কক্সবাজারে সালাহউদ্দিনের জয়ের হাসি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৭ বার
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ঘিরে বিএনপিতে নতুন উচ্ছ্বাস

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার–১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ঘোষিত ফলাফল ঘিরে সমুদ্রতীরবর্তী এই জনপদে রাজনৈতিক উত্তাপ যেমন ছিল তেমনি ছিল প্রত্যাশার চাপা স্রোত। ফল ঘোষণার পর দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন পর এই আসনে এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই ভোটারদেরও আলোচনায় রেখেছিল।

কক্সবাজার–১ আসনটি ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটননির্ভর অর্থনীতি, উপকূলীয় ঝুঁকি, অবকাঠামো সংকট এবং কর্মসংস্থানের প্রশ্ন এখানে নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রে থাকে। এবারের ভোটেও উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্ন সামনে এসেছে। ভোটের দিন সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে ধীর উপস্থিতি থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ে। তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে।

বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী সালাহউদ্দিন আহমদ জয়লাভ করেন। ফল ঘোষণার পর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন ভোটের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে এসেছে। এই দিনের জন্য মানুষ অপেক্ষা করছিল। এখন দায়িত্ব অনেক বেশি। শহীদের রক্তের মর্যাদা এবং গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করতে হবে। তার বক্তব্যে কৃতজ্ঞতা এবং দায়বদ্ধতার সুর স্পষ্ট ছিল।

সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তার সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। দলীয় রাজনীতির নানা উত্থানপতনের সময়ে তিনি আলোচনায় থেকেছেন। কক্সবাজার–১ আসনে তার প্রার্থিতা ঘিরে শুরু থেকেই রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। স্থানীয় সংগঠন পুনর্গঠন এবং তৃণমূল সমর্থন জোরদারে তিনি প্রচারণায় সময় দেন।

নির্বাচনী প্রচারে তিনি উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক চর্চার প্রশ্ন সামনে আনেন। পর্যটন শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উপকূলীয় সুরক্ষা বাঁধ উন্নয়ন, জেলে ও প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং অবকাঠামো সম্প্রসারণ ছিল তার অঙ্গীকারের অংশ। স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে একাধিক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। নির্বাচনী প্রচারে সমুদ্রতীরবর্তী এলাকার পরিবেশ সুরক্ষা বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

ভোটের দিন কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ছিল দৃশ্যমান। বড় ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে কিছু কেন্দ্রে ধীরগতির অভিযোগ ছিল। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান সার্বিক পরিবেশ শান্ত ছিল। ভোটারদের অংশগ্রহণকে সন্তোষজনক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ফল ঘোষণার পর কক্সবাজার শহর ও আশপাশ এলাকায় দলীয় সমর্থকদের মাঝে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুভেচ্ছা বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় নেতারা এটিকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের রায়ের প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো প্রকাশ পায়নি। চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন এই ফল কক্সবাজার অঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। উপকূলীয় উন্নয়ন এবং পর্যটন শিল্প পুনর্গঠনের প্রশ্নে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও মৌসুমি দুর্যোগের চাপ এ অঞ্চলের মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলেছে। নতুন প্রতিনিধি হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ থাকবে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা।

কক্সবাজার–১ আসনের সামাজিক কাঠামো বৈচিত্র্যময়। জেলে সম্প্রদায়, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পর্যটন খাতের শ্রমিক এবং প্রান্তিক কৃষিজীবী মানুষ এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাংক। নির্বাচনী প্রচারে জীবিকা নিরাপত্তা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তরুণ ভোটারদের একটি অংশ কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের প্রসার চেয়েছেন। এই প্রত্যাশা পূরণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষকেরা মত দিয়েছেন।

সালাহউদ্দিন আহমদের রাজনৈতিক পথচলা নানা অভিজ্ঞতায় পূর্ণ। জাতীয় পর্যায়ে সক্রিয় থাকলেও তিনি স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গেও সংযুক্ত ছিলেন। দলীয় কাঠামো শক্তিশালী করতে তার ভূমিকা নিয়ে সমর্থকেরা আশাবাদী। তবে সমালোচকেরা বলছেন প্রত্যাশা পূরণে দৃশ্যমান কাজ দেখাতে হবে দ্রুত। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনিক সমন্বয় এবং বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা হবে বড় পরীক্ষা।

জয়ের প্রতিক্রিয়ায় তিনি যে দায়িত্ববোধের কথা বলেছেন তা এখন বাস্তব প্রয়োগের অপেক্ষায়। গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষা পূরণ এবং মানুষের আস্থা ধরে রাখার প্রশ্ন সামনে রয়েছে। কক্সবাজারের মতো সংবেদনশীল ও সম্ভাবনাময় অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নতুন মেয়াদে তিনি কত দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেন সেটিই নজরে থাকবে।

এই ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। উপকূলীয় আসনে এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভোটের প্রতি মানুষের আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়। ভোটারদের প্রত্যাশা স্পষ্ট। উন্নয়ন চাই। স্থিতি চাই। জবাবদিহি চাই। এখন দায়িত্ব নির্বাচিত প্রতিনিধির। সামনে সময়। সামনে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কঠিন পরীক্ষা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত