প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি উভয় দেশের রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের রপ্তানিকারকরা অভূতপূর্ব সুবিধা পাবেন। চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প ও কৃষিপণ্যের জন্য উল্লেখযোগ্য অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা প্রদান করবে। এতে রাসায়নিক দ্রব্য, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, যন্ত্র, মোটরযান ও যন্ত্রাংশ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সরঞ্জাম, জ্বালানি, সয়াজাত ও দুগ্ধজাত পণ্য, গরুর মাংস, হাঁস-মুরগি, বাদাম এবং বিভিন্ন ফল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে উৎপন্ন পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্কহার কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানি করা হলে পাল্টা শুল্ক আরোপ হবে না। তবে এটি নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কতটা সুতা ও কৃত্রিম তন্তু আমদানি করা হচ্ছে তার ওপর। চুক্তি স্বাক্ষরের প্রেক্ষাপটে দুই দেশ উভয়ের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা এবং ২০১৩ সালের ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ফোরাম অ্যাগ্রিমেন্টের (টিকফা) প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছে।
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বিদ্যমান অশুল্ক বাধা কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল মোটরযান নিরাপত্তা ও নির্গমন মানদণ্ড অনুযায়ী নির্মিত যানবাহন গ্রহণ করবে। চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও ওষুধের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) সনদের স্বীকৃতি দেবে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে পুনর্নির্মিত পণ্য ও যন্ত্রাংশের ওপর বিদ্যমান আমদানি নিষেধাজ্ঞা বা লাইসেন্স শর্তও তুলে নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
ডিজিটাল বাণিজ্য ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ। তথ্যের অবাধ আদান-প্রদানের অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) ইলেকট্রনিক আদান-প্রদানে শুল্ক আরোপে স্থায়ী স্থগিতাদেশ সমর্থন করবে। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও কৃষিপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বিজ্ঞানভিত্তিক ও ঝুঁকিনির্ভর প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। বিমা খাতে বিদ্যমান বাধা দূর করা, শুল্ক প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় উৎকৃষ্ট রীতিনীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের অঙ্গীকারও করেছে বাংলাদেশ।
শ্রম অধিকার সুরক্ষায়ও বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করা হবে এবং শ্রমিকদের সংগঠন ও যৌথ দর–কষাকষির অধিকার নিশ্চিত করতে শ্রম আইন সংশোধন ও কঠোর প্রয়োগ করা হবে। পরিবেশ সুরক্ষায় কঠোর মানদণ্ড বজায় রাখা, পরিবেশ আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা এবং শুল্ক ও বাণিজ্য ব্যবস্থা সহজীকরণে উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড গ্রহণ ও কার্যকর বাস্তবায়ন, ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী বিধান এবং যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাও চুক্তিতে উল্লেখ আছে। অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা সমন্বয় জোরদার করতে শুল্ক ফাঁকি প্রতিরোধ, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত তথ্য বিনিময়সহ উদ্ভাবনমূলক সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
চুক্তি কার্যকর হওয়ার আগে উভয় দেশ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে। বাংলাদেশ কার্যকর দুর্নীতিবিরোধী আইন জোরদার ও প্রয়োগ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী এক্সিম ব্যাংক ও ডিএফসির মাধ্যমে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা বিবেচনা করবে এবং বেসরকারি খাতের অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা করবে।
কৃষি, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে সাম্প্রতিক এবং আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সমঝোতার কথা যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ আগামী ১৫ বছরে প্রায় ৩৫০ কোটি ডলারের মার্কিন কৃষিপণ্য এবং প্রায় ১,৫০০ কোটি ডলারের জ্বালানি পণ্য কেনার পরিকল্পনা নিয়েছে। চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুসংহত হবে এবং রপ্তানি ও আমদানিতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।