সর্বশেষ :
আজ সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৃষি-উড়োজাহাজ চুক্তি স্বাক্ষর শিশুদের আসক্তি তৈরির অভিযোগে মেটা-ইউটিউবের বিরুদ্ধে মামলা জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার এক বছরে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির পথে মালয়েশিয়ার অর্থনীতি ঢাকা–১১ আসনে পোস্টার নয়, মানুষের মন জয়ের লড়াই বগুড়ায় বিএনপির ‘দুর্গে’ চ্যালেঞ্জ, তিন আসনে জামায়াতের কড়া লড়াই ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ১২ হাজার ৩৮৫ এপস্টিনের কোটি কোটি ডলারের সম্পদের উত্তরাধিকারী কারা রাজধানীর আসনে নারী প্রার্থীদের ইশতেহারে নাগরিক সংকটের অঙ্গীকার

আদর্শ স্ক্রিন টাইম জানলে সুরক্ষিত থাকবে চোখ ও শরীর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১১ বার
আদর্শ স্ক্রিন টাইম জানলে সুরক্ষিত থাকবে চোখ ও শরীর

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ডিজিটাল প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে যেমন সহজ করেছে, তেমনি নীরবে বাড়িয়ে তুলেছে কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি। পড়াশোনা, অফিসের কাজ, বিনোদন কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগ—সবকিছুতেই এখন স্ক্রিনের উপস্থিতি অবধারিত। মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট কিংবা টেলিভিশন—প্রায় সারাক্ষণই আমরা কোনো না কোনো স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকি। কিন্তু প্রয়োজনের বাইরে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম ধীরে ধীরে চোখ, শরীর ও মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অনেকেই বিষয়টি গুরুত্ব দেন না, অথচ সময়মতো সচেতন না হলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মারাত্মক হতে পারে। তাই নিজের ও পরিবারের সবার জন্য আদর্শ স্ক্রিন টাইম সম্পর্কে জানা এখন সময়ের দাবি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে দিনে দুই থেকে চার ঘণ্টা স্ক্রিন টাইম তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ধরা হয়। এই সময়ের মধ্যেই কাজ ও বিনোদন মিলিয়ে স্ক্রিন ব্যবহার সীমাবদ্ধ রাখা সবচেয়ে ভালো। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা যাবে না। আধা ঘণ্টার বেশি একটানা স্ক্রিন ব্যবহারে চোখে চাপ পড়ে এবং মনোযোগ কমতে শুরু করে। তাই কাজের ফাঁকে ফাঁকে বিরতি নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে রাতের বেলায় এবং ঘুমানোর ঠিক আগে স্ক্রিন ব্যবহার একেবারেই পরিহার করা উচিত। অন্ধকারে শুয়ে মোবাইল দেখা চোখের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর অভ্যাসগুলোর একটি।

যারা দিনে চার থেকে ছয় ঘণ্টা স্ক্রিন ব্যবহার করেন, তারা মূলত বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছেন বলে মনে করা হয়। এই পর্যায়ে চোখে শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া ও হালকা ঝাপসা দেখার সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকার কারণে ঘাড়, কাঁধ ও পিঠে ব্যথা শুরু হয়। ধীরে ধীরে মনোযোগ কমে যাওয়া এবং ঘুমের ছন্দ নষ্ট হওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। অনেকেই এই লক্ষণগুলোকে সাধারণ ক্লান্তি ভেবে উপেক্ষা করেন, কিন্তু এগুলো আসলে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমেরই সতর্ক সংকেত।

দিনে ছয় থেকে আট ঘণ্টা বা তার বেশি সময় স্ক্রিনে কাটানোকে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টভাবে ক্ষতিকর মাত্রা হিসেবে উল্লেখ করেন। এই অবস্থায় চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট হয়ে যায়, ফলে চোখ ভীষণ শুষ্ক ও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে স্থায়ী ঝাপসা দেখা, মাথাব্যথা ও চোখে তীব্র জ্বালাপোড়া তৈরি হতে পারে। শুধু চোখই নয়, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও বড় প্রভাব ফেলে। উদ্বেগ, বিরক্তি, অস্থিরতা ও ঘুমের সমস্যা এই পর্যায়ের সাধারণ লক্ষণ। শারীরিক চলাফেরা কমে যাওয়ায় ওজন বেড়ে যেতে পারে এবং শরীর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।

শিশুদের ক্ষেত্রে স্ক্রিন টাইম আরও বেশি সংবেদনশীল বিষয়। দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য স্ক্রিন বা গ্যাজেট না দেওয়াই সবচেয়ে ভালো বলে মনে করেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা। এই বয়সে শিশুদের মস্তিষ্ক দ্রুত বিকশিত হয় এবং বাস্তব পরিবেশের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়াই তাদের শেখার প্রধান মাধ্যম হওয়া উচিত। দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্য দিনে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা স্ক্রিন টাইম যথেষ্ট। ছয় থেকে বারো বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে পড়াশোনার বাইরে এক থেকে দুই ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন ব্যবহার না করাই আদর্শ। শিশুদের হাতে অল্প বয়সেই গ্যাজেট তুলে দিলে তাদের মনোযোগ, ভাষা বিকাশ ও সামাজিক দক্ষতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের সবচেয়ে বড় আঘাত পড়ে চোখের ওপর। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের পলক ফেলার হার কমে যায়, ফলে চোখের ভেতরের তরল শুকিয়ে যেতে শুরু করে। এর ফল হিসেবে ঝাপসা দেখা, চোখে জ্বালাপোড়া ও মাথাব্যথা দেখা দেয়। একই সঙ্গে একটানা বসে থাকার কারণে ঘাড়, কাঁধ ও পিঠে ব্যথা তৈরি হয়। নিয়মিত শারীরিক চলাফেরা না থাকায় ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিও বাড়তে থাকে।

মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও স্ক্রিন টাইমের প্রভাব কম নয়। অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার অনেকের মধ্যে তুলনামূলক মানসিক চাপ, হতাশা ও আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি করে। রাতে ঘুমানোর আগে স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে মস্তিষ্ক বিশ্রামের সংকেত পায় না। স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ ব্যাহত করে, যার ফলে ঘুমের মান নষ্ট হয় এবং সকালে ঘুম থেকে উঠে ক্লান্তি অনুভূত হয়।

চোখ ও শরীর সুরক্ষিত রাখতে কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললেই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত হলো ২০–২০–২০ নিয়ম। প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিনের দিকে তাকানোর পর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনো কিছুর দিকে তাকালে চোখের ওপর চাপ অনেকটা কমে। পাশাপাশি ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের গ্যাজেট থেকে দূরে থাকা উচিত। বিছানায় শুয়ে মোবাইল ব্যবহার করার অভ্যাস যত দ্রুত সম্ভব ত্যাগ করা প্রয়োজন।

স্ক্রিন ও চোখের সঠিক দূরত্ব বজায় রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে চোখ ও স্ক্রিনের দূরত্ব ৩০ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার, ট্যাবের ক্ষেত্রে ৪০ থেকে ৫০ সেন্টিমিটার এবং ল্যাপটপের ক্ষেত্রে ৫০ থেকে ৭০ সেন্টিমিটার হওয়া উচিত। টেলিভিশন দেখার সময় টিভির দৈর্ঘ্যের তিন থেকে পাঁচ গুণ দূরত্ব বজায় রেখে বসা ভালো এবং চোখ ও টেলিভিশনের স্ক্রিন একই লেভেলে রাখা জরুরি। অন্ধকারে বা খুব কাছ থেকে স্ক্রিন দেখলে ক্ষতির মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে না থাকা। মাঝেমধ্যে চেয়ার থেকে উঠে হাঁটা, হালকা স্ট্রেচিং করা কিংবা জানালার বাইরে সবুজের দিকে তাকানো চোখ ও মন—দুটোর জন্যই উপকারী। কাজের টেবিলে একটি ছোট গাছ রাখলেও চোখ কিছুটা আরাম পায়। কোনোভাবেই একটানা ৩০ মিনিটের বেশি স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা উচিত নয়—এই একটি অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে চোখ ও শরীরকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।

ডিজিটাল যুগে স্ক্রিন এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়, তবে সচেতন ব্যবহারই হতে পারে সুস্থ থাকার চাবিকাঠি। নিজের দৈনিক স্ক্রিন টাইম হিসাব করে আদর্শ সীমার মধ্যে রাখার চেষ্টা করলে চোখ, শরীর ও মন—সবই থাকবে অনেক বেশি সুরক্ষিত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত