থিকশানাকে দলে নিয়ে শক্ত বার্তা হায়দরাবাদের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬
  • ৫ বার
লঙ্কান স্পিনার মহেশ থিকশানা।

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পাকিস্তান সুপার লিগ শুরুর আগে দল গুছিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। বিশেষ করে নতুন দলগুলো নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিতে একের পর এক বড় নাম দলে ভেড়াচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞ স্পিনার মহেশ থিকশানাকে দলে নিয়ে শক্ত বার্তা দিল হায়দরাবাদ কিংসমেন।

দলটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এক ঘোষণায় তারা জানায়, অভিজ্ঞ এই স্পিনার এখন থেকে হায়দরাবাদ কিংসমেনের অংশ। ঘোষণায় থিকশানার বোলিং দক্ষতার প্রশংসা করা হয় এবং তাকে “চতুর বোলার” হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যা তার ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতারই স্বীকৃতি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইতোমধ্যেই নিজের জায়গা পাকা করেছেন থিকশানা। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তার পরিসংখ্যান বেশ শক্তিশালী। তিনি ৮৩টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৮২টি উইকেট নিয়েছেন, যেখানে তার ইকোনমি রেট ৭.০৮। এই পরিসংখ্যান তাকে বিশ্বের কার্যকর স্পিনারদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই নয়, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেও নিয়মিত পারফর্ম করে আসছেন এই শ্রীলঙ্কান স্পিনার। এখন পর্যন্ত ২২৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তিনি ২৩০টি উইকেট শিকার করেছেন, যা তার ধারাবাহিকতা ও অভিজ্ঞতার প্রমাণ। এই ফরম্যাটে চারবার চার উইকেট নেওয়ার কীর্তিও রয়েছে তার ঝুলিতে।

হায়দরাবাদ কিংসমেন এবারই প্রথমবারের মতো পাকিস্তান সুপার লিগে অংশ নিতে যাচ্ছে। নতুন দল হিসেবে প্রতিযোগিতামূলক এই টুর্নামেন্টে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে শুরু থেকেই শক্তিশালী স্কোয়াড গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছে তারা। থিকশানার অন্তর্ভুক্তি সেই পরিকল্পনারই গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দলের ম্যানেজমেন্ট মনে করছে, অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক স্পিনারদের উপস্থিতি চাপের ম্যাচগুলোতে বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টির মতো ফরম্যাটে যেখানে স্পিনারদের ভূমিকা অনেক সময় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়, সেখানে থিকশানার মতো বোলার দলের জন্য বড় সম্পদ হয়ে উঠতে পারেন।

এদিকে এবারের পাকিস্তান সুপার লিগ বেশ কিছু দিক থেকে আলাদা হয়ে উঠছে। প্রথমবারের মতো এই আসরে আটটি দল অংশ নিচ্ছে, যেখানে নতুন দুটি দল হিসেবে যুক্ত হয়েছে হায়দরাবাদ কিংসমেন ও রাওয়ালপিন্ডি। প্রতিযোগিতাটি ২৬ মার্চ শুরু হয়ে ৩ মে পর্যন্ত চলবে। ৩৯ দিনের এই আসরে মোট ৪৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

নতুন ফরম্যাট ও দল সংযোজনের কারণে এবারের আসরকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিটি দলই শক্ত স্কোয়াড গঠনের মাধ্যমে শিরোপা দৌড়ে এগিয়ে থাকার চেষ্টা করছে। সেই প্রেক্ষাপটে থিকশানার মতো অভিজ্ঞ স্পিনারের অন্তর্ভুক্তি হায়দরাবাদের জন্য বাড়তি আত্মবিশ্বাস যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য অভিজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় দলে নেওয়া শুধু পারফরম্যান্স নয়, ব্র্যান্ড ভ্যালুর দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। থিকশানার মতো খেলোয়াড় থাকলে দল শুধু মাঠেই নয়, দর্শক ও সমর্থকদের মধ্যেও আলাদা আগ্রহ তৈরি করতে সক্ষম হয়।

সব মিলিয়ে থিকশানাকে দলে টেনে হায়দরাবাদ কিংসমেন তাদের পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—তারা শুধু অংশ নিতে নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেই মাঠে নামছে। এখন দেখার বিষয়, মাঠের পারফরম্যান্সে এই পরিকল্পনা কতটা সফল রূপ নেয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত