বাগেরহাটে চারটি আসনে তিনটিতে এগিয়ে জামায়াত, একটিতে বিএনপি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৪ বার

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাগেরহাট জেলা থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটিতে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী এগিয়ে আছেন, আর একটি আসনে বিএনপি প্রার্থী সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। এই আংশিক ফলাফলের ভিত্তিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বাগেরহাট-১ আসনে মোট ১৪৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়। এ পর্যন্ত ৪২টি কেন্দ্রের ফলাফলে দেখা গেছে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ মন্ডল পেয়েছেন ৩৩,৫৬৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মোঃ মশিউর রহমান খান পেয়েছেন ৪২,২৩১ ভোট। এখানে প্রাপ্ত ব্যবধান প্রাথমিকভাবে বিএনপি প্রার্থীকে এগিয়ে রেখেছে।

বাগেরহাট-২ আসনে মোট ১৩৯ কেন্দ্রের মধ্যে ৭৬টির ফলাফল জানা গেছে। ধানের শীষ প্রতীকের শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন পেয়েছেন ৩০,৬৬৩ ভোট। তবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের শেখ মনজুরুল হক রাহাদ ৬২,১৪৫ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম (ঘোড়া) পেয়েছেন ২৬,৪০০ ভোট এবং হাতপাখা প্রতীকের শেখ আতিয়ার রহমান পেয়েছেন ২,৩৭৮ ভোট। এই আংশিক ফলাফলে স্পষ্ট যে বিএনপি নয়, বরং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এগিয়ে।

বাগেরহাট-৩ আসনে মোট ১০৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮০টি কেন্দ্রের ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকের শেখ ফরিদুল ইসলাম ৭৬,৪০২ ভোট পেয়ে জামায়াত প্রতীকের মোহাম্মাদ আব্দুল ওয়াদুদ সেখের ৫৬,৭২০ ভোটকে ছাড়িয়ে এগিয়ে রয়েছেন। প্রাপ্ত ব্যবধান প্রাথমিকভাবে জামায়াত প্রার্থীকে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখছে।

বাগেরহাট-৪ আসনে মোট ১৫৫ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়, যার মধ্যে ৫৫টি কেন্দ্রের ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকের সোম নাথ দে ২৭,৯৭৭ ভোট পেয়ে পিছিয়ে রয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মোঃ আব্দুল আলীম পেয়েছেন ৩৯,৪৬৭ ভোট। এছাড়া হাতপাখা প্রতীকের মোঃ ওমর ফারুক পেয়েছেন ৩,১০৮ ভোট। এই প্রাথমিক ফলাফলে জামায়াত প্রার্থী এগিয়ে আছেন।

বাগেরহাট জেলা নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, এই চারটি আসনের প্রাথমিক ফলাফল বেসরকারি গণনার ভিত্তিতে প্রকাশ করা হলেও বাকি কেন্দ্রের ফলাফলের পর চূড়ান্ত চিত্র কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে, জেলার রাজনৈতিক পরিসরে জামায়াতের শক্ত অবস্থান এবং বিএনপির উপস্থিতি স্পষ্ট।

ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। ভোটাররা সকাল থেকেই উৎসাহের সঙ্গে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হন। ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ভোটারদের মধ্যে বিশেষ করে তরুণ ও নারী ভোটারের উপস্থিতি চোখে পড়েছে। তারা তাদের মতামত প্রদানের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যত নীতি ও সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ করেছেন।

এই আংশিক ফলাফল বাগেরহাটে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ভোটাররা এখন চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে নজর রাখছেন এবং নির্বাচিত প্রতিনিধির কার্যকর নেতৃত্ব ও প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের দিকে আশা রাখছেন। বিজয়ী প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা দেয়ার পরই নিশ্চিত হবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত