প্রকাশ: ৪ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ফোর্ট মায়ার্সে এক বাংলাদেশি নারী নিলুফার ইয়াসমিন পারভীন হাতুরি ও চাকু দিয়ে আহত হয়ে নিহত হয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে, যখন নিলুফার তাঁর কাজের স্থান থেকে বের হয়ে গাড়িতে যাচ্ছিলেন। এ ঘটনায় রোলবার্ট জোয়াচিন নামের অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে এটিএম মেশিন থেকে টাকা তুলতে গিয়ে ব্যর্থ হন অভিযুক্ত। এরপর তিনি ক্যাশিয়ারের কাছে টাকা দাবি করেন। নিলুফার তাঁকে জানান যে, তিনি হয়তো ভুল পিন নম্বর দিয়েছেন এবং এটিএম মেশিন তাঁর নয়, তাই তিনি টাকা দিতে পারছেন না। এরপর অভিযুক্ত কিছু না বলে চলে যান।
তবে বৃহস্পতিবার ভোরে অভিযুক্ত নিলুফারের গাড়ির উইন্ডশিল্ডে হাতুড়ি দিয়ে ভাঙচুর শুরু করেন। নিলুফার দোকান থেকে বের হবার পর জোয়াচিন চিৎকার করে বলেছিলেন, ‘গিভ মি মাই মানি’। এরপর হাতুড়ি ও চাকু দিয়ে নিলুফারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করতে থাকে।
হামলার পর ফোর্ট মায়ার্স ফায়ার ডিপার্টমেন্ট ও ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল সার্ভিসেসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিলুফারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নিলুফার ইয়াসমিন পারভীনের বাড়ি বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার ১৮ নং কুশাখালী ইউনিয়নে। তিনি মাত্র তিন মাস আগে এই কনভিনিয়েন্স স্টোরে ক্যাশিয়ার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। নিলুফারের দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে, বয়স ১৬ ও ২০ বছর। স্থানীয় ও প্রবাসী সমাজের মানুষ এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
ফ্লোরিডা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হবে। স্থানীয় পুলিশ ও কমিউনিটি নেতারা নিহতের পরিবারকে মানসিক সহায়তা প্রদান এবং নিরাপত্তা বৃদ্ধির ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছেন। ঘটনার সামাজিক প্রভাব বিশাল, বিশেষ করে বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এই হত্যাকাণ্ড প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি আবারও গুরুত্বের সঙ্গে সামনে নিয়ে এসেছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সম্প্রদায় নেতারা এ ধরনের নৃশংস হত্যার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। নিহত নিলুফারের পরিবার এবং প্রতিবেশীরা আশা করছেন, অভিযুক্তকে দ্রুত বিচার করা হবে এবং এ ধরনের ঘটনা আর কখনো ঘটবে না।
নিলুফারের আকস্মিক মৃত্যু কেবল তার পরিবার নয়, সমগ্র বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায়ের জন্য মর্মস্পর্শী এবং তা স্থানীয় কমিউনিটিতে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এই হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে যে, প্রবাসে কর্মরত নারীরা অনেক সময় নিরাপত্তাহীনতার শিকার হতে পারেন। তাই স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটির সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।