লেবাননে আরও সেনা মোতায়েন করছে ইসরাইল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৮ বার
লেবাননে আরও সেনা পাঠাচ্ছে ইসরাইল

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের মধ্যে ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননে আরও সেনা মোতায়েন করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ডিভিশন ১৬২-এর সেনারা লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন ‘বাফার জোন’ বা নিরাপত্তা বলয় গঠনের উদ্দেশ্যে অভিযান চালাবে। এই বাহিনী আগে থেকে মোতায়েন থাকা দুটি সেনা ডিভিশনের সঙ্গে যুক্ত হবে, যা এলাকা জোরদারভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখার পরিকল্পনার অংশ।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগেই ঘোষণা করেছেন যে দক্ষিণ লেবাননে একটি বড় বাফার জোন তৈরি করা হবে। এই উদ্যোগ মূলত হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্ভাবনা কমাতে এবং দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে। নেতানিয়াহুর কথায়, এই বলয় তৈরি হলে লেবাননের সীমান্তের পাশ্ববর্তী এলাকার নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে থাকে। সেই পরিস্থিতিতে হিজবুল্লাহ ইসরাইলের তেল আবিবকে লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালায়। এরপর মার্চ মাসের শুরুতে ইসরাইল লেবাননের ওপর হামলা জোরদার করে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় বিমান ও স্থল হামলা চালানোর পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চল এবং রাজধানী বৈরুতের কিছু উপশহরের বাসিন্দাদের জোরপূর্বক সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ১২ লাখের বেশি মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরাইলের হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ১১৬ জন নিহত এবং ৩ হাজার ২২৯ জন আহত হয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্র কার্যত চাপের মধ্যে পড়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মেডিকেল টিমগুলো কাজ করছে, তবে বিমান হামলা ও স্থল অভিযান অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক মহল মানবিক বিপর্যয় এড়াতে সতর্ক করে বলেছে, ইসরাইলের স্থল অভিযান আরও বিস্তৃত হলে তা ভয়াবহ পরিস্থিতি ডেকে আনতে পারে। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি এবং কানাডাসহ অনেক দেশ ইসরাইল ও লেবাননের পক্ষকে সংযমের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে ন্যূনতম পর্যায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হতে পারে।

অভিজ্ঞ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরাইলের এই সেনা মোতায়েন কেবল সামরিক স্থিতিশীলতা নয়, রাজনৈতিক চাপ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এটি সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে হিজবুল্লাহর সম্ভাব্য হামলা ঠেকানোর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রভাবকে দৃঢ় করার লক্ষ্যেও কাজ করছে।

লেবাননের সাধারণ মানুষ এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত। বাসিন্দারা জানান, নিরাপত্তাহীনতার কারণে তারা দৈনন্দিন কাজকর্ম বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। স্কুল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাজারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে রেশন, চিকিৎসা এবং আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করেছে, তবে সংকট এখনও কাটেনি।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনা কেবল লেবানন ও ইসরাইল সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রভাব পুরো অঞ্চলে অর্থনীতি, মানবাধিকার ও স্থিতিশীলতার ওপর পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সতর্ক করে বলছে, মানবিক বিপর্যয় রোধে অবিলম্বে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো একযোগে কাজ করছে, যাতে আহত ও গৃহহীনদের জন্য সহায়তা পৌঁছানো যায়। নিরাপত্তা বাহিনী ও মানবিক সংস্থাগুলোর যৌথ প্রচেষ্টা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত