দ্বিতীয়বারের এমপি নির্বাচিত হলেন পার্থ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৪ বার

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভোলা–১ সদর আসনে টানটান উত্তেজনার নির্বাচনী লড়াই শেষে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে গরুরগাড়ি প্রতীক নিয়ে তিনি বেসরকারিভাবে জয়ী হন। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরের প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী বিপুল ভোটের ব্যবধানে তিনি এগিয়ে থাকেন।

ঘোষিত তথ্যে দেখা গেছে আন্দালিব রহমান পার্থ পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৪৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৭৭৩ ভোট। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুর রহমান পেয়েছেন ১৫ হাজার ৯১ ভোট। ব্যবধান স্পষ্ট। ফলাফল ঘোষণার পর সদরজুড়ে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।

২০০৮ সালে প্রথমবার এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন পার্থ। দীর্ঘ রাজনৈতিক বিরতির পর আবারও সদর আসনে ফিরে এসে জয় ছিনিয়ে নেওয়া তার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। ভোলা জেলা বরাবরই রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় এলাকা। নদীবেষ্টিত ভৌগোলিক বাস্তবতা এবং উন্নয়ন বৈষম্যের প্রশ্ন এখানে ভোটের আলোচনায় প্রাধান্য পায়।

প্রচার শুরুর পর থেকেই এ আসনে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। জামায়াতে ইসলামী প্রথমবারের মতো জয়ের স্বপ্ন দেখেছিল বলে স্থানীয়রা জানান। বিভিন্ন হাটবাজারে সরব প্রচারণা চোখে পড়ে। তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা হয়। নির্বাচনের দিন কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিতি সকাল দিকে কম থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে ভিড় বাড়ে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামগ্রিকভাবে নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আন্দালিব রহমান পার্থ আইন পেশায় সুপরিচিত। জাতীয় রাজনীতিতে তার অবস্থান আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে। প্রচারণায় তিনি নদীভাঙন রোধ, অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন। ভোলা সদর এলাকায় ঘুরে ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকদের নিয়ে একাধিক বৈঠক করেন।

ভোলা–১ আসন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও প্রাকৃতিক ঝুঁকির দ্বৈত বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে। নদীভাঙন এবং যোগাযোগ সীমাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। নতুন মেয়াদে এসব ইস্যুতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। সমর্থকেরা বলছেন অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি উন্নয়ন গতি বাড়াতে পারবেন। সমালোচকেরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখানোই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

জয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন এলাকায় মিছিল ও শুভেচ্ছা বিনিময় হয়। সামাজিক মাধ্যমে অভিনন্দন বার্তা ভেসে ওঠে। তবে চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা রয়েছে। গেজেট প্রকাশের পর ফল আইনগত স্বীকৃতি পাবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এই জয় জেলা রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। বিএনপি জোটের অবস্থান শক্ত হয়েছে। জামায়াতের প্রত্যাশা অপূর্ণ রয়ে গেছে। আগামী দিনে সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস দেখা যেতে পারে।

দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন পার্থ। ভোটারদের প্রত্যাশা স্পষ্ট। উন্নয়ন চাই। স্থায়ী সমাধান চাই। কার্যকর প্রতিনিধিত্ব চাই। এখন সময় প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের। ভোলা সদর তাকিয়ে আছে নতুন অধ্যায়ের দিকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত