প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রেক্ষাপটে প্রবাসী ভোটারদের পোস্টাল ব্যালট দেশে পৌঁছানো শুরু হয়েছে। ইসির আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন (ওসিভি-এসডিআই) প্রকল্পের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সালীম আহমাদ খান জানিয়েছেন, বুধবার পর্যন্ত মোট ৩ লাখ ২৬ হাজার ২০টি পোস্টাল ব্যালট দেশে পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধিত ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২ জন প্রবাসী ভোটারের ঠিকানায় পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৯ প্রবাসী ভোটার ব্যালট গ্রহণ করেছেন এবং ৪ লাখ ৭২ হাজার ৪১০ ভোট প্রদান সম্পন্ন করেছেন। প্রবাসী ভোটারদের মধ্যে ৪ লাখ ৩১ হাজার ৭৪৮টি পূরণকৃত ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাকবাক্সে জমা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই দেশে পৌঁছেছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ২০টি ব্যালট। এছাড়া ৪১ হাজার ১৭৮টি ব্যালট সরাসরি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
দেশের অভ্যন্তরীণ পোস্টাল ভোটেও গত কয়েক দিনে ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে। সকাল পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে ভোটারদের কাছে ৬ লাখ ৬২ হাজার ১৯১টি পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৭০ হাজার ৯৮৯ জন ভোটার ব্যালট গ্রহণ করেছেন এবং ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৯১ জন ভোট প্রদান করেছেন। এছাড়া পোস্ট অফিস বা ডাকবাক্সের মাধ্যমে ১ লাখ ৪ হাজার ১৬৫টি ব্যালট জমা পড়েছে। এসব তথ্য ইসির পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে।
প্রকাশিত তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে, প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ এবারের নির্বাচনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। দেশের বাইরে থাকা নাগরিকরা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সেই ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন নিরন্তরভাবে কাজ করছে। প্রবাসীদের অংশগ্রহণ ভোটের প্রকৃত চিত্র ও ফলাফলের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একযোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত থাকলেও দেশের অন্যান্য আসনে ভোটগ্রহণ যথাসময়ে সম্পন্ন হবে।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রবাসীদের বিপুল অংশগ্রহণ এবারের নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করবে। দেশের বাইরের নাগরিকরা যে মাত্রায় ভোটে অংশ নিচ্ছেন, তা অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায়ও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে প্রবাসী ভোটারদের সরাসরি অংশগ্রহণ রাজনৈতিক দলগুলোকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে।
প্রবাসীদের পোস্টাল ভোটের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ইসি, ডাক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রদপ্তর সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ভোটারদের নিরাপদ ও সময়মতো ব্যালট গ্রহণ ও প্রেরণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুধু প্রবাসী ভোটাররাই নয়, অভ্যন্তরীণ পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভোটাররাও নিরাপদে ভোট দিতে পারছেন। ইতিমধ্যে অভ্যন্তরীণ পোস্টাল ভোটে অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য এবং এটি স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণমূলকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, প্রবাসী ভোটারদের পোস্টাল ব্যালট দেশে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের সচেতনতা এবং অংশগ্রহণের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং ভোটের ফলাফলের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।