প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
শীত এলেই ভ্রমণের নেশা যেন দ্বিগুণ হয়ে ওঠে। পাহাড়, সমুদ্র কিংবা গ্রামবাংলার নিরিবিলি পরিবেশ—সবখানেই এই সময় ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন অনেকেই। কর্মব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলতে ভ্রমণ নিঃসন্দেহে এক অনন্য উপায়। কিন্তু এই ঘোরাঘুরির মাঝেই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত হয় ত্বকের যত্ন। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা, ধুলোবালি, শুষ্ক আবহাওয়া, সূর্যের তেজ আর পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব—সব মিলিয়ে ভ্রমণের সময় ত্বক সহজেই প্রাণহীন ও নিষ্প্রভ হয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকের যত্ন মানেই দীর্ঘ সময় আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা নয়। বরং ভ্রমণের সময় কিছু সহজ অভ্যাস ও সঠিক পণ্য সঙ্গে রাখলেই ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ধরে রাখা সম্ভব। একটু সচেতনতা ও নিয়ম মেনে চললেই ঘুরতে গিয়েও ত্বক থাকতে পারে ঝলমলে ও সতেজ।
ভ্রমণের সময় সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ত্বক পরিষ্কার রাখার সুযোগ কমে যাওয়া। সব জায়গায় বারবার ফেসওয়াশ করা সম্ভব নয়। তাই এই সময় ফেসিয়াল ওয়াইপ হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। গাড়ি, ট্রেন কিংবা বিমানে বসেই খুব সহজে মুখ পরিষ্কার করা যায়। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার ফলে ত্বকে যে ধুলো ও তেল জমে, ফেসিয়াল ওয়াইপ তা দ্রুত দূর করে ত্বককে সতেজ রাখে। বিশেষ করে যাদের ত্বক সংবেদনশীল, তাদের জন্য অ্যালকোহল-ফ্রি ওয়াইপ ব্যবহার করাই ভালো।
শীতের ভ্রমণে ত্বকের আরেকটি বড় সমস্যা হলো শুষ্কতা। ঠান্ডা বাতাস ও কম আর্দ্রতার কারণে ত্বক দ্রুত রুক্ষ হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে ফেসিয়াল মিস্ট স্প্রে হতে পারে ত্বকের তাৎক্ষণিক বন্ধু। যেখানেই যান, ব্যাগে একটি ছোট ফেসিয়াল মিস্ট রাখলে প্রয়োজনে কয়েক স্প্রে দিলেই ত্বকে ফিরে আসে আর্দ্রতা। বিশেষ করে যারা শুষ্ক ত্বকের সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য এটি ভ্রমণের সময় প্রায় অপরিহার্য।
সারাদিন ঘোরাঘুরির পর রাতে ত্বক পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি। বাইরে থাকলে ত্বকে ধুলো, দূষণ ও ঘাম জমে, যা যদি ঠিকভাবে পরিষ্কার না করা হয়, তাহলে ব্রণ ও নানা ধরনের ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ভ্রমণের ব্যাগে অবশ্যই একটি হালকা ফেসিয়াল ক্লিনজার রাখা উচিত। ঘুমানোর আগে অল্প পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ক্লিনজার ব্যবহার করলেই ত্বক দিনের সব ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলতে পারে।
শীতের ভ্রমণে ময়শ্চারাইজারের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। ঠান্ডা ও শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বক দ্রুত তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারায়। নিয়মিত ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বক নরম ও মসৃণ থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভ্রমণের সময় এমন ময়শ্চারাইজার বেছে নেওয়া ভালো, যা হালকা হলেও দীর্ঘক্ষণ ত্বক আর্দ্র রাখতে সক্ষম। দিনে একাধিকবার অল্প অল্প করে ব্যবহার করলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় থাকে।
অনেকে মনে করেন, শীতকালে সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব কম থাকে, তাই সানস্ক্রিনের প্রয়োজন নেই। এই ধারণা একেবারেই ভুল। শীতকালেও সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। পাহাড় বা সমুদ্র এলাকায় ঘুরতে গেলে সূর্যের প্রতিফলন আরও বেশি হয়, যা ত্বকের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়। তাই বাইরে বের হওয়ার আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি। প্রয়োজনে কয়েক ঘণ্টা পরপর পুনরায় লাগানো উচিত।
ভ্রমণের সময় আরেকটি সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মুখে হাত দেওয়া এড়িয়ে চলা। বাইরে থাকলে হাতের মাধ্যমে নানা ধরনের জীবাণু ও ধুলো সহজেই মুখে চলে আসে। এর ফলে ব্রণ, র্যাশ কিংবা ত্বকে জ্বালাপোড়া দেখা দিতে পারে। তাই অপ্রয়োজনে মুখে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকা ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
ত্বকের যত্নের পাশাপাশি ভেতর থেকে সুস্থ থাকাও জরুরি। ভ্রমণের সময় অনেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করতে ভুলে যান। কিন্তু পানিশূন্যতা ত্বকের শুষ্কতা ও নিষ্প্রভতার অন্যতম কারণ। তাই যত ব্যস্ততাই থাকুক, পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস বজায় রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি ফল ও হালকা খাবার ত্বকের জন্য উপকারী ভূমিকা রাখে।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভ্রমণের সময় ত্বকের যত্নকে জটিল না করে বরং সহজ রাখাই সবচেয়ে ভালো পন্থা। অল্প কিছু প্রয়োজনীয় পণ্য সঙ্গে রাখা এবং নিয়মিত ব্যবহার করলেই ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য বজায় রাখা সম্ভব। ত্বক ভালো থাকলে ভ্রমণের আনন্দও দ্বিগুণ হয়ে ওঠে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ঘোরাঘুরি মানেই ত্বকের প্রতি অবহেলা নয়। একটু সচেতনতা, সঠিক যত্ন আর নিয়ম মেনে চললেই ভ্রমণের প্রতিটি মুহূর্তে ত্বক থাকবে উজ্জ্বল, সতেজ ও প্রাণবন্ত। শীতের এই ভ্রমণ মৌসুমে তাই ব্যাগ গোছানোর সময় পোশাকের পাশাপাশি ত্বকের যত্নের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোও জায়গা করে দিন।