সর্বশেষ :
বরিশালে জনসভার মঞ্চে তারেক রহমান, নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বসিত অভ্যর্থনা নতুন শিক্ষা আইন প্রস্তাব, জনগণের মতামত আহ্বান ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হাইতির উপকূলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, গ্যাং সহিংসতায় উদ্বেগ বৃদ্ধি রায়পুরায় সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ স্কুলছাত্রের মৃত্যু দেশে পৌঁছেছে তিন লাখ ২৬ হাজার প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালট চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ ভোটারদের মন জয়ে সব সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি প্রার্থীদের সন্ধ্যায় নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবে জামায়াত বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বমুখী দুগ্ধজাত পণ্যের দাম রিজার্ভ জোরদারে আরও ১৭১ মিলিয়ন ডলার কিনলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

রান্নায় কতটা তেল নিরাপদ, কোন তেল ভালো—কার্ডিওলজিস্টের পরামর্শ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৩ বার
রান্নায় কতটা তেল নিরাপদ, কোন তেল ভালো—কার্ডিওলজিস্টের পরামর্শ

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দৈনন্দিন জীবনে সুস্থ থাকার অন্যতম শর্ত হলো হৃদযন্ত্র ভালো রাখা। অথচ আধুনিক জীবনযাপনে অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, ভাজাপোড়া খাবারের প্রতি ঝোঁক এবং রান্নায় অতিরিক্ত বা ভুল ধরনের তেল ব্যবহারের কারণে হৃদরোগের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। হার্ট অ্যাটাক, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা কোলেস্টেরলের মতো সমস্যায় ভুগছেন এমন মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এই বাস্তবতায় রান্নায় কোন তেল ব্যবহার করা উচিত এবং প্রতিদিন কতটা তেল খাওয়া নিরাপদ—এ প্রশ্নগুলো এখন প্রায় প্রতিটি পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আমাদের রান্নাঘরে তেল একটি অবিচ্ছেদ্য উপাদান। সবজি ভাজা, মাছ-মাংস রান্না, ফোড়ন দেওয়া কিংবা নিত্যদিনের তরকারি—সব ক্ষেত্রেই তেলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিংবা ভুল ধরনের তেল নিয়মিত গ্রহণ করলে তা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু তেল খাওয়াই নয়, কোন তেল খাচ্ছেন এবং কী পরিমাণে খাচ্ছেন—এই দুটি বিষয়ই হৃদস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের খ্যাতনামা কার্ডিওলজিস্ট ডা. গজিন্দর কুমার গোয়েল এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে প্রতিদিন তেল গ্রহণের পরিমাণ ৩ থেকে ৪ চা-চামচের বেশি হওয়া উচিত নয়। পরিমাণের হিসাবে এটি প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিলিলিটারের সমান। অনেকেই বিষয়টি অবহেলা করেন এবং রান্নার সময় চোখের আন্দাজে তেল ব্যবহার করেন, যা অজান্তেই নির্ধারিত মাত্রার অনেক বেশি হয়ে যায়। অথচ এই সামান্য অতিরিক্ত তেলই দীর্ঘমেয়াদে হৃদযন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে।

ডা. গোয়েলের হিসাব অনুযায়ী, একজন মানুষের জন্য মাসে সর্বোচ্চ ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিলিটার তেলই নিরাপদ। যদি চার সদস্যের একটি পরিবারের কথা ধরা হয়, তাহলে সেই পরিবারের জন্য মাসে মোটামুটি ২ লিটারের বেশি তেল ব্যবহার না করাই উত্তম। এর বেশি তেল নিয়মিত ব্যবহার মানেই শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়া, যা ধীরে ধীরে রক্তনালিতে ব্লক তৈরি করতে পারে।

হৃদযন্ত্রের জন্য কোন তেল ভালো—এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে কার্ডিওলজিস্টরা সাধারণত তিনটি তেলের নাম উল্লেখ করেন। এগুলো হলো সরিষার তেল, সূর্যমুখী তেল এবং জলপাই তেল। তবে আমাদের দেশের আবহাওয়া, রান্নার ধরন এবং খাদ্যাভ্যাস বিবেচনায় সরিষার তেলকে সবচেয়ে উপযোগী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

সরিষার তেলের একটি বড় সুবিধা হলো এর স্মোক পয়েন্ট তুলনামূলকভাবে বেশি। অপরিশোধিত বা কাঁচা সরিষার তেলের স্মোক পয়েন্ট প্রায় ২৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ বেশি তাপে রান্না করলেও এই তেল সহজে পুড়ে যায় না। ফলে তেলের পুষ্টিগুণ অনেকটাই অক্ষুণ্ণ থাকে। সরিষার তেলে থাকা মনো-আনস্যাচুরেটেড এবং পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী। এগুলো খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল কমাতে সাহায্য করে এবং ভালো কোলেস্টেরল এইচডিএল বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

সূর্যমুখী তেলও হৃদরোগীদের জন্য একটি ভালো বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়। এতে ভিটামিন ই-এর পরিমাণ বেশি, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। তবে সূর্যমুখী তেল দীর্ঘ সময় উচ্চ তাপে ব্যবহার করলে এর গুণগত মান কিছুটা কমে যেতে পারে। আর জলপাই তেল স্বাস্থ্যসম্মত হলেও এর স্মোক পয়েন্ট তুলনামূলক কম হওয়ায় আমাদের দেশের প্রচলিত উচ্চ তাপমাত্রার রান্নায় এটি সব সময় উপযোগী নয়। সাধারণত সালাদ বা হালকা রান্নার ক্ষেত্রে জলপাই তেল বেশি উপকারী।

বিশেষজ্ঞরা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক করেছেন, তা হলো পরিশোধিত বা রিফাইন তেল। বর্তমানে বাজারে সহজলভ্য অনেক তেলই উচ্চ তাপ ও রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিশোধিত করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় তেলের স্বাভাবিক গুণাগুণ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কিছু ক্ষতিকর উপাদান তৈরি হতে পারে। দীর্ঘদিন এসব রিফাইন তেল গ্রহণ করলে শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। এই কোলেস্টেরলই একসময় ধমনিতে চর্বি জমিয়ে হার্ট অ্যাটাক কিংবা স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে।

অতিরিক্ত তেল খাওয়ার ক্ষতিকর দিকগুলোও কম নয়। মাঝে মধ্যে ভাজাপোড়া খাবার খেলে তাতে বড় ধরনের সমস্যা না হলেও নিয়মিত অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে শরীরে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। ধমনিতে চর্বি জমা, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, স্থূলতা, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, ডায়াবেটিস এবং শেষ পর্যন্ত হৃদরোগ—সবকিছুর ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে যারা অফিসে বসে কাজ করেন এবং শারীরিক পরিশ্রম কম করেন, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তেলের প্রভাব আরও দ্রুত দেখা দেয়।

প্রতিদিন কতটা তেল নিরাপদ—এই প্রশ্নের উত্তরে বিশেষজ্ঞরা বলেন, একজন সুস্থ মানুষের জন্য প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিলিলিটার তেল যথেষ্ট। এই হিসাব অনুযায়ী সপ্তাহে প্রায় ১০৫ থেকে ১৪০ মিলিলিটার এবং মাসে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিলিটারের মধ্যে তেল ব্যবহার নিরাপদ সীমার মধ্যে পড়ে। তবে এটি গড় হিসাব; ব্যক্তির বয়স, শারীরিক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর নির্ভর করে এই পরিমাণ কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।

যারা ইতোমধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত, তাদের জন্য তেল গ্রহণের বিষয়ে আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ডা. গজিন্দর কুমার গোয়েলের মতে, হৃদরোগীদের ক্ষেত্রে মাসে ৭৫০ মিলিলিটারের বেশি তেল গ্রহণ করা উচিত নয়। তিনি আরও পরামর্শ দেন, মোট ব্যবহৃত তেলের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ সরিষার তেল এবং ২০ শতাংশ ঘি বা মাখন ব্যবহার করলে স্বাদ ও পুষ্টির মধ্যে একটি ভালো ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব। তবে ঘি বা মাখনও অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করতে হবে।

সবশেষে বিশেষজ্ঞদের অভিমত একটাই—হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে চাইলে শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর করলেই হবে না। দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে সচেতন হতে হবে। সঠিক তেল নির্বাচন এবং নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারই অল্প বয়সে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর অন্যতম কার্যকর উপায়। আজ থেকে রান্নার সময় তেলের পরিমাণে লাগাম টানুন, রিফাইন তেলের পরিবর্তে স্বাস্থ্যসম্মত তেল বেছে নিন এবং নিজের হৃদযন্ত্রকে দিন সুস্থ থাকার সুযোগ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত