হরমুজ প্রণালী অশান্তিতে জাপান ছাড়ছে তেল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৪ বার
এবার রাষ্ট্রীয় রিজার্ভ থেকে বাজারে তেল ছাড়ছে জাপান

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিশ্বজ্বালানি বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করায় জাপান রাষ্ট্রীয় রিজার্ভ থেকে তেল ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে সম্ভাব্য জটিলতা এবং তেলের সরবরাহে বাধার কারণে দেশটির সরকার এই পদক্ষেপকে ন্যূনতম ঝুঁকিতে বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার থেকে ৩০ দিনের সমপরিমাণ তেল ধাপে ধাপে বাজারে সরবরাহ শুরু হয়েছে, যা মোট ৪৫ দিনের মজুত ছাড়ার পরিকল্পনার অংশ।

জাপানের এই উদ্যোগকে ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেল মজুত উন্মুক্ত করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে গত ১৬ মার্চ থেকে বেসরকারি খাতের তেল মজুত থেকেও সরবরাহ শুরু করা হয়েছিল, যা বাজারে যোগান বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। জাপানের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। তাই যদি হরমুজ প্রণালীতে সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হয়, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষ নাগাদ উৎপাদনকারী দেশগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে মজুত করা তেল বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হবে। এই পদক্ষেপের ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ জ্বালানি দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। ইতিমধ্যেই তেলের দাম প্রতি লিটারে রেকর্ড ১৯০ ইয়েনে পৌঁছেছে। সরকার ভর্তুকি চালু করেছে, যাতে দাম প্রায় ১৭০ ইয়েনে সীমাবদ্ধ রাখা যায়। যদিও সরবরাহ সংকট মোকাবিলার জন্য জাপান সরকার এখনও বাধ্যতামূলক জ্বালানি সাশ্রয় নির্দেশনা জারি করেনি, তবে জনগণকে প্রয়োজনীয় পণ্য অতিরিক্ত মজুত না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

একই সঙ্গে টোকিও সফরের সময় ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির প্রধান ফাতিহ বাইরোল জানান, প্রয়োজনে সংস্থাটি আরও মজুত করা তেল ছাড়ার প্রস্তুতি রাখবে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী আইইএ-কে অনুরোধ জানান, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তারা অতিরিক্ত তেল সরবরাহে প্রস্তুত থাকুক।

যুক্তরাষ্ট্রও এর আগে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের কারণে স্ট্রাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে তেল ছেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে দাম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। জাপানের রিজার্ভ থেকে তেল ছাড়াও একই উদ্দেশ্য সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য এবং হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত যেকোনো উত্তেজনা বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়াতে পারে। জাপান, যেটি তার জ্বালানির বড় অংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল, সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় রিজার্ভ থেকে তেল সরবরাহের মাধ্যমে মূল্য স্থিতিশীল রাখতে চাচ্ছে। এই উদ্যোগ শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও জ্বালানি সরবরাহে সুনিশ্চিতি প্রদান করবে।

তেল সরবরাহের এই পদক্ষেপকে স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সাধারণ জনগণ স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, বাজারে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ থাকলে পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল থাকবে এবং ক্রয়-বিক্রয় প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকবে। এছাড়া, ভবিষ্যতে তেলের অভাবজনিত জটিলতা প্রতিরোধ করতে জাপানের এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

বিশ্বজ্বালানি বাজারের গতিশীলতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বিবেচনায়, জাপানের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং এনার্জি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছেও নজরকাড়া ঘটনা হিসেবে গণ্য হচ্ছে। দেশটির সরকারের পরিকল্পিতভাবে মজুত ছাড়ার মাধ্যমে শুধুমাত্র দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারই নয়, বরং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকেও স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।

জাপানের রাষ্ট্রীয় রিজার্ভ থেকে তেল ছাড়ার এই উদ্যোগ বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি, মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে জাপানের এই পদক্ষেপ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত