প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ফরাসি ফুটবলের ভক্তরা দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর আবারও দেখতে পাবেন জিনেদিন জিদানকে জাতীয় দলের ডাগআউটে। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক এবং রিয়াল মাদ্রিদে তিনবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা কোচ দীর্ঘ বিরতির পর ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনার পর দেশের প্রধান কোচ হিসেবে যোগ দিতে সম্মত হয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জিদান আবারও আন্তর্জাতিক ফুটবলের উচ্চপর্যায়ে ফিরে আসছেন।
বর্তমান কোচ দিদিয়ের দেশম কয়েক সপ্তাহ আগে ঘোষণা করেছিলেন যে, বিশ্বকাপের পর তিনি দল ছাড়বেন। সেই ঘোষণার পর থেকেই ফরাসি ফেডারেশন নতুন কোচের সন্ধান শুরু করেছিল। জিদানকে নিয়ে আলোচনা শুরু হলে প্রাথমিকভাবে উভয় পক্ষ মৌখিকভাবে সম্মত হন। জিদান, যিনি ২০২১ সালের জুনে রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার পর থেকে ক্রিকেটের মতো ফুটবল মাঠ থেকে দূরে ছিলেন, এই পদ গ্রহণ করে আন্তর্জাতিক ফুটবল পরিমণ্ডলে আবারও তার প্রভাব প্রতিষ্ঠা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
জিদানকে কোচ করার সিদ্ধান্তের পেছনে ফরাসি ফেডারেশনের মূল কারণ হলো তার অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে সফলতার ইতিহাস। খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে জিদানের ক্যারিয়ার ফুটবলের উচ্চমাত্রার উদাহরণ হিসেবে ধরা হয়। ফ্রান্সের জন্য ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক হিসেবে তিনি ইতিমধ্যেই দেশের ফুটবলের ইতিহাসে স্বীকৃত। খেলোয়াড় হিসেবে তার কৌশলগত দক্ষতা, মাঠের দৃষ্টি এবং দলের নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষমতা তাকে ফরাসি ফুটবলের নতুন প্রজন্মের জন্য আদর্শ কোচ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
কিছু সপ্তাহ আগে জিদানের কাছে ইউরোপের একটি বড় ক্লাব থেকে কোচ হিসেবে যোগদানের প্রস্তাব আসে। তবে তিনি সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া না জানিয়ে ক্লাবটিকে অন্য কাউকে খুঁজতে দেন। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, জিদানের মন এখন ফরাসি জাতীয় দলের উপর স্থির। আলোচনার পর চুক্তির শর্তাবলি প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে এবং শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে বলে খবর।
জিদানের কোচিং ক্যারিয়ারের মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদে তিনবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা অন্যতম বড় মাইলফলক। তার অধীনে খেলোয়াড়রা শুধু কৌশলগতভাবে উন্নত হয়নি, বরং মানসিকভাবে এবং দলগত অনুশীলনেও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই অভিজ্ঞতা ফরাসি জাতীয় দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে বিশ্বকাপ ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের মতো বড় টুর্নামেন্টের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে।
ফ্রান্সের ফুটবল সমর্থকরা ইতোমধ্যেই জিদানের ডাগআউটে ফিরে আসাকে উদযাপন করছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তার অধীনে দল কৌশলগতভাবে আরও দৃঢ় হবে এবং নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হবে। জিদানের হাতে ফরাসি দলের দায়িত্বের অর্থ হলো কেবল ট্যাকটিক্যাল কোচিং নয়, বরং দলের নেতৃত্ব, মনোবল বৃদ্ধির পাশাপাশি খেলোয়াড়দের মধ্যে সৃজনশীলতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জিদানকে প্রধান কোচ করার সিদ্ধান্তে খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, দলগত সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তারা আশা করছেন, জিদানের নেতৃত্বে ফরাসি জাতীয় দল আগের তুলনায় আরও আত্মবিশ্বাসী, দ্রুত এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল প্রদর্শন করবে।
ফুটবল বিশ্লেষকরা বলছেন, জিদানের কোচিং ফিলোসফি দলকে মাঠে প্রতিটি মুহূর্তে সক্রিয়, গতিশীল এবং উদ্ভাবনীভাবে খেলতে উৎসাহিত করবে। তার অভিজ্ঞতা এবং মাঠের জ্ঞান ফরাসি দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করবে। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের চাপ সামলানোর ক্ষেত্রে তার কৌশলগত দক্ষতা দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
অবশেষে, জিনেদিন জিদানের এই প্রত্যাবর্তন ফরাসি ফুটবলের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। খেলোয়াড় ও ভক্তরা উভয়েই উত্তেজিত, কারণ তার নেতৃত্বে দল আবারও বিশ্বফুটবলের শীর্ষে অবস্থান করার জন্য প্রস্তুত হতে যাচ্ছে। ফ্রান্সের এই নতুন যুগে, জিদানের কোচিং ক্ষমতা জাতীয় দলের জন্য কেবল শারীরিক দক্ষতা নয়, মানসিক দৃঢ়তা এবং ট্যাকটিক্যাল কৌশলের নতুন দিগন্ত খুলবে।