সর্বশেষ :
আজ সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৃষি-উড়োজাহাজ চুক্তি স্বাক্ষর শিশুদের আসক্তি তৈরির অভিযোগে মেটা-ইউটিউবের বিরুদ্ধে মামলা জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার এক বছরে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির পথে মালয়েশিয়ার অর্থনীতি ঢাকা–১১ আসনে পোস্টার নয়, মানুষের মন জয়ের লড়াই বগুড়ায় বিএনপির ‘দুর্গে’ চ্যালেঞ্জ, তিন আসনে জামায়াতের কড়া লড়াই ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ১২ হাজার ৩৮৫ এপস্টিনের কোটি কোটি ডলারের সম্পদের উত্তরাধিকারী কারা রাজধানীর আসনে নারী প্রার্থীদের ইশতেহারে নাগরিক সংকটের অঙ্গীকার

জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৮ বার
জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজশাহীর রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ছাত্রদলের এক নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের ঘটনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচারণা চালানোর অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তাদের এক নেতার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। ঘটনাটি শুধু একটি ব্যক্তিগত পোস্ট বা মতপ্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এটি দলীয় শৃঙ্খলা, রাজনৈতিক আনুগত্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক আচরণের সীমা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে। বহিষ্কৃত নেতা মোস্তাফিজুর রহমান মিলন বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দফতর সূত্রে জানা যায়, সংগঠনের নীতি ও আদর্শের বাইরে গিয়ে অন্য একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ায় তার বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মোস্তাফিজুর রহমানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংগঠনের নেতারা জানান, দলীয় পরিচয় বহনকারী কোনো নেতা বা কর্মী অন্য দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচারণা চালাতে পারেন না—এটি ছাত্রদলের সাংগঠনিক নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে মোস্তাফিজুর রহমান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে রাজশাহী-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল বারীর সমর্থনে একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্টে তিনি প্রার্থীর পক্ষে ইতিবাচক মন্তব্য করেন, যা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগের দিনও তিনি জামায়াত প্রার্থীর একটি নির্বাচনী জনসভার ছবি শেয়ার করেন এবং ক্যাপশনে লেখেন, ‘দাঁড়িপাল্লার জয় হবে, ইনশাল্লাহ।’ এই পোস্ট ও মন্তব্যগুলো ছাত্রদলের স্থানীয় এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের নজরে এলে সংগঠনের ভেতরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

ছাত্রদলের একাধিক নেতা জানান, বিষয়টি জানার পরপরই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে বা দলীয় পদে থেকে অন্য রাজনৈতিক দলের পক্ষে প্রচারণা চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার প্রবণতা নিরুৎসাহিত করা হবে বলেও মনে করছেন অনেকে।

রাজশাহী অঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এটিকে ছাত্রদলের কঠোর সাংগঠনিক অবস্থানের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। আবার অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রাজনৈতিক প্রচারণার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ফলে দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টও অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে বহিষ্কৃত নেতা মোস্তাফিজুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এই বহিষ্কারাদেশে তার ব্যক্তিগতভাবে কিছু যায় আসে না। তিনি জানান, তিনি তার মতামত ব্যক্ত করেছেন এবং সেটি তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। তবে তিনি বহিষ্কার আদেশের একটি বিষয় নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিজ্ঞপ্তিতে তার সাংগঠনিক নাম ‘মিলন পারভেজ’-এর পরিবর্তে তার ফেসবুক আইডিতে ব্যবহৃত নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি এটিকে একটি ত্রুটি হিসেবে উল্লেখ করেন, যদিও তিনি বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে অনুশোচনা প্রকাশ করেননি।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একজন দায়িত্বশীল নেতা জানান, নামের বিষয়টি সংগঠনের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলেনি। মূল বিষয় ছিল দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ। তিনি বলেন, ছাত্রদল একটি আদর্শভিত্তিক সংগঠন। এখানে ব্যক্তিগত পছন্দ বা মতামত থাকতেই পারে, কিন্তু তা প্রকাশ করতে গিয়ে দলীয় অবস্থানের পরিপন্থী কোনো কাজ করা হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হয়।

রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘটনাকে বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ছাত্রসংগঠনগুলো বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। নির্বাচনের সময় এসব সংগঠনের নেতাকর্মীদের ভূমিকা আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। ফলে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেওয়া অনেক সংগঠনের জন্যই একটি কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজশাহী-৪ আসনকে কেন্দ্র করে এবারের নির্বাচনী লড়াই বেশ আলোচিত। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারণা জোরদার হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ছাত্রদলের একজন নেতার জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সাধারণ ভোটারদের একাংশ মনে করছেন, এই ঘটনা রাজনৈতিক বাস্তবতারই প্রতিফলন। আবার কেউ কেউ বলছেন, ছাত্ররাজনীতিতে আদর্শগত অবস্থান স্পষ্ট না থাকলে এমন পরিস্থিতি আরও তৈরি হতে পারে। তবে ছাত্রদলের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এটিও স্পষ্ট হয়েছে যে সংগঠনটি তাদের নীতিগত অবস্থান থেকে সরে আসতে রাজি নয়।

সব মিলিয়ে, রাজশাহীতে ছাত্রদল নেতা বহিষ্কারের ঘটনা শুধু একটি সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা এবং দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। সামনে নির্বাচনী পরিস্থিতি যত ঘনিয়ে আসবে, ততই এ ধরনের ঘটনা রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত