ঢাকায় বাড়ছে দিনের তাপমাত্রা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৭ বার
বাড়তে পারে ঢাকায় দিনের তাপমাত্রা

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মাঘের শেষভাগে এসে রাজধানী ঢাকার আবহাওয়ায় ধীরে ধীরে শীতের তীব্রতা কমে উষ্ণতার আভাস দেখা দিতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। একই সঙ্গে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি, যা নগরবাসীর জন্য ঋতু পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সকালের আবহাওয়া পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। এই সময়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে এবং বাতাস থাকবে শুষ্ক প্রকৃতির। উত্তর কিংবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় প্রায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে, যা শীতের শেষ ভাগের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ওই সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৭৫ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে এটি মৃদু শীতল অনুভূতির ইঙ্গিত দিলেও দিনের বেলায় সূর্যের তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়ায় উষ্ণতা অনুভূত হতে পারে। গতকাল ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, রাত ও দিনের তাপমাত্রার পার্থক্য ধীরে ধীরে কমে আসছে, যা বসন্ত আগমনের স্বাভাবিক পূর্বাভাস হিসেবে ধরা হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৃষ্টিহীন এই আবহাওয়া একদিকে যেমন নগরবাসীর দৈনন্দিন চলাচলে স্বস্তি এনে দেয়, অন্যদিকে শুষ্কতা বাড়ার কারণে ধুলাবালি ও বায়ুদূষণের মাত্রা বৃদ্ধির সম্ভাবনাও তৈরি করে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সময়টিতে বাতাসে আর্দ্রতা কমে গেলে দূষণ কণার ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়, ফলে শ্বাসকষ্ট বা অ্যালার্জিজনিত সমস্যা বাড়তে পারে। তাই আবহাওয়ার এই পরিবর্তন শুধু আরামদায়ক আবহের বার্তা নয়, স্বাস্থ্য সচেতনতার প্রয়োজনীয়তার কথাও মনে করিয়ে দেয়।

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ৫১ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৩৪ মিনিটে। দিন বড় হওয়া এবং সূর্যের আলো দীর্ঘ সময় স্থায়ী হওয়াও তাপমাত্রা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। আবহাওয়াবিদদের মতে, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে সূর্যের অবস্থান ক্রমেই উত্তর গোলার্ধের দিকে সরে আসতে থাকে, যার ফলে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে।

শুধু ঢাকাই নয়, সারা দেশের আবহাওয়ার ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের রাতের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ দেশের অধিকাংশ এলাকায় আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে এবং রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। অর্থাৎ শীতের বিদায়ের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং ধীরে ধীরে উষ্ণ আবহাওয়া ফিরে আসছে।

আবহাওয়া বিশ্লেষকরা বলছেন, জানুয়ারির শেষ থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় বাংলাদেশের আবহাওয়ায় একটি পরিবর্তনশীল ধাপ থাকে। এ সময় শীতের প্রভাব কমতে শুরু করে, কিন্তু পুরোপুরি গরমও পড়ে না। ফলে সকাল ও রাত তুলনামূলক শীতল থাকলেও দুপুরে তাপমাত্রা বাড়ে এবং হালকা উষ্ণতা অনুভূত হয়। এই পরিবর্তনকে তারা মৌসুমি রূপান্তরের স্বাভাবিক ধাপ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও এই আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সকালে হালকা শীতের পোশাক পরলেও দুপুরের দিকে অনেকেই তা খুলে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন। নগরীর ফুটপাত, বাসস্ট্যান্ড কিংবা অফিসপাড়ায় দেখা যাচ্ছে একই মানুষের পোশাকে সকাল ও দুপুরে ভিন্নতা। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সময়টিতে আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তনের কারণে সর্দি-কাশি বা মৌসুমি অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে, তাই পোশাক ও খাদ্যাভ্যাসে সচেতন থাকা জরুরি।

কৃষি খাতেও এই পরিবর্তনের আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতের শেষের এই উষ্ণতা শস্যের বৃদ্ধির জন্য সহায়ক হতে পারে, বিশেষ করে শাকসবজি ও বোরো ধানের ক্ষেত্রে। তবে তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে গেলে বা অস্বাভাবিক আবহাওয়া দেখা দিলে তা ফসলের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর কৃষকদের সতর্ক নজর রাখা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, রাজধানী ঢাকায় শীতের বিদায়ঘণ্টা বাজতে শুরু করেছে এবং দিনের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যদিও এই পরিবর্তন তাৎক্ষণিকভাবে তীব্র গরমের আভাস দিচ্ছে না, তবুও এটি ঋতুচক্রের স্বাভাবিক গতির অংশ। আবহাওয়ার এই ধীর রূপান্তর নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলছে এবং একই সঙ্গে বসন্তের আগমনের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত