সর্বশেষ :
আজ সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৃষি-উড়োজাহাজ চুক্তি স্বাক্ষর শিশুদের আসক্তি তৈরির অভিযোগে মেটা-ইউটিউবের বিরুদ্ধে মামলা জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার এক বছরে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির পথে মালয়েশিয়ার অর্থনীতি ঢাকা–১১ আসনে পোস্টার নয়, মানুষের মন জয়ের লড়াই বগুড়ায় বিএনপির ‘দুর্গে’ চ্যালেঞ্জ, তিন আসনে জামায়াতের কড়া লড়াই ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ১২ হাজার ৩৮৫ এপস্টিনের কোটি কোটি ডলারের সম্পদের উত্তরাধিকারী কারা রাজধানীর আসনে নারী প্রার্থীদের ইশতেহারে নাগরিক সংকটের অঙ্গীকার

শিশুদের আসক্তি তৈরির অভিযোগে মেটা-ইউটিউবের বিরুদ্ধে মামলা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৮ বার
শিশুদের আসক্তি তৈরির অভিযোগে মেটা-ইউটিউবের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ:  ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ক্যালিফোর্নিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিশ্বখ্যাত দুই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা প্ল্যাটফর্ম এবং ইউটিউবের বিরুদ্ধে একটি তীব্র মামলা দায়ের হয়েছে। ২০ বছর বয়সী ক্যালি জি এমের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, এই কোম্পানিগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের অ্যাপের নকশা এমনভাবে তৈরি করেছে যাতে শিশুদের মধ্যে আসক্তি তৈরি হয়। মামলা শুনানিতে ক্যালির আইনজীবী মার্ক ল্যানিয়ার আদালতে উল্লেখ করেন, ক্যালি ছোটবেলায় ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবের মাধ্যমে এমনভাবে প্রভাবিত হন যে এটি তার মানসিক স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

ল্যানিয়ার আদালতে বলেন, “আমাদের কাছে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নথি আছে যেখানে প্রমাণিত হয়েছে, তারা জেনে–বুঝে এমন অ্যাপ তৈরি করেছে যেগুলো শিশুদের মস্তিষ্কে আসক্তি তৈরির জন্য পরিকল্পিত। তারা এটি ইচ্ছাকৃতভাবে করেছে।” এর মাধ্যমে তিনি জোর দেন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু বিনোদন বা যোগাযোগের জন্য অ্যাপ তৈরি করেনি, বরং ব্যবহারকারীদের ক্রমাগত ফিরিয়ে আনার মনস্তাত্ত্বিক কৌশলও ব্যবহার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মেটার পক্ষ থেকে আইনজীবী পল শমিট জানান, ক্যালির শৈশবে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যা ছিল। তিনি বলেন, “ক্যালির স্বাস্থ্য নথি থেকে দেখা যায়, তিনি শৈশবে মৌখিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। মা–বাবার বিচ্ছেদ এবং অন্যান্য পারিবারিক জটিলতা তার মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলেছে। যদি ইনস্টাগ্রাম সরানো হত, তবে কি তার জীবন সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো? এটা বলা কঠিন।” শমিট স্পষ্ট করেন যে, মেটা তাদের অ্যাপের নকশায় কোনো ভুল প্রভাব তৈরি করেনি এবং ক্যালির মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য অন্যান্য পারিবারিক ও সামাজিক কারণগুলোর দিকে নজর দিতে হবে।

মামলার শুনানিতে আরও উঠে এসেছে, ক্যালি অভিযোগ করেছেন যে এই অ্যাপগুলো তার বিষণ্নতা এবং আত্মহত্যার চিন্তা বাড়িয়েছে। তিনি আদালতে দাবি করছেন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তার মানসিক স্বাস্থ্য খারাপ করার দায় নিতে হবে। তার আইনজীবীরা জোর দিয়ে বলেছেন, শুধুমাত্র অ্যাপের আসক্তিকর নকশা ক্যালির মানসিক ক্ষতির প্রধান কারণ। এ ধরনের ডিজাইন শিশুদের মস্তিষ্কে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে এবং তাদের সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

মামলায় বলা হয়েছে, মেটা এবং ইউটিউবের নকশা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন ব্যবহারকারীরা যত বেশি সময় তাদের প্ল্যাটফর্মে কাটান। এতে ভিডিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়, নোটিফিকেশন এবং লাইক–কমেন্টের মাধ্যমে ক্রমাগত প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এর ফলে শিশু ব্যবহারকারীরা নিরবিচ্ছিন্নভাবে অ্যাপ ব্যবহার করতে বাধ্য হন। ক্যালির আইনজীবীরা যুক্তি দেখিয়েছেন, এটি এক ধরনের ডিজাইন হওয়ায়, ব্যবহারকারীদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ব্যবহার করে আসক্তি তৈরি করা হয়, যা শিশুদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

এই মামলার প্রেক্ষাপটে ক্যালিফোর্নিয়ার আদালত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নতুন ধরনের দায়িত্ব আরোপের পথ প্রশস্ত করতে পারে। গুগল, মেটা, টিকটক ও স্ন্যাপের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ক্যালিফোর্নিয়ায় বহু মামলা চলমান। টিকটক এবং স্ন্যাপ ইতিমধ্যেই ক্যালির সাথে তাদের মামলার বিষয় মিটমাট করেছে। তবে মেটা এবং ইউটিউবের মামলায় এখনও আদালতের প্রক্রিয়া চলমান।

মেটা ও ইউটিউব উভয়েই তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা বলেছে, ব্যবহারকারীর মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং এটি ব্যক্তিগত পরিস্থিতি এবং ব্যবহারকারীর শারীরিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে এই মামলার ফলাফল শুধু ক্যালির জন্য নয়, পুরো শিল্পের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

মার্ক ল্যানিয়ার আদালতে আরও বলেন, “এই মামলা শিশুদের প্রতিরক্ষা, ব্যবহারকারীর স্বার্থ এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর নকশার নৈতিক দায়িত্বকে পুনর্নির্ধারণ করার চেষ্টা। এটি শুধু ক্যালির জন্য নয়, ভবিষ্যতের প্রজন্মের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ক্যালি সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন এবং তিনি সরাসরি আদালতে জানানোর জন্য আগ্রহী।

ক্যালিফোর্নিয়ায় এই মামলা চলাকালীন মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গকে সাক্ষ্য দিতে ডাকতে পারে। মামলার প্রক্রিয়া মার্চ মাস পর্যন্ত চলতে পারে এবং এর মধ্য দিয়ে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর প্রতি আইনি দায়িত্ব ও ব্যবহারকারীদের ক্ষতির পরিপ্রেক্ষিত নির্ধারিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি আদালত ক্যালির পক্ষে রায় দেয়, তবে তা শিশুদের প্রভাবিত করা অ্যাপের নকশাকে আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে এবং পুরো প্রযুক্তি শিল্পে নৈতিক ও আইনি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শিক্ষাবিদ, পিতা–মাতা ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করেছেন, এই প্ল্যাটফর্মগুলো শিশুদের উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। ক্যালি মামলাটি প্রযুক্তি শিল্পের নকশা, শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং আইনি দায়িত্বকে নতুন আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই মামলা শুধু ক্যালির জন্য নয়, পুরো বিশ্বে শিশুদের সুরক্ষা এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর দায়িত্ববোধকে পুনর্নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ক্যালির অভিযোগ ও আদালতের শোনানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার, আসক্তি এবং মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়কে নতুন করে সামনে এনেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত