যুক্তরাজ্যের প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন শাবানা মাহমুদ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৫ বার
যুক্তরাজ্যের প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন শাবানা মাহমুদ

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টারে এখন প্রধানমন্ত্রীর উত্তরসূরির পরিচয়কে কেন্দ্র করে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে যিনি সবচেয়ে আলোচনার কেন্দ্রে আছেন, তিনি হচ্ছেন লেবার পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর চাপ বাড়তে থাকায়, যদি কোনো কারণে দলের নেতৃত্বের লড়াই শুরু হয়, তবে শাবানা মাহমুদ হতে পারেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। এটি বাস্তবায়িত হলে, যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে তিনি প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস গড়ে দেবেন।

এই আলোচনার পটভূমি তৈরি হয়েছে গত এক সপ্তাহের রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে। যুক্তরাষ্ট্রে জেফরি এপস্টিন সংক্রান্ত নথি ফাঁস হওয়ার জেরে লেবার পার্টির অভ্যন্তরে দারুণ অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। ওয়াশিংটনে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় সরকারের ভিতরে বৈরিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ম্যান্ডেলসনের পুরোনো সম্পর্ক এপস্টিনের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। এই সংকটের মধ্যে স্টারমারের চিফ অব স্টাফ মরগান ম্যাকসুইনি পদত্যাগ করেছেন। তবে এই পদক্ষেপ সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন প্রশ্নও তুলেছে।

শাবানা মাহমুদ লেবার পার্টির একজন প্রভাবশালী নেতা। ৪৫ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ বার্মিংহামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পারিবারিক শিকড় মূলত পাকিস্তান ও পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের মিরপুরে। অক্সফোর্ডের লিঙ্কন কলেজ থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করার এক বছর পর তিনি ব্যারিস্টার হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০১০ সালে তিনি প্রথমবার পার্লামেন্টে নির্বাচিত হন এবং রুশনারা আলী ও ইয়াসমিন কোরেশির সঙ্গে তিনি যুক্তরাজ্যের প্রথম তিন মুসলিম নারী এমপির একজন হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেন।

রাজনীতিতে আসার পর থেকে শাবানা মাহমুদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এ সময়ে তিনি সীমান্ত নিরাপত্তা, অভিবাসন নীতি এবং পুলিশ প্রশাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। অভিবাসন বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থান নেন এবং স্থায়ী বসবাসের ন্যূনতম সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছরের প্রস্তাব দেন। তার মতে, যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাস কোনো ‘অধিকার নয়, বরং একটি বিশেষ সুযোগ’। এই কঠোর অবস্থান লেবার পার্টির মধ্যেও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

শাবানা মাহমুদ পার্টির ভেতরে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, বিচক্ষণ ও বাগ্মী নেতা হিসেবে পরিচিত। তার আইনি পটভূমি এবং মন্ত্রিসভার অভিজ্ঞতা তাকে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে এবং জনমত জরিপে দলকে সমর্থন ফিরিয়ে আনতে সক্ষম করে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধসহ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে মুসলিম ও ফিলিস্তিনপন্থী ভোটারদের পুনরায় দলের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে শাবানা মাহমুদ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা দিচ্ছেন।

স্টারমারের অবস্থান দুর্বল হওয়ার কারণে লেবার পার্টির অন্যান্য সম্ভাব্য নেতাদের নামও আলোচনায় রয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার, গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এবং জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের নামও উঠে আসছে। তবে জ্যেষ্ঠতা, আইনি দক্ষতা এবং মন্ত্রিসভায় প্রভাবের কারণে শাবানা মাহমুদ আলাদা জায়গায় অবস্থান করছেন। লেবার পার্টির বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী অন্তত ৮১ জন এমপির সমর্থন প্রয়োজন নেতা নির্বাচনের জন্য।

শাবানার রাজনৈতিক চরিত্র দ্বৈত দৃষ্টিকোণ বহন করে। একদিকে তিনি মধ্যপন্থী ও রক্ষণশীল নীতিতে বিশ্বাসী, অন্যদিকে পার্টির মুসলিম ও অভিবাসী ভোটারদের পুনঃসংযোগে তার জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য। এ দ্বৈত অবস্থান তাকে পার্টি এবং সাধারণ ভোটারদের কাছে এক জটিল কিন্তু আকর্ষণীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরেছে।

লেবার পার্টির ভেতরে যিনি স্টারমারের ঘনিষ্ঠ মিত্র, যিনি দলের নেতৃত্বের অভিজ্ঞ, আইনি পটভূমিতে শক্তিশালী এবং জনমত প্রভাব রাখতে পারেন, তিনি হবেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় প্রার্থী। নির্বাচনী অস্থিরতা, এপস্টিন কেলেঙ্কারি এবং সরকারের ওপর চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শাবানা মাহমুদ এখন যুক্তরাজ্যের রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

এই পরিস্থিতি যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি করছে। যদি শাবানা মাহমুদ নেতৃত্ব পান, তবে এটি কেবল লেবার পার্টির জন্য নয়, পুরো দেশ এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্যও একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। তিনি হবেন যুক্তরাজ্যের প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রী, যা ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক উভয় দিক থেকে গুরুত্ব বহন করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত