বান্দরবানে তেল সংকটে পর্যটনে ভোগান্তি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬
  • ৫ বার
বান্দরবান জ্বালানি সংকট পর্যটন

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পর্যটননির্ভর জেলা বান্দরবানে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত পর্যটকদের ভ্রমণ পরিকল্পনা ভেঙে পড়েছে, পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ না থাকায় দিনব্যাপী তেল বিক্রি কার্যত ব্যাহত হচ্ছে। কিছু স্টেশনে সন্ধ্যার পর সীমিত পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম। ফলে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক গাড়িচালককে খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বান্দরবানের ফিলিং স্টেশনগুলোতে দিনে মাত্র একবার জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। তাও আবার সীমিত আকারে। এই পরিস্থিতিতে পর্যটকবাহী জিপ, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং সিএনজিচালিত যানবাহন সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে। ফলে জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

পর্যটকরা জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী নীলগিরি, নীলাচল, মেঘলা, স্বর্ণমন্দির, থানচি, রুমা, বগালেক ও সাজেকসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণের কথা থাকলেও জ্বালানি সংকটের কারণে তারা নির্ধারিত গন্তব্যে যেতে পারছেন না। অনেকেই হোটেলে অবস্থান করেই সময় কাটাচ্ছেন।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মো. মাসুম বলেন, পরিবার নিয়ে ঈদের ছুটিতে বান্দরবানে ঘুরতে এসেছিলাম। কিন্তু গাড়িতে তেল না পাওয়ায় হোটেলেই আটকে থাকতে হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘোরাঘুরি করা সম্ভব হচ্ছে না। একই অভিজ্ঞতার কথা জানান আরেক পর্যটক মো. ইমনুল। তিনি বলেন, প্রকৃতি উপভোগের উদ্দেশ্যে আসলেও পুরো ভ্রমণটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় পরিবহন খাতও এই সংকটে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তেল না পাওয়ায় অনেক চালক তাদের গাড়ি বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে দৈনন্দিন আয় কমে যাওয়ায় পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তারা।

স্থানীয় গাড়িচালক মো. আলী হোসেন বলেন, পর্যটন মৌসুমে সাধারণত ভালো আয় হয়। কিন্তু এখন তেল না থাকায় গাড়ি চালাতে পারছি না। এতে পরিবার নিয়ে সংকটে পড়েছি।

ফিলিং স্টেশনগুলোতে সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই গাড়ির দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক জ্বালানি না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এতে শুধু পর্যটন নয়, জেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে।

বান্দরবান হোটেল-রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বান্দরবান একটি পর্যটননির্ভর জেলা। এখানে জ্বালানি সংকট দেখা দিলে সরাসরি পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে পর্যটক আগমন কমে গেছে, যার প্রভাব পড়ছে হোটেল, রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট, পর্যটন গাইড এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর।

তিনি আরও বলেন, ঈদের ছুটির মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই সংকট স্থানীয় অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা। দ্রুত সমাধান না হলে পুরো পর্যটন মৌসুম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জ্বালানি সরবরাহে অনিয়ম ও সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বান্দরবানের পর্যটন খাতের ওপর আস্থাহীনতা তৈরি হতে পারে। এতে ভবিষ্যতে পর্যটক সংখ্যা কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

শহরের উঝমা ওয়েল ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিন্টু বলেন, প্রতিদিনই মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে। পর্যটক থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দা—সবাই সমস্যার মধ্যে আছে। দ্রুত সমাধান দরকার।

এদিকে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, জ্বালানি সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বান্দরবান দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন জেলা হওয়ায় এখানে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হলে তার প্রভাব শুধু স্থানীয় পর্যটনে নয়, জাতীয় অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। বিশেষ করে ঈদের ছুটির মতো পর্যটনের শীর্ষ মৌসুমে এ ধরনের সংকট অত্যন্ত ক্ষতিকর।

সব মিলিয়ে বান্দরবানের বর্তমান জ্বালানি সংকট পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা এবং ব্যবসায়ীদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আসন্ন দিনগুলোতে পর্যটন খাতে আরও বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত