প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, নতুন রাষ্ট্র গড়ার প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের অন্তর্ভুক্তি সম্ভব নয়। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ইস্কাটনে কমনওয়েলথ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সভা শেষে ড. আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের জানান, কমনওয়েলথ প্রতিনিধি দল নির্বাচনের পরিবেশ এবং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। তিনি তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে বহু বছর পর বাংলাদেশের জনগণ সত্যিকারের নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পাবে। এই প্রক্রিয়ায় জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হবে এবং দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নতুন দিকনির্দেশনা আসবে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, আওয়ামী লীগ এই পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহ দেখায়নি। তাদের কেউই অনুশোচনামূলক বা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমর্থনকারী বক্তব্য দেয়নি। ফলে নতুন রাষ্ট্র গঠন এবং সংস্কার প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের অন্তর্ভুক্তি সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘নতুন রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে সকল প্রগতিশীল এবং গণতান্ত্রিক দল ও সংস্থার সহযোগিতা অপরিহার্য, কিন্তু আওয়ামী লীগ সেই সহযোগিতা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।’
ড. আসিফ নজরুল বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীরা দায়িত্ব নেবেন দেশের সংস্কার অব্যাহত রাখার এবং তার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার। জুলাই আন্দোলনে যারা প্রাণ দিয়েছেন তাদের কথা স্মরণ করে, নতুন সরকার স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার মান নিশ্চিত করবে। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘প্রতিটি পদক্ষেপ জনগণের জন্য হবে এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক হতে হবে।’
এছাড়া তিনি নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় এবারের নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ আরও বাড়বে। নারী ভোটারদের জন্য কোনো বাধা সৃষ্টি হয়নি। বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে যারা নেকাব পরতেন, তারা হয়রানির শিকার হতেন। বর্তমানে নারীরা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।’
ড. আসিফ নজরুল কমনওয়েলথ প্রতিনিধিদলের উদ্দেশ্যে বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ যথাযথ এবং সুষ্ঠু হবে। জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দেশের জন্য দায়বদ্ধ ও ন্যায্য কাজ করবেন। তিনি জানান, কমনওয়েলথ প্রতিনিধি দল সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া প্রদান করেছে।
উপদেষ্টা বলেন, নতুন রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ মজবুত করতে হলে রাজনৈতিক দলের সমর্থন অপরিহার্য। কিন্তু আওয়ামী লীগের অমনোযোগ ও অংশগ্রহণহীনতা এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। নতুন প্রজন্মের জন্য এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য সরকার ও জনগণকে মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও জানান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিদেশে প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা এবং তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করা হচ্ছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে।
ড. আসিফ নজরুলের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণহীনতা নতুন রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়ায় প্রগতিশীল সংস্কারের পথকে সীমিত করছে। রাজনৈতিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নির্বাচনী সংস্কার নিশ্চিত করার জন্য দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতৃত্ব অপরিহার্য।
সর্বশেষ, উপদেষ্টা কমনওয়েলথ প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করেছেন যে, দেশের আগামী নির্বাচন অত্যন্ত স্বচ্ছ ও ন্যায্যভাবে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ, ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে।