নির্বাচন মোটরসাইকেল চলাচল নিষেধাজ্ঞা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৭ বার
নির্বাচন মোটরসাইকেল চলাচল নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশের সর্বত্র নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সরকার বিশেষ পরিবহন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর করেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিরোধ এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ মোটরসাইকেলসহ কয়েক ধরনের যানবাহন চলাচলের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনকালীন সময়ে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভোটারদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করাই এ সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।

সরকারি প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত থেকে শুরু করে ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত টানা ৭২ ঘণ্টা সারা দেশে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে। প্রজ্ঞাপনটি স্বাক্ষর করেছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিআরটিএ সংস্থাপন শাখার উপসচিব আল-আমীন মো. নুরুল ইসলাম। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তাদের মতে, অতীতে নির্বাচনের সময় মোটরসাইকেল ব্যবহার করে দ্রুতগতিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা সহিংস ঘটনার উদাহরণ থাকায় এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যা নির্বাচনী নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ।

এদিকে কেবল মোটরসাইকেলই নয়, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আরও কয়েক ধরনের যানবাহনের ওপরও চলাচল সীমিত করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার জন্য ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব যানবাহন বড় পরিসরে লোক পরিবহন করতে পারে এবং নির্বাচনী দিনে অনিয়ন্ত্রিত চলাচল পরিস্থিতি জটিল করতে পারে, তাই সাময়িক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

তবে এই নিষেধাজ্ঞা সর্বাত্মক নয়। জরুরি সেবা ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যানবাহনগুলোকে এ বিধিনিষেধের বাইরে রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের যানবাহন ছাড়াও চিকিৎসা, ঔষধ পরিবহন, সংবাদপত্র সরবরাহ এবং অন্যান্য জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন চলাচল করতে পারবে। এছাড়া বিমানবন্দরগামী বা সেখান থেকে যাত্রী আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রমাণপত্র প্রদর্শনের শর্তে যানবাহন চলাচলের অনুমতি থাকবে। দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহনেও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে শিথিলতা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্বাচনী প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও সীমিত সুবিধা রাখা হয়েছে। প্রত্যেক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী একটি ছোট যানবাহন এবং তার নির্বাচনি এজেন্ট একটি যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন, তবে তা অবশ্যই রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদিত হতে হবে এবং গাড়িতে নির্ধারিত স্টিকার থাকতে হবে। সাংবাদিক, নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও অনুমোদনসাপেক্ষে যানবাহন ব্যবহার করার সুযোগ থাকবে। নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন থাকলে নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা মোটরসাইকেলও ব্যবহার করতে পারবেন।

টেলিযোগাযোগ সেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। বিটিআরসি এবং তাদের লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর যানবাহন জরুরি সেবার আওতায় চলাচল করতে পারবে। একই সঙ্গে জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর ও আন্তঃজেলা যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে প্রয়োজনে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে, যাতে দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম বা জরুরি পরিবহন সম্পূর্ণভাবে থেমে না যায়।

সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন হলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনাররা অতিরিক্ত যানবাহনের ওপরও সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা শিথিল করতে পারবেন। অর্থাৎ মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসন তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন শুধু ভোটগ্রহণ নয়, বরং একটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থার প্রতীক। তাই ভোটের দিন ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তারা বলছেন, পরিবহন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা অসুবিধা তৈরি করলেও সামগ্রিকভাবে এটি নির্বাচনী নিরাপত্তা জোরদার করতে সহায়ক। বিশেষ করে দ্রুতগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণে রাখলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি কার্যক্রম সহজ হয় এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।

সাধারণ নাগরিকদের একাংশ মনে করছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্তের ফলে ভোটের দিন রাস্তাঘাট তুলনামূলক শান্ত থাকে এবং ভোটাররা নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, জরুরি ব্যক্তিগত প্রয়োজন থাকলে বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা আগে থেকেই পরিকল্পনা করা উচিত। প্রশাসনও জনগণকে আগাম প্রস্তুতি নিতে অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিবহন নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক মোতায়েন, নজরদারি বৃদ্ধি এবং সমন্বিত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে যানবাহন চলাচলে এই সাময়িক নিয়ন্ত্রণকে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের আশা, জনগণের সহযোগিতা ও সচেতনতার মাধ্যমে এই সময়টি শান্তিপূর্ণভাবে অতিক্রম করা সম্ভব হবে এবং একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন নিশ্চিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত