শীতে কানের ব্যথা কমাতে ঘরোয়া ৩ উপায়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১০ বার
শীতে কানের ব্যথা কমাতে ঘরোয়া ৩ উপায়

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

শীতকালে কানে ব্যথা একটি সাধারণ কিন্তু বিরক্তিকর সমস্যা। বিশেষ করে ঠান্ডা বাতাস, হঠাৎ জলমগ্ন হওয়া বা সর্দি-জ্বরের কারণে কানে ব্যথা তীব্র হয়ে ওঠে। যন্ত্রণার মাত্রা এতোটাই বাড়তে পারে যে দৈনন্দিন কাজকর্মও প্রভাবিত হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের দিক থেকে দেখা যায়, কানের ব্যথার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। প্রাথমিকভাবে ইনফেকশন বা সংক্রমণই প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয়। ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস বা কিছু ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে কানে ব্যথা হতে পারে এবং কখনো কখনো তা গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। তবে প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবন এবং ব্যথার তীব্রতায় অধিকাংশ মানুষই সাধারণত পেইন কিলারের দিকে ঝুঁকে পড়েন। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরামর্শ অনুযায়ী কথায় কথায় ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া নিরাপদ নয়। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদে এগুলো কিডনির ওপর প্রভাব ফেলে এবং শরীরের অন্যান্য অংশেও জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

এই সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য কিছু ঘরোয়া উপায় প্রয়োগ করা যেতে পারে। প্রথমে উল্লেখযোগ্য হলো ঠান্ডা ও গরম সেক ব্যবহার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কানে ব্যথা বা অস্বস্তি হলে প্রথমে ঠান্ডা সেক প্রয়োগ করলে ব্যথা কিছুটা কমতে পারে। এরপর কিছুক্ষণ পর গরম সেক প্রয়োগ করলে ওই অঞ্চলে রক্ত সঠিকভাবে প্রবাহিত হয়, যা ব্যথা হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এটি একটি সহজ, নিরাপদ এবং ঘরোয়া পদ্ধতি, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে কার্যকর হয়।

দ্বিতীয় উপায়টি কিছুটা অপ্রচলিত শোনালেও কার্যকরী প্রমাণিত। কানের চাপ কমাতে চুইংগাম চিবানো যেতে পারে। কানে ব্যথার সময় মুখে চুইংগাম চিবালে কানের ভিতরের চাপ সাময়িকভাবে কমে এবং ব্যথা কিছুটা হ্রাস পায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি প্রাকৃতিক পদ্ধতি যা কানে অস্বস্তি এবং চাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

তৃতীয় উপায়টি হলো শুয়ে থাকার সময় মাথা উপরের দিকে রাখার কৌশল। শীতকালে কানের মধ্যে তরল জমা হওয়া এবং চাপ বেড়ে যাওয়া একটি সাধারণ সমস্যা। মাথা উঁচু করে শুতে থাকলে কানের ভেতরের তরল স্বাভাবিকভাবে নেমে আসে এবং চাপ কমে। এর ফলে ব্যথাও অনেকটা হ্রাস পায়। এই তিনটি ঘরোয়া উপায় সাধারণত হালকা কানের ব্যথা কমাতে কার্যকর।

তবে সব ধরনের ব্যথা এই ঘরোয়া পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। কিছু ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে যদি ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয়, কানের শোনার ক্ষমতা কমে, মাথা ঘোরা, কান থেকে রক্ত বা পুঁজ বের হওয়া দেখা দেয়, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। কারণ কানের সমস্যার সঙ্গে মানুষের ভারসাম্য ও অন্যান্য শারীরিক কার্যক্রমও সম্পর্কিত।

শীতকালে কানের সংবেদনশীলতা বাড়ে এবং ঠান্ডা বাতাস, ধুলোবালি ও সংক্রমণ ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। তাই নিয়মিত কানের যত্ন নেওয়া জরুরি। কান পরিষ্কার রাখা, শীতকালে গরম হ্যান্ডার বা কাভার ব্যবহার করা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে সতর্ক থাকা উচিত। ঘরোয়া উপায়গুলো প্রাথমিক সমাধান হিসেবে কাজে আসে, তবে সমস্যার গুরুতরতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পেশাদার চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া অপরিহার্য।

প্রতিদিনের জীবনে কানের ব্যথা ও অস্বস্তি কমাতে এই ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো সহজ, নিরাপদ এবং কার্যকর। ঠান্ডা ও গরম সেকের মাধ্যমে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করা, চুইংগাম চিবিয়ে কানের চাপ হ্রাস করা এবং মাথা উঁচু করে শোয়া—এই তিনটি কৌশল প্রাথমিক উপশম দেয়। এর সঙ্গে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে শীতকালে কানের ব্যথা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

সর্বোপরি, কানের ব্যথা শুধুমাত্র শোনার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে না, বরং এটি দৈনন্দিন জীবন, ভারসাম্য এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহার করলেও নিজের দেহের সংকেতের প্রতি সতর্ক থাকা, প্রয়োজন হলে পেশাদার চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। শীতকালে কানের সংবেদনশীলতা ও সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতন থাকা এবং সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ও স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত