ইরানে নিখোঁজ মার্কিন সেনাকে খুঁজছে বিশেষ দল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭ বার
ইরানে নিখোঁজ মার্কিন সেনাকে খুঁজছে বিশেষ দল

প্রকাশ: ৪ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ এক ক্রু সদস্যকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ যুদ্ধকালীন অনুসন্ধান ও উদ্ধার ইউনিট কাজ শুরু করেছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ইরান দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি জানালে, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানে থাকা ক্রুদের উদ্ধারের অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে জানা যায়, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের আকাশে স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোরে একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ইরানি সেনাবাহিনী গুলি করে ভূপাতিত করে। বিমানটিতে দুজন ক্রু ছিলেন, যাদের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অপর বিমানবাহিনীর ক্রু এখনও নিখোঁজ এবং তার সন্ধানে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলমান।

সংবাদমাধ্যম সিবিএস জানিয়েছে, নিখোঁজ ক্রু সদস্যের খোঁজে মার্কিন হেলিকপ্টার এবং অন্যান্য বিমান পাহাড়ি এলাকায় চক্কর দিচ্ছে। মার্কিন বিমানবাহিনীর একজন সাবেক প্যারারেসকিউ জাম্পার কমান্ডার বলেন, ‘ইরানে নিখোঁজ মার্কিন ক্রুকে উদ্ধারের জন্য যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত এবং সমন্বিতভাবে কাজ করছে।’

এ কমান্ডারের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে পাহাড়ি এলাকা চষে বেড়ানো হবে। যদি কোনও স্থানে হেলিকপ্টার পৌঁছাতে না পারে, প্যারারেসকিউয়াররা বিমান থেকে স্থলপথে হেঁটে উদ্ধার অভিযান চালাবে। মাটিতে নামার পর তাদের লক্ষ্য থাকে নিখোঁজ ক্রুর সাথে যোগাযোগ করা, প্রয়োজনে চিকিৎসা প্রদান করা, শত্রুর আক্রমণ এড়ানো এবং একটি নিরাপদ স্থানে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন করা।

এই বিশেষজ্ঞ দলকে বলা হয় বিমানবাহিনীর ‘সুইস আর্মি নাইফ’। সাবেক কমান্ডার এদের কাজকে ‘ভয়াবহ এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের দক্ষতা, প্রশিক্ষণ এবং আত্মনির্ভরশীলতা এই বিপজ্জনক অভিযানকে সম্ভব করছে।

ইরানও বিধ্বস্ত বিমান ক্রুর উদ্ধারের জন্য অভিযান শুরু করেছে। ইরানের একটি টেলিভিশন চ্যানেল সাধারণ নাগরিকদের পুরস্কার প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে, যাতে তারা শত্রুপক্ষের পাইলট বা ক্রুকে জীবিত ধরে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেয়। চ্যানেলের এক সংবাদ উপস্থাপক বলেন, ‘সামরিক বাহিনী নিখোঁজ মার্কিন ক্রুকে খুঁজে বের করতে অভিযান শুরু করেছে। স্থানীয়রা যদি পাইলট বা ক্রুকে জীবিত ধরেন, তাঁদের মূল্যবান পুরস্কার দেয়া হবে।’

এ ঘটনাটি শুধু মার্কিন ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ায়নি, একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক নজর কেড়েছে। নিখোঁজ ক্রুর উদ্ধার অভিযান এমন সময় চলছে যখন দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন ধরনের উদ্ধার অভিযানে সময় ও চূড়ান্ত পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পাহাড়ি এলাকা ও শত্রুপক্ষের উপস্থিতি বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

সুইস আর্মি নাইফ বা প্যারারেসকিউ দল শুধুমাত্র যোদ্ধা নয়; তারা এমন বিশেষজ্ঞ যারা সব ধরনের প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট বিপদ মোকাবিলা করতে সক্ষম। তাদের প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে হেলিকপ্টার থেকে লাফিয়ে খুঁজে বের করা, আহতকে চিকিৎসা প্রদান, শত্রুর উপস্থিতি এড়িয়ে চলা এবং দ্রুত নিরাপদ স্থানে উদ্ধার করা। এসব দক্ষতার মাধ্যমে তারা নিখোঁজ ক্রুর নিরাপদ উদ্ধার নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্ধার অভিযান এবং ইরানের প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে নজর কাড়ছে। দুই পক্ষই নিখোঁজ ক্রুর উদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মানবিক ও কূটনৈতিক দায়িত্বের ভার দুই দেশের উপরও রয়েছে।

এ অভিযান থেকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা দেখতে পাচ্ছেন যে, আধুনিক যুদ্ধকালীন প্রযুক্তি, বিশেষজ্ঞ দল এবং স্থল-এয়ার সমন্বয় ছাড়া নিখোঁজ ক্রুর নিরাপদ উদ্ধার প্রায় অসম্ভব। মার্কিন সুইস আর্মি নাইফদের দক্ষতা এবং সাহস এই জটিল পরিস্থিতিতে প্রাণবন্ত প্রমাণ করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত