সর্বশেষ :
আজ সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৃষি-উড়োজাহাজ চুক্তি স্বাক্ষর শিশুদের আসক্তি তৈরির অভিযোগে মেটা-ইউটিউবের বিরুদ্ধে মামলা জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার এক বছরে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির পথে মালয়েশিয়ার অর্থনীতি ঢাকা–১১ আসনে পোস্টার নয়, মানুষের মন জয়ের লড়াই বগুড়ায় বিএনপির ‘দুর্গে’ চ্যালেঞ্জ, তিন আসনে জামায়াতের কড়া লড়াই ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ১২ হাজার ৩৮৫ এপস্টিনের কোটি কোটি ডলারের সম্পদের উত্তরাধিকারী কারা রাজধানীর আসনে নারী প্রার্থীদের ইশতেহারে নাগরিক সংকটের অঙ্গীকার

রাজধানীর আসনে নারী প্রার্থীদের ইশতেহারে নাগরিক সংকটের অঙ্গীকার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৮ বার
রাজধানীর আসনে নারী প্রার্থীদের ইশতেহারে নাগরিক সংকটের অঙ্গীকার

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকার ১৫টি আসনে নারী প্রার্থীদের উপস্থিতি এবারের নির্বাচনী আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যদিও সংখ্যাগত দিক থেকে এখনো নারীর অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কম, তবু যাঁরা প্রার্থী হয়েছেন, তাঁদের ইশতেহার ও বক্তব্যে নগরজীবনের দীর্ঘদিনের সংকট, নাগরিক দুর্ভোগ এবং কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের প্রত্যাশা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ঢাকার যানজট, জলাবদ্ধতা, গ্যাস-পানি-বিদ্যুতের সংকট, স্বাস্থ্যসেবার মানহানি, মাদক ও চাঁদাবাজি—এসব সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক জীবনের নিত্যসঙ্গী। নারী প্রার্থীদের ইশতেহারে এসব ইস্যুই বারবার ফিরে এসেছে ভিন্ন ভিন্ন ভাষা ও অঙ্গীকারে।

নির্বাচনী তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর ১৫টি সংসদীয় আসনে এবার ১৪ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে চারটি আসনে দুজন করে নারী প্রার্থী মাঠে রয়েছেন এবং ছয়টি আসনে একজন করে নারী প্রার্থী দাঁড়িয়েছেন। পাঁচটি আসনে কোনো নারী প্রার্থী নেই, যা এখনো রাজনীতিতে লিঙ্গসমতার ঘাটতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। প্রার্থীদের মধ্যে ১০ জন নিজস্ব নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করে ভোটারদের কাছে প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছেন। দুজন দলের ইশতেহারকে সামনে রেখে প্রচার চালাচ্ছেন, আর বাকি দুজন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ইশতেহার প্রকাশ করেননি।

ইশতেহার বিশ্লেষণে দেখা যায়, দলীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও নাগরিক সংকটের বিষয়ে তাঁদের উপলব্ধি প্রায় অভিন্ন। মাদক ও চাঁদাবাজি দমন, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, যানজট নিরসন, গ্যাস-পানি-বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান এবং জনপ্রতিনিধির জবাবদিহি—এসব বিষয় প্রায় সব ইশতেহারেই গুরুত্ব পেয়েছে। অনেক প্রার্থী স্থানীয় সমস্যার সঙ্গে জাতীয় নীতিনির্ধারণের সংযোগ ঘটানোর কথাও বলেছেন, যা তাঁদের রাজনীতির দৃষ্টিভঙ্গিকে আলাদা করে তুলে ধরে।

যাঁরা নিজস্ব ইশতেহার প্রকাশ করেছেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন প্রার্থী রাজধানীর ভিন্ন ভিন্ন এলাকার সমস্যা তুলে ধরেছেন নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে। ঢাকা-৭ আসনে বাসদের (মার্ক্সবাদী) প্রার্থী সীমা দত্ত কাঁচি প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তিনি নির্বাচিত হলে বুড়িগঙ্গা নদীকে দূষণমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। পাশাপাশি ঢাকা-৭ আসনকে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরাঞ্চলে রূপান্তরের কথাও বলেছেন তিনি। তাঁর মতে, নদী ও পরিবেশ রক্ষা ছাড়া টেকসই নগর উন্নয়ন সম্ভব নয়।

ঢাকা-১০ আসনে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) প্রার্থী নাসরীন সুলতানা ঈগল প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তিনি ‘পরিবর্তনের ১০ অঙ্গীকার’ তুলে ধরেছেন তাঁর ইশতেহারে। অপরাধপ্রবণ এলাকায় নতুন সিসিটিভি ও স্ট্রিট লাইট স্থাপন, শিশু ও কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ উন্মুক্ত রাখা, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা, সরকারি হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবার মান নিশ্চিত করা এবং বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতের ওপর কঠোর নজরদারির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। নগরজীবনের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যকে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি তাঁর ইশতেহারের মূল প্রতিপাদ্য।

ঢাকা-৮ আসনে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মেঘনা আলম ট্রাক প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি তাঁর ইশতেহারে ব্রেস্টফিডিং কর্নার ও বেবি ডায়াপার চেঞ্জ জোন স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা নগর জীবনে কর্মজীবী মায়েদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন। এ ছাড়া পুষ্টি নিশ্চিতে ফলের গাছ লাগানোর উদ্যোগ এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কথাও রয়েছে তাঁর প্রতিশ্রুতিতে।

ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা ফুটবল প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তাঁর ইশতেহারে সবচেয়ে আলোচিত অঙ্গীকারগুলোর একটি হলো গ্যাস সংকট সমাধানে ‘সেবা নেই, বিল নেই’ নীতির জন্য জাতীয় সংসদে আইন প্রস্তাব উত্থাপন। একই সঙ্গে তিনি নাগরিক সমস্যার অগ্রগতি জানাতে একটি ‘ওপেন ড্যাশবোর্ড’ চালুর কথা বলেছেন, যেখানে মানুষ সরাসরি দেখতে পারবে কোন সমস্যার সমাধান কতদূর এগিয়েছে। সরকারি হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন, নারীদের জন্য সাশ্রয়ী চিকিৎসা, মশা নিধন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমপির সুপারিশ বন্ধ, আধুনিক ল্যাব স্থাপন ও এআই শিক্ষার ওপর জোর দেওয়ার মতো অঙ্গীকারও রয়েছে তাঁর ইশতেহারে।

ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী সানজিদা ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তিনি ভোটারদের সামনে ‘বাসযোগ্য ঢাকা-১৪’ গড়ার প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছেন। ওয়ার্ড ও ইউনিয়নভিত্তিক আলাদা ইশতেহার দিয়ে তিনি স্থানীয় সমস্যার সমাধানে নির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা বলেছেন। তাঁর প্রচারে অবকাঠামো সংস্কার, নাগরিক সেবা সহজীকরণ এবং জনসম্পৃক্ততার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা-১২ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তাসলিমা আখতার ‘কথা কম কাজ বেশি’ স্লোগানে ১২ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। জনগণের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করাই তাঁর মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে ঢাকা-৭ আসনে জেএসডির প্রার্থী শাহানা সেলিম পুরান ঢাকাকে আধুনিক শহরে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ঢাকা-৫ আসনে বাসদের (মার্ক্সবাদী) প্রার্থী শাহিনুর আক্তার সুমি গ্যাস সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, শ্রমজীবীদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা ও কর্মজীবী নারীদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার চালুর কথা বলেছেন।

ঢাকা-৯ আসনে গণফোরামের প্রার্থী নাজমা আক্তার উদীয়মান সূর্য প্রতীকে ‘শুধু দল পরিবর্তন নয়, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন’ স্লোগান তুলে ধরেছেন। ঢাকা-১১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কহিনূর আক্তার বীথি জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা সংস্কার, মাদক ও চাঁদাবাজি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাঁর ইশতেহারে।

তবে এখনো কয়েকজন নারী প্রার্থী ইশতেহার প্রকাশ না করায় ভোটারদের মধ্যে কৌতূহল ও প্রশ্ন রয়ে গেছে। ঢাকা-১০ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী বহ্নি বেপারী, ঢাকা-১৮ আসনে এনপিপির প্রার্থী সাবিনা জাবেদ, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থী সালমা আক্তার এবং ঢাকা-১৩ আসনের প্রার্থী ফাতেমা আক্তার মুনিয়া এখনো আনুষ্ঠানিক ইশতেহার প্রকাশ করেননি।

সার্বিকভাবে এবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনে মোট প্রার্থী ২ হাজার ১৭ জন, যার মধ্যে নারী প্রার্থী ৮৫ জন। দলীয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬৬ নারী। নারী প্রার্থী কম থাকার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন মনে করেন, বড় দলগুলোর মধ্যে নারীদের অবমূল্যায়নের প্রবণতা স্পষ্ট। তাঁর মতে, কেন নারীদের মনোনয়ন দেওয়া হলো না—সে প্রশ্ন দলগুলোর কাছেই তোলা উচিত।

রাজধানীর নারী প্রার্থীদের ইশতেহারগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এগুলো কেবল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির তালিকা নয়, বরং নগরবাসীর দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন। ভোটাররা এসব অঙ্গীকারকে কতটা বিশ্বাসযোগ্য মনে করবেন এবং ব্যালটের মাধ্যমে কী সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তবে এটুকু স্পষ্ট, রাজধানীর রাজনীতিতে নারী প্রার্থীদের এই সক্রিয় উপস্থিতি নাগরিক আলোচনাকে নতুন করে উসকে দিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত