ঝিনাইদহে নির্বাচনে কঠোর নিরাপত্তায় র‌্যাব

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২২ বার
ঝিনাইদহে নির্বাচনে কঠোর নিরাপত্তায় র‌্যাব

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ঝিনাইদহে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। ভোটের দিন যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা কিংবা নাশকতার ঘটনা না ঘটে, সে লক্ষ্যে র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কঠোর অবস্থান নিয়েছে। নির্বাচনী পরিবেশ শান্ত, স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রিত রাখতে জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বুধবার সকালে ঝিনাইদহ র‌্যাব ক্যাম্পে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। কেউ যদি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করে, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ করে দেওয়াই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য বলে জানানো হয়।

র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলার চারটি সংসদীয় আসনে মোট ৫৮৮টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ২৩৭টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়।

সকাল থেকেই র‌্যাব সদস্যরা জেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। কেন্দ্রের নিরাপত্তা, আশপাশের পরিবেশ, প্রবেশ ও বহির্গমন পথ, নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থান—সবকিছু খতিয়ে দেখা হয়। ভোটের আগের দিন থেকেই টহল জোরদার করা হয়েছে, যাতে ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয় এবং তারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন।

ঝিনাইদহ র‌্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার গণমাধ্যমকে বলেন, নির্বাচন ঘিরে যেকোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা কঠোরভাবে দমন করা হবে। ভোটাররা যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, র‌্যাব সদস্যরা অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ রাখতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। জেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি থাকবে ভ্রাম্যমাণ ম্যাজিস্ট্রেট টিম, যারা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন এবং প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবেন।

নির্বাচন ঘিরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও রয়েছে কৌতূহল ও প্রত্যাশা। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হবে এবং তারা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। অতীতের কিছু নির্বাচনে বিচ্ছিন্ন সহিংসতার অভিজ্ঞতা থাকলেও এবারের প্রস্তুতি তাদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করেছে বলে অনেকে জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করে আগে থেকেই নিরাপত্তা জোরদার করা নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। এতে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলা সহজ হয় এবং প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারে। একইসঙ্গে ভোটারদের আস্থা বাড়ে।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে প্রশাসন। এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নজরদারি রাখছে। কেউ যদি গুজব ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

র‌্যাবের কর্মকর্তারা বলেন, নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, এটি নাগরিক অধিকার প্রয়োগের গুরুত্বপূর্ণ দিন। তাই ভোটের দিন প্রতিটি কেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হবে। সন্দেহজনক ব্যক্তির গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হবে এবং প্রয়োজনে তল্লাশি চালানো হবে।

ঝিনাইদহের চারটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। প্রচারণা পর্ব শেষ হওয়ার পর এখন ভোটের অপেক্ষা। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সব ধরনের প্রচার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভোটগ্রহণের দিন কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। বিশেষ করে যেসব কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেখানে বাড়তি সদস্য মোতায়েন থাকবে। জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে মোবাইল টিম।

নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এই সমন্বিত প্রস্তুতি ভোটারদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করেছে। অনেকে বলছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে ভোটার উপস্থিতিও বাড়বে।

সব মিলিয়ে ঝিনাইদহে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। র‌্যাবসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর কঠোর অবস্থান, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিতকরণ, ভ্রাম্যমাণ টিম ও ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি—সবকিছু মিলিয়ে একটি নিয়ন্ত্রিত ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা স্পষ্ট। এখন দেখার বিষয়, ভোটের দিন এই প্রস্তুতি কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং ভোটাররা কতটা স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত