প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি টার্মিনালকে বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত এবং শ্রমিকদের গণবদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল আটটা থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছে। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বানে এই কর্মসূচিতে বন্দরের সব স্তরের কর্মচারীরা অংশ নিচ্ছেন।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর জানান, সরকার ইজারা প্রক্রিয়া থেকে সরে না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। বন্দরের কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন এবং তাদের দাবিতে অনড় রয়েছেন। এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন।
বন্দরের কর্মবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে চার নম্বর গেটসহ অন্যান্য প্রবেশপথে ট্রাক-লরি প্রবেশ বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে বন্দরের বাইরে অবস্থান নেন। বদলি করা কর্মচারীরাও কর্মস্থলে উপস্থিত হননি। এর আগে শনিবার থেকে তিন দিন ধরে প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে টানা অবরোধ পালন করা হয়েছিল। এই আন্দোলনে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল অংশগ্রহণ করেছে। আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এই দুটি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত বন্দর রক্ষা পরিষদ।
চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির হৃৎপিন্ড হিসেবে পরিচিত। তবে টানা অবরোধের কারণে আমদানি পণ্যের ডেলিভারি, কনটেইনার হ্যান্ডলিং এবং বন্দরের ভিতরের পণ্যবাহী যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বন্দরের সব কার্যক্রমে স্থবিরতা বিরাজ করছে। বিদেশি জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য খালাসের কাজ এখনও সীমিত পরিসরে চলছে, তবে তা পুরো কার্যক্রমকে সামলাতে সক্ষম নয়।
সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে শতাধিক জাহাজ পানিতে ভাসছে। এসব জাহাজে রয়েছে আসন্ন রমজানের ভোগ্যপণ্য। যদি অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে রমজানে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের বাজারে সরবরাহ কমে যাবে এবং সাধারণ ভোক্তাদের খরচ বাড়বে।
বন্দর রক্ষা পরিষদ জানিয়েছে, অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হওয়ার আগে গত মঙ্গলবারও ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি ছিল। আন্দোলনে জড়িত অন্তত ১৬ জন কর্মচারীকে প্রথমে ঢাকার পানগাঁও আইসিটি ও কমলাপুর আইসিডি, পরে মংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়েছে। তবে তারা কর্মস্থলে যোগ দেননি।
শ্রমিক নেতা ও আমদানি-রপ্তানিকারকরা অভিযোগ করেছেন, বন্দরের এই অচলাবস্থার জন্য সরকার ও বন্দর কর্তৃপক্ষ দায়ী। তারা এ বিষয়ে এখনও কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার পরিকল্পনা দেশের স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে তাদের দাবি।
নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার এম সাখাওয়াত হোসাইন বলেন, “রমজানের আগে শ্রমিকদের এই আন্দোলন সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। এটি পরিকল্পিত কিনা খতিয়ে দেখা হবে, কারণ রমজানে পণ্যের দাম বাড়তে পারে।”
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বন্দরের এই স্থবিরতা দেশে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে প্রভাবিত করবে, ফলে সরবরাহ শৃঙ্খলাতে বাধা সৃষ্টি হবে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি থাকবে। তদুপরি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি লগ্নিকারীরা এ পরিস্থিতিকে গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছেন।
এই কর্মবিরতি পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দেশের অর্থনীতি, ভোক্তা ও ব্যবসায়ী উভয় পক্ষই প্রভাবিত হবেন। নগর ও বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক করার জন্য দ্রুত আলোচনার প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।