পঞ্চগড়ে ৮৭ লাখ টাকার কষ্টিপাথরের বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫১ বার
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ২৯ কেজি ওজনের একটি কষ্টিপাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রকাশঃ ০২ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে প্রায় ৮৭ লাখ টাকা মূল্যের একটি কষ্টিপাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার করেছে র‍্যাব। এ ঘটনায় সুজন মহন্ত (৩৫) নামে এক চোরাকারবারিকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মূর্তিটি ২৯ কেজি ওজনের, দৈর্ঘ্য ৩১ ইঞ্চি এবং প্রস্থ ১৩ ইঞ্চি। এই উদ্ধার কার্যক্রম র‍্যাব-১৩ এর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে দেবীগঞ্জ উপজেলার ৮ নম্বর দণ্ডপাল ইউনিয়নের খগেরহাট এলাকায় পরিচালিত হয়।

র‍্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযানে সুজন মহন্তকে আটক করা হয় এবং তার কাছ থেকে কষ্টিপাথরের মূর্তি জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, মূর্তিটি পার্শ্ববর্তী দেশে পাচারের উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করা হয়েছিল।

র‍্যাব জানিয়েছে, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন চোরাচালান রোধের জন্য এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আটক ব্যক্তি ও উদ্ধারকৃত আলামত সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। র‍্যাবের এই উদ্যোগ দেশের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পদ রক্ষা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

উত্তরাঞ্চলের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো চোরাচালান ও অবৈধ বিক্রির ঝুঁকিতে থাকায় র‍্যাব নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। বিশেষ করে কষ্টিপাথরের মূর্তিসহ প্রাচীন নিদর্শনগুলো বৈদেশিক দেশে পাচারের চেষ্টায় থাকে। দেশে এমন ঘটনা ঘটে সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং সম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্ব আরোপ করছে।

এ ধরনের উদ্ধার দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। র‍্যাবের অভিযান শুধু অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করছে না, বরং দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদের নিরাপত্তা ও মূল্যবান ঐতিহাসিক নিদর্শন রক্ষা করতে সহায়তা করছে। পঞ্চগড়ের এই অভিযান স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্যও একটি প্রেরণাদায়ক উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উদ্ধারকৃত মূর্তিটি স্থানীয় বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রির জন্য রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ধরনের নিদর্শন সাধারণ জনগণের কাছে সরাসরি প্রদর্শন করা হয় না; এ কারণে চোরাকারবারিরা এগুলো বিদেশে অবৈধভাবে বিক্রির চেষ্টা করে। র‍্যাবের তৎপরতার কারণে এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের মধ্যেও এই ধরনের উদ্ধার কার্যক্রম প্রশংসা পাচ্ছে। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের প্রতি জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেলে অবৈধ পাচারের চেষ্টা কমানো সম্ভব হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। র‍্যাব আশা করছে, ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান চালিয়ে দেশের ঐতিহাসিক সম্পদ সংরক্ষণে অবদান রাখতে পারবে।

প্রত্নতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ রক্ষা করা দেশের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই এই ধরনের উদ্ধার কার্যক্রম দেশের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধতার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। র‍্যাব-১৩ এর এই পদক্ষেপ দেশজুড়ে সাংস্কৃতিক সম্পদ রক্ষায় এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত