চন্দনাইশে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নগদ ১০ লাখ জব্দ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৭ বার
চন্দনাইশে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নগদ ১০ লাখ জব্দ

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চট্টগ্রাম-১৪ আসনের চন্দনাইশ উপজেলায় গভীর রাতে একটি মাইক্রোবাস থেকে নগদ ১০ লাখ ৪৯ হাজার টাকা জব্দ করেছে সেনাবাহিনী। এই ঘটনাটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। মাইক্রোবাসটি নোয়া ব্র্যান্ডের এবং আবদুল বারিহাট এলাকার একটি প্রধান সড়ক থেকে আটক করা হয়। চন্দনাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইলিয়াছ খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওসি জানান, রাত দেড়টার দিকে সেনাবাহিনী মাইক্রোবাসটি থামিয়ে টাকা এবং যানটি থানায় হস্তান্তর করেছে। হস্তান্তরের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা নির্দেশ দিয়েছেন, জব্দকৃত অর্থ এবং যানটি নির্বাচন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া অনুসারে থানায় রাখা হবে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জব্দকৃত নগদ এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর। তবে বিষয়টির প্রকৃত সত্যতা যাচাই করে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, মাইক্রোবাসের পাশে কয়েকজন সেনাসদস্য একটি ব্যক্তিকে ঘিরে রেখেছেন। ওই ব্যক্তি হাতে থাকা নগদ টাকা গুনছেন। এ সময় একজন সেনা কর্মকর্তার প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, তিনি মিজানুল হক চৌধুরীর ‘এস্টেট ম্যানেজার’। মিজানুল হক চৌধুরী চট্টগ্রাম-১৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।

চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রাজীব হোসেনকে এই ঘটনার বিষয়ে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। মিজানুল হক চৌধুরীর মুঠোফোনেও একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি, ফলে প্রার্থীর মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনী সময় এমন ধরনের নগদ অর্থ জব্দ নির্বাচনী নিয়মের কঠোর বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ধরা যেতে পারে। তবে এটা ভোটারদের মধ্যে সন্দেহ এবং উদ্বেগও সৃষ্টি করেছে। ভোটের সময় অর্থ এবং প্রভাবশালী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নির্বাচনী এলাকায় এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে চলমান থাকবে, যাতে ভোটের ন্যায্যতা নিশ্চিত করা যায়। তবে নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত প্রার্থীদের জন্য এটা একটি বড় ধাক্কা, বিশেষ করে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে, যাদের প্রচারমূলক কার্যক্রম সীমিত।

নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নির্বাচনী এলাকায় নগদ অর্থ বহন এবং বিতরণ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের তৎপরতা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নির্বাচনী জটিলতার মধ্যে এই অভিযান ভোটারদের কাছে ন্যায়পরায়ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার বার্তা দিয়েছে।

ম্যাপ ও ভৌগোলিক দিক থেকেও চন্দনাইশ উপজেলা চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি শহর ও গ্রামীণ এলাকার সংযোগস্থল, যেখানে প্রার্থীদের প্রচারণা বেশি ফলপ্রসূ। এই অঞ্চলে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য নগদ অর্থ ব্যবহারের প্রবণতা অতীতেও লক্ষ্য করা গেছে। এ ধরনের জব্দ প্রশাসনের সতর্কতা এবং ভোটের পরিবেশকে স্বচ্ছ রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জব্দকৃত অর্থ যদি নির্বাচনী প্রচারণার উদ্দেশ্যে ব্যবহার হচ্ছিল, তবে এটি নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। নির্বাচন কমিশন এবং সেনাবাহিনী যৌথভাবে এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।

স্থানীয় মানুষদের মতে, এমন ধরনের অভিযান ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করছে। তারা জানাচ্ছেন, নির্বাচন নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। নির্বাচনী প্রচারণায় যে কোনো প্রার্থীকে অতিরিক্ত সুবিধা না দেওয়ার জন্য প্রশাসনের নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ।

অভিজ্ঞ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর নগদ অর্থ জব্দ রাজনৈতিক দৃশ্যপটেও প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন এই ধরনের ঘটনা ভোটারদের মনোভাব ও প্রার্থীর ভাবমূর্তির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে অভিজ্ঞরা।

সবমিলিয়ে, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের এই ঘটনা নির্বাচনী এলাকায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার গুরুত্বকে পুনর্ব্যক্ত করেছে। নির্বাচন ঘিরে প্রশাসন, সেনাবাহিনী এবং পর্যবেক্ষকরা একসঙ্গে সতর্কতা অবলম্বন করছেন, যাতে ভোট সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত