাজনৈতিক সুবিধার আশায়, নিপীড়কের সঙ্গে সংলাপের নামে নির্যাতিতের রক্তকে অগ্রাহ্য করেছে।”

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২০ মাসেরও বেশি সময় ধরে ইসরাইল যেভাবে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর বর্বর হামলা, গণহত্যা এবং আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে, তা বিশ্ববাসীর চোখে স্পষ্ট। এমন পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনি জনগণের দুঃখ-কষ্টকে উপেক্ষা করে ইসরাইল সফরকে কোনোভাবেই আন্তঃধর্মীয় শান্তিপ্রচেষ্টার অংশ বলা যায় না। বরং এটি দখলদারদের বৈধতা দেওয়ার এক অসৎ প্রচেষ্টা।

ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অব ইমামস নামক একটি সংগঠনও এ বিষয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, যেসব কথিত ইমাম ইসরাইল সফর করেছেন, তারা ইউরোপের কোনো প্রভাবশালী মুসলিম সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নন এবং তাদের কাজের দায় ইউরোপীয় মুসলিম সমাজ নেয় না। সংস্থাটি জানায়, “এই তথাকথিত ইমামরা ইসরাইলি অপরাধীদের সঙ্গে যেভাবে সাক্ষাৎ করেছেন এবং মিডিয়ায় যেভাবে সেটি ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে, তা আমাদের বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ করেছে।”

এই সফরের বিষয়ে ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট কার্যালয় এক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিল, প্রেসিডেন্ট হারজগ পশ্চিম জেরুজালেমে প্রতিনিধি দলটির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাদের দাবি অনুযায়ী, সফরকারীরা মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি ও অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে এসেছেন। প্রেসিডেন্ট কার্যালয় তাদের ‘উদার এবং সহনশীল ইসলামের অনুসারী’ বলেও আখ্যায়িত করেছিল।

তবে আল আজহার এবং ইউরোপের মুসলিম সংগঠনগুলোর বিবৃতিতে স্পষ্ট যে, এই সফর ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বরং এটি ফিলিস্তিনিদের রক্তস্নাত বাস্তবতাকে অস্বীকার করার সামিল।

আল আজহারের বিবৃতিতে শেষ পর্যন্ত সতর্ক করে বলা হয়েছে, “এই বিপথগামী ব্যক্তিদের দিয়ে ইসলাম বা মুসলিম বিশ্বের ভাবমূর্তি তুলে ধরা অনৈতিক ও বিভ্রান্তিকর। আমরা ইসলামি বিশ্বের জনগণকে অনুরোধ করছি, এই ধরনের প্রতারণামূলক প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সজাগ থাকুন এবং নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখুন।”

এই ঘটনা আরও একবার তুলে ধরল, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ‘ধর্মীয় প্রতিনিধিত্ব’ নামের অপব্যবহার কতটা বিপজ্জনক হতে পারে। একই সঙ্গে এটি স্মরণ করিয়ে দেয়, ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা কখনোই নিপীড়কের সঙ্গে আপস করার অনুমতি দেয় না। সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকা এবং নিপীড়িতদের পাশে দাঁড়ানোই ইসলামের মৌলিক আদর্শ—এটি আজও যেমন সত্য, আগামীতেও তেমনি থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত