প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সৌদি প্রো লিগের অন্যতম বড় তারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো অবশেষে আল-নাসরের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। পর্তুগিজ মহাতারকা আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি আল-ফাতেহর বিপক্ষে মাঠে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই খবরটি নিশ্চিত করেছে ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন। ৪১ বছর বয়সী রোনালদো এরই মধ্যে আল-নাসরের দুটি ম্যাচ বয়কট করেছেন। তবে তার অনুপস্থিতিতেও আল নাসর আল ইত্তিহাদ ও আল রিয়াদের বিরুদ্ধে জয় অর্জন করেছে।
রোনালদোর এই বয়কটের পেছনে মূল কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড বা পিআইএফ-এর সঙ্গে তার অসন্তোষ। বিশেষ করে ট্রান্সফার উইন্ডোর সময় আল নাসরের প্রত্যাশিত সহায়তা না পাওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। এছাড়া পিআইএফ-সমর্থিত আরেক ক্লাব আল-হিলাল জানুয়ারিতে আল-ইত্তিহাদ থেকে করিম বেনজেমাকে দলে ভেড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে রোনালদোর অসন্তোষ আরও বাড়ে। রোনালদো এই দলবদলকে তার ক্লাবের প্রতি বৈষম্য হিসেবে দেখেছেন, কারণ তিনি মনে করেছিলেন যে আল-নাসরও এমন গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন পেতে পারার যোগ্য।
ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, রোনালদোর এই সিদ্ধান্ত শুধু মাঠে তার উপস্থিতি নয়, বরং ক্লাবের ব্যবস্থাপনাগত স্থিতিশীলতাকেও প্রভাবিত করেছে। পিআইএফ রোনালদোর প্রধান দাবিগুলো মেনে নেওয়ার পর তিনি মাঠে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল আল নাসরের বকেয়া বেতন পরিশোধ, এবং ক্লাবের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পূর্বের মতো স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া। এর ফলে স্পোর্টিং ডিরেক্টর সিমাও কুতিনহো ও সিইও হোসে সেমেদো আবার নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারছেন।
এবার রোনালদো মাঠে ফিরে আসার সাথে সাথে আল-নাসরের খেলার মান ও দলগত সামর্থ্যও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত আল নাসরের হয়ে ২২ ম্যাচ খেলে ১৮ গোল এবং তিনটি অ্যাসিস্ট করেছেন রোনালদো। তার এই অবদান দলকে সৌদি প্রো লিগে দ্বিতীয় স্থানে রাখছে। শীর্ষে থাকা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আল-হিলালের সঙ্গে তারা মাত্র এক পয়েন্ট দূরে।
ক্লাব এবং খেলোয়াড় উভয়ের জন্য এই পুনর্মিলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোনালদোর অনুপস্থিতিতে দল জয়ী হওয়ার সক্ষমতা দেখিয়েছে, কিন্তু তার উপস্থিতি দলকে আরও শক্তিশালী এবং আক্রমণাত্মক করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রোনালদোর মাঠে ফেরার ফলে আল-নাসরের দলবদ্ধ খেলার মানও উন্নত হবে, এবং প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের ওপর চাপ বাড়বে।
রোনালদোর এই সিদ্ধান্ত কেবল খেলার ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং ক্লাবের ভেতরের প্রশাসনিক স্থিতিশীলতাকেও নিশ্চিত করেছে। রোনালদোর অসন্তোষের মূল কারণ হিসেবে যেসব বিষয় সামনে এসেছে, তা দূর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্লাবের ব্যবস্থাপনা পুনরায় শক্তিশালী হয়েছে। এটি খেলোয়াড় এবং ক্লাব প্রশাসনের মধ্যে সুস্থ সম্পর্ক ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে।
ফুটবল অনুরাগীদের জন্যও এটি বিশেষ একটি সংবাদ। রোনালদোর প্রতিভা এবং মাঠের প্রভাব সৌদি প্রো লিগের খেলাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। তার প্রতিটি গোল, অ্যাসিস্ট এবং খেলার কৌশল নেটিজেনদের মধ্যে উত্তেজনা ও আলোড়ন সৃষ্টি করে। রোনালদো মাঠে ফেরার ফলে দর্শকরা আরও উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের প্রত্যাশা করছেন।
পর্তুগিজ মহাতারকার এই বয়কট প্রত্যাহারের ঘটনা দেখাচ্ছে যে, খেলোয়াড়ের অধিকার, সম্মান এবং ক্লাবের সমর্থন খেলোয়াড়দের মনোবল এবং পারফরম্যান্সে কতটা প্রভাব ফেলে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়, ফুটবল শুধুমাত্র খেলা নয়, বরং খেলোয়াড় এবং ক্লাব ব্যবস্থাপনার মধ্যে সম্পর্কের প্রতিফলনও।
এবার রোনালদো মাঠে ফেরার পর ম্যাচটি কেবল আল-ফাতেহের বিপক্ষে নয়, বরং লিগের সমস্ত দল ও ভক্তদের জন্য নজরকাড়া একটি মুহূর্ত হিসেবে ধরা হচ্ছে। তার ফেরার ফলে আল-নাসরের লক্ষ্য, সৌদি প্রো লিগের শীর্ষে ওঠার যাত্রা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।