জামায়াত আমির ৭০০০ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে ৪৩ জেলায় ব্যাপক জনসভা সম্পন্ন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৮ বার
জামায়াত আমির ৭০০০ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে ৪৩ জেলায় ব্যাপক জনসভা সম্পন্ন

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের চলন্ত নির্বাচনী ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলোর গণসংযোগ কর্মসূচি প্রতিবার বিভিন্ন রূপে লক্ষ্য হলেও এবার জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান যে ভৌগোলিক এবং কর্মক্ষমতার দিক দিয়ে সর্বাপেক্ষা ব্যাপক নির্বাচনি সফর সম্পন্ন করেছেন তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যেও আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। মাত্র পনেরো দিনের মধ্যে ঢাকার বাইরে দেশের আটটি বিভাগে ভ্রমণ করে ৪৩টি জেলায় সোশ্যাল, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে তিনি পথসভা ও জনসভায় অংশগ্রহণ করেছেন। এই সফর ২৩ জানুয়ারি পঞ্চগড় থেকে শুরু হয়ে ৭ ফেব্রুয়ারি সিলেটের জনসভা দিয়ে শেষ হয়।

দেশব্যাপী এই নির্বাচন পর্বে জামায়াত আমির যে কর্মদক্ষতা দেখিয়েছেন তা সহজভাবে নেবে না রাজনৈতিক মহল। ঢাকা-১৫ আসন থেকে নিজের নির্বাচনি এলাকায় নিয়মিত গণসংযোগ ও জনসভায় অংশ নিয়ে তিনি শুধু নিজের প্রচারেই ব্যস্ত ছিলেন না, বরং ১১-দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের পক্ষে এবং ঐক্যের শরিকদের সমর্থনে ভোটারদের মনোযোগী করার পক্ষে গুরুত্বপুর্ণ বক্তব্য প্রদান করেছেন। সময়কে সর্বোচ্চ কাজে লাগানোর তাগিদে শফিকুর রহমান সফরকালের অধিকাংশ পথ হেলিকপ্টার ব্যবহার করে এবং বাকি অংশ সড়ক পথে পাড়ি দিয়ে কাটিয়েছেন; যার পরিমাণ প্রায় সাত হাজার কিলোমিটারেরও বেশি বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

শফিকুর রহমানের নির্বাচনি সফর শুধু দূরত্ব বা কর্মপরিধির জন্যই নজর কাড়েনি, একই সঙ্গে তার ৬৭ বছর বয়সেও কল-কারখানার মতো নিরন্তর কর্মতৎপরতা ও জনমানুষের সামনে থাকার এ অভিজ্ঞতা অনেককে অনুপ্রাণিত করেছে। বিশেষ করে হার্টের বড় ধরনের চিকিৎসা ও অপারেশনের মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই এতোদিন ধরে নির্বাচনী ভ্রমণ ও জনসংযোগ চালিয়ে নীরসভাবে ক্লান্ত হয়েই থেমে না যাওয়ার বিষয়টি ভোটারদের মধ্যে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে।

জামায়াত ও ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষে সংগঠিত এসব জনসভা ও পথসভায় দলের অনুসারী-কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় ভোটারদের প্রতিক্রিয়া ছিল উজ্জীবিত ও উৎসাহী। অনেকে গোটা কর্মসূচিকে একটি ঐতিহাসিক পর্যায়ের বলে অভিহিত করেছেন। জনসভাগুলোতে তিনি বারবার দেশের চলমান রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ, আশা ও পরিবর্তনের কথাই তুলে ধরেছেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের গুরুত্ব নিয়ে জামায়াত আমির বলেছেন, “এই নির্বাচন হচ্ছে দেশের পরিবর্তনের এক ভারসাম্যপূর্ণ ও সময়োপযোগী সুযোগ। জনগণ যদি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ও উন্নয়নমুখী পথের নির্বাচন করে, তাহলে এর ফলিত সুফল আগামী প্রজন্মের জন্য যুগান্তকারী হতে পারে।” তিনি আরো বলেন, “এবারের নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষে ভোট দিয়ে জনগণ একটি সৎ, যোগ্য ও দিকনির্দেশনামূলক সরকারের পথ প্রশস্ত করবে।”

সফরকালে বিভিন্ন জনসভায় তিনি জামায়াত ও এর শরিকদের জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতিরও কথা বলেছেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তরুণ ও যুবকদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী উদ্যোগে এগিয়ে আসা, গ্রামীণ ও শহুরে উন্নয়ন সমানভাবে তোলে ধরা—এসবই তার বক্তৃতার মূল আকর্ষণ ছিল। তিনি এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের দারিদ্র্য বিমোচন ও এক দেশের সমৃদ্ধ উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তাব তুলে ধরেন।

সফরকালে বিভিন্ন স্থানে প্রচার কাজের সময় জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর বিএনপির হামলার অভিযোগও করেন তিনি। তিনি বলেন, “যারা সামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নের পরিবর্তে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখায় এবং নারীদের ওপর হামলা চালায়, তাদের হাতে দেশের নারীসমাজ নিরাপদ থাকতে পারে না।” এসব হামলার ঘটনাকে তিনি বাস্তবতায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেন এবং নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার তাগিদ দেন।

এর পাশাপাশি বিএনপি ও কিছু গণমাধ্যমে জামায়াত আমিরের কিছু বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ তুলেছেন শফিকুর রহমান ও ১১-দলীয় শরিকরা। বিশেষ করে জামায়াত আমিরের বক্তব্যকে নিয়েই এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের সম্পর্কে ভুল ব্যাখ্যা প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে। বিএনপি নেতৃবৃন্দও এক পর্যায়ে দাবি করেন যে জামায়াত আমির কর্নেল অলিকে “স্বাধীনতার ঘোষক” বলে ইতিহাস বিকৃত করেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমটি পরে প্রকাশিত ভুলের জন্য দুঃখপ্রকাশ করে এবং ভুল তথ্য তুলে ধরার ক্ষমা চেয়ে নেয়।

এই নির্বাচনি সফরকে দলীয় স্তর থেকে অত্যন্ত সফল বলে দাবী করা হয়েছে। জামায়াতের সহযোগী ও ১১-দলীয় ঐক্যের শরিক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-র সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান একটি দেশের অনলাইনকে জানান, “ডা. শফিকুর রহমানের সফর ছিল একেবারেই চমৎকার। এই বয়সে তিনি যেন একজন যুবকের মতো সারাদেশ ঘুরে বেড়িয়েছেন। আমি অনেক সময় ক্লান্ত হয়ে পড়লেও তিনি ছিলেন অক্লান্ত। তার প্রতিটি জনসভায় ‘গণজোয়ার’ দেখা গেছে। সবাই তাকে আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাচ্ছেন।”

রাজনীতিবিদদের ভাষ্য, এই সফর শুধু নির্বাচনী প্রচারণা হিসাবে সীমাবদ্ধ হয়নি বরং একটি ব্যাপক সামাজিক বার্তা বহন করেছে। ভোটারদের সাথে সরাসরি সংযোগ,基层 জনগণের মনোবেদনার প্রতিফলন, উন্নয়ন, নিরাপত্তা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নারীর মর্যাদা—এসব ইস্যু নির্বাচনী বার্তায় তিনি বারবার তুলে ধরেছেন।

সমগ্র সফরকালে সারা দেশে প্রচারিত তার বক্তব্য ও জনসভা-পথসভাগুলো গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক প্ল্যাটফর্মে শেয়ার হওয়া ভিডিও, বক্তব্য ও বিশ্লেষণগুলোতে নির্বাচনী মনস্তাত্ত্বিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে জনগণের মতামত প্রকাশ পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরণের ব্যাপক জনসংযোগ রাজনৈতিক দলের পক্ষে ভোটারদের সাথে যোগাযোগের একটি কার্যকর মাধ্যম।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত