প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সকল বাণিজ্যিক ব্যাংকের জন্য নতুন ব্যাংকিং সময়সূচি ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফসাইট সুপারভিশন গত সোমবার এই প্রজ্ঞাপন জারি করে জানায়, রমজান মাসে দেশের ব্যাংকসমূহের দাপ্তরিক কার্যক্রম সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। তবে সাধারণ লেনদেন সুবিধা দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সীমিত থাকবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জোহরের নামাজের জন্য ব্যাংকগুলো দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অল্প বিরতির মধ্যে বন্ধ থাকবে। তবে এ সময় অভ্যন্তরীণ সমন্বয় বজায় রেখে ব্যাংকের অন্যান্য কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। অর্থাৎ গ্রাহক লেনদেন কিছু সময়ের জন্য বন্ধ থাকলেও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও প্রস্তুতি চলমান থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্দেশনা মূলত গ্রাহক এবং ব্যাংককর্মীদের সুবিধা ও সুষ্ঠু কার্যক্রম নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। রমজান মাসে দিনের বেলায় লেনদেনের সময় সীমিত করা হলেও, অন্যান্য কার্যক্রম যেমন হিসাব যাচাই, তহবিল স্থানান্তর ও ব্যালান্স ম্যানেজমেন্ট অব্যাহত থাকবে। এতে করে গ্রাহকরা ব্যাংকের অফিসিয়াল কার্যক্রমের সময় অনুযায়ী তাদের আর্থিক লেনদেন পরিকল্পনা করতে পারবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রমজান মাস শেষ হওয়ার পর ব্যাংকসমূহের দাপ্তরিক কার্যক্রম এবং লেনদেনের সময়সূচি আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। সাধারণত রমজান মাসের বাইরে ব্যাংকিং লেনদেন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত করা যায়, এবং ব্যাংক সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, গ্রাহকরা সকাল ১০টা থেকে দুপুরের মধ্যেই মূল লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন।
এছাড়া, ব্যাংকগুলো রমজান মাসে গ্রাহক সুবিধার কথা মাথায় রেখে তাদের শাখা অফিসগুলোর স্বল্প সময়ের বিরতি ছাড়া সার্বিক কার্যক্রম চালু রাখবে। এ নির্দেশনা দেশের সকল বাণিজ্যিক ব্যাংক, সম্প্রদায়ভিত্তিক ব্যাংক, শাখা এবং এটিএম সেবার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযোজ্য।
রমজান মাসে লেনদেনের সময়সূচি পরিবর্তনের ফলে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোরও কিছুটা সময়সূচি সামঞ্জস্য করতে হবে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসা, খুচরা ব্যবসায়ী এবং গ্রাহক যারা দৈনন্দিন লেনদেনের জন্য ব্যাংক নির্ভর করে থাকেন, তাদের জন্য এই সময়সূচির বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি। ব্যাংকসমূহের এই নতুন সময়সূচি গ্রাহকদের সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামাজ ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রয়োজন মেনে চলার সুযোগও দেবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানাচ্ছে, ব্যাংকিং লেনদেনের সময়সূচি সংক্রান্ত কোনো ধরনের বিভ্রান্তি এড়াতে গ্রাহকদের শাখার নোটিশ বোর্ড, ওয়েবসাইট এবং মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। এছাড়া ব্যাংক কর্মীরা গ্রাহকদের লেনদেন ও সময়সূচি সম্পর্কে যথাযথ সহায়তা প্রদান করবেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রমজান মাসে এই ধরনের সময়সূচির পরিবর্তন ব্যাংকিং কার্যক্রমের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করবে। এটি গ্রাহক এবং ব্যাংক উভয়ের জন্যই সুবিধাজনক হবে, কারণ সীমিত সময়ে হলেও মূল লেনদেন সম্পন্ন করার সুযোগ থাকছে, এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ধর্মীয় এবং পারিবারিক দায়িত্বর মধ্যে ভারসাম্য রাখতে পারবেন।
গ্রাহক এবং ব্যবসায়ীরা এই সময়সূচি অনুযায়ী তাদের আর্থিক লেনদেন পরিকল্পনা করতে পারেন। বিশেষ করে মাসের শুরু এবং শেষের লেনদেন, বেতন প্রদান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সময়সূচি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
সংক্ষেপে, পবিত্র রমজান মাসে দেশের ব্যাংকিং লেনদেনের সময়সূচি পরিবর্তন করা হলেও এটি সাধারণ মানুষের সুবিধা এবং ধর্মীয় কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে। রমজান শেষ হলে ব্যাংকিং কার্যক্রম পুনরায় আগের নিয়ম অনুযায়ী চলবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ সামাজিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে সচল রাখার পাশাপাশি ধর্মীয় অনুভূতিতেও সমর্থন দেবে, যা গ্রাহক ও ব্যাংক কর্মীদের জন্য এক ধরনের সহায়ক ও মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।