এপস্টিন সংযোগে ঝড়, ওয়াসারম্যান এজেন্সিতে অস্থিরতা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৩ বার
এপস্টিন সংযোগে ঝড়, ওয়াসারম্যান এজেন্সিতে অস্থিরতা

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

হলিউড এবং আন্তর্জাতিক সংগীত জগতে নতুন অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে জেফরি এপস্টিন সংযোগের একটি বিস্তৃত ঘটনা। মৃত এই কুখ্যাত অর্থলগ্নিকারীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই বিশ্বখ্যাত ট্যালেন্ট ও মিউজিক এজেন্সি ওয়াসারম্যান মিউজিক এজেন্সি চরম সংকটে পড়েছে। প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কেসি ওয়াসারম্যানের সঙ্গে এপস্টিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী গিলেন ম্যাক্সওয়েলের সম্পর্কের তথ্য প্রকাশিত হওয়ায় একের পর এক শিল্পী প্রতিষ্ঠানটি ছাড়ার ঘোষণা দিচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিনোদন বিষয়ক প্রভাবশালী সাময়িকী ভ্যারাইটি জানিয়েছে, এ সপ্তাহে এজেন্সির ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। শিল্পী, এজেন্ট ও শীর্ষ নির্বাহীদের চাপের মুখে কেসি ওয়াসারম্যানকে পদত্যাগ করতে হতে পারে, কোম্পানি বিক্রি করতে হতে পারে বা বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অনেক শিল্পী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ওয়াসারম্যান এজেন্সিতে তারা আর যুক্ত থাকতে চান না।

ওয়াসারম্যান এজেন্সির সঙ্গে যুক্ত শীর্ষ শিল্পীরা ইতিমধ্যে পদত্যাগের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। ভ্যারাইটি জানিয়েছে, শিল্পীদের প্রতিনিধিরা কেসি ওয়াসারম্যানকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে তাদের চাহিদা মেনে না নেওয়া হলে কোম্পানির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে। শিল্পীদের এই পদক্ষেপে প্রতিষ্ঠানটির উপর প্রেসার বৃদ্ধি পেয়েছে। কেসি ওয়াসারম্যান শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন, যেখানে কোম্পানির ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ ও করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শিল্পীদের সঙ্গে এজেন্সির সম্পর্ক জটিল। সাধারণত এজেন্টরা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে বাধ্য থাকলেও শিল্পীরা তুলনামূলকভাবে সহজে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করতে পারেন। অনেক সময় দেখা যায়, শিল্পীরা তাদের ব্যক্তিগত এজেন্টের সঙ্গে বেশি আনুগত্যশীল থাকেন। একাধিক শিল্পী যদি এজেন্টের সঙ্গে চলে যান, তাহলে পুরো এজেন্সির কর্মসংস্থান ও কার্যক্রমের ওপর তা প্রভাব ফেলতে পারে।

ওয়াসারম্যান মিউজিক এজেন্সি বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংগীত এজেন্সিগুলোর মধ্যে একটি। তাদের তালিকায় ছিলেন এড শিরান, কোল্ডপ্লে, চাইল্ডিশ গ্যাম্বিনো, কেনড্রিক লামার, লর্ডে, ফিশ, রায়ে, সিজা, জনি মিচেল, টেইলার, দ্য ক্রিয়েটরসহ বহু নামী শিল্পী। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু শিল্পীর অনুরোধে এজেন্সির ওয়েবসাইট থেকে তাদের নাম সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা শিল্পীদের দৃষ্টিকোণ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কেসি ওয়াসারম্যান সরাসরি জেফরি এপস্টিনের কোনো অপরাধে জড়িত নন। তবে ২০০২ সালে একটি মানবিক সফরে ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এপস্টিনের ব্যক্তিগত বিমানে তিনি একবার ভ্রমণ করেছিলেন। এছাড়া এপস্টিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী গিলেন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত ইমেইল বিনিময় প্রকাশিত হয়েছে। এই ঘটনার পর ওয়াসারম্যান প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে বলেন, “আমি তাদের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সম্পর্কের জন্য ভীষণভাবে দুঃখিত।” তিনি আরও জানান, তিনি বিভিন্ন দাতব্য কার্যক্রম ও সামাজিক কাজে যুক্ত আছেন।

এই ঘটনা কেসি ওয়াসারম্যানের জন্য নতুন নয়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে প্যারিস অলিম্পিক চলাকালীন সময়ে তার বিরুদ্ধে জুনিয়র কর্মীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছিল। যদিও তখন বিষয়টি ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে যায়, তবে এবার এপস্টিন সংযোগের খবর সামনে আসায় পূর্বের অভিযোগগুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

শিল্পীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এপস্টিন ও ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে সম্পর্ক তাদের মানসিক ও নৈতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করেছে। বেস্ট কোস্ট ব্যান্ডের গায়িকা বেথানি কসেন্তিনো লিখেছেন, “শোষণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত কারও সঙ্গে আমার নাম বা ক্যারিয়ার যুক্ত থাকুক, এতে আমি সম্মতি দিইনি। চুপ থাকা আমার বিবেকের সঙ্গে যায় না।” এই মনোভাব অনেকে শীর্ষ শিল্পীর পক্ষ থেকেও প্রতিফলিত হচ্ছে।

এজেন্সির শীর্ষ নির্বাহীরা, যেমন মার্টি ডায়মন্ড ও ডাফি ম্যাকসুইগিন, কোম্পানিকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। ইতিমধ্যে কোম্পানি কেনার প্রস্তাবও এসেছে, এমনকি নির্বাহীরা নিজেদের কোনো অংশ কিনে নেওয়ার পরিকল্পনাও ভাবছেন। তবে এসব প্রস্তাব কতটা বাস্তবায়নযোগ্য তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ওয়াসারম্যান শুধুমাত্র সংগীত ব্যবসায় নয়, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ও ইভেন্ট আয়োজনেও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক গেমসের আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তার অবস্থানেও পদত্যাগের দাবি উঠেছে। শিল্পী, এজেন্ট ও বিনিয়োগকারীদের চাপ এবং এপস্টিন সংযোগের নেতিবাচক ভাবমূর্তি একত্রিত হয়ে এজেন্সির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের পথে বড় প্রভাব ফেলবে।

সব মিলিয়ে ওয়াসারম্যান মিউজিক এজেন্সি ইতিহাসের অন্যতম বড় সংকটের মুখোমুখি। শিল্পীদের বিদায়, এজেন্টদের অনিশ্চয়তা, বিনিয়োগকারীদের প্রস্তাব এবং নেতিবাচক সংবাদ—সবই কোম্পানির ভবিষ্যৎ এই সপ্তাহেই বড় মোড় নিতে পারে। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সংগীত জগতে মানবিক ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও একটি বড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত