প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ভারতের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য মোহাম্মদ শামির নাম নতুন নয়। দীর্ঘদিন জাতীয় দলে সুযোগ না পাওয়া সত্ত্বেও তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের অবস্থান মজবুত রাখছেন। সম্প্রতি আইপিএলের একটি উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে সানরাইজার্স হাইদরাবাদের বিপক্ষে লখনৌর হয়ে খেলতে গিয়ে শামি যে দক্ষতা দেখালেন, তা ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের নজর কাড়েছে। ম্যাচ শেষে তিনি নিজের পারফরম্যান্স নিয়েও খোলামেলা মন্তব্য করেছেন এবং জাতীয় দলের নির্বাচকদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
রোববারের ম্যাচে শামি ৪ ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে দুই উইকেট শিকার করেন। তিনি ব্যাটসম্যানদের জন্য ভীতিকর ছিলেন, বিশেষত ট্র্যাভিস হেড এবং অভিশেক শর্মার মতো দুই শক্তিশালী ওপেনারকে তিনি আউট করেন। তার নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং খেলার সময়ের শৃঙ্খলা ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শামি জানান, ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত থাকার জন্য ফিট থাকা অপরিহার্য। তিনি অতীতের চোট এবং কিছুটা অনিশ্চয়তার মধ্যেও সবসময় নিজেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখতে চেষ্টা করেছেন।
শামি স্পষ্ট করেন, তিনি কোনো যন্ত্র নন। পারফরম্যান্সে ওঠানামা স্বাভাবিক, তবে তিনি সবসময় সেরাটা দিতে চান। যে ভালো খেলা তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে দেখাচ্ছেন, তা হয়তো সবসময় নির্বাচকরা লক্ষ্য করেননি। এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, জাতীয় দলের নির্বাচক ও কোচদের দিকে তার ইঙ্গিত স্পষ্ট। তিনি বলেন, ভালো খেলা শুধু নিজের নিয়ন্ত্রণে নয়, তা দলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
শামি লখনৌ দল ও বোলিং কোচ ভরত অরুণের প্রশংসা করতে ভোলেননি। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে জাতীয় দলে একসাথে কাজ করার অভিজ্ঞতার কারণে তাদের বোঝাপড়া খুব ভালো। লখনৌকে তিনি নিজের দ্বিতীয় বাড়ি হিসেবে দেখেন এবং দলের প্রতি তার দায়বদ্ধতা অত্যন্ত স্পষ্ট। তিনি যোগ করেন, নিজের পরিশ্রম ও দক্ষতার ওপরই ভরসা রাখেন এবং নির্বাচনের ব্যাপারে বেশি ভাবেন না। নতুন বা পুরনো বল—উভয় ক্ষেত্রেই কঠোর পরিশ্রম তার মূল লক্ষ্য, এবং তিনি সব সময় চেষ্টা করেন দলকে সর্বোচ্চ সুবিধা দিতে।
গত মৌসুমে শামির পারফরম্যান্স কিছুটা মন্দ ছিল, কারণ ৯ ম্যাচে তিনি মাত্র ৬ উইকেট নেন এবং ইকোনমি রেট তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। তবে এবারের আইপিএলে তার ছন্দ পুরোপুরি বদলে গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শামির এমন পারফরম্যান্স জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তার বোলিং, নিয়ন্ত্রণ এবং মাঠে প্রতিক্রিয়া দেশের ক্রিকেট প্রেমীদের আবারও শামির প্রতি আগ্রহ বাড়িয়েছে।
শামি আরও বলেন, পারফরম্যান্সে ওঠানামা থাকবেই, কিন্তু প্রতিটি ম্যাচে নিজেকে সেরাটা দেওয়াই তার মূল উদ্দেশ্য। তিনি জানালেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলছেন এবং ফিটনেস ও দক্ষতা ধরে রাখার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার এই মনোভাব স্পষ্টভাবে দেখায়, তিনি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের জন্য নয়, দলের উপকারে খেলেন।
ক্রিকেট বিশ্লেষকরা বলছেন, শামির অভিজ্ঞতা, নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত পারফরম্যান্স তাকে জাতীয় দলে পুনরায় সুযোগ দেওয়ার দাবিদার করে তুলছে। যদিও নির্বাচকরা তার প্রতি নজর দিচ্ছেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে শামির আত্মবিশ্বাস, ঘরোয়া ক্রিকেটে ছন্দ এবং পরিশ্রম তাকে অন্য অনেক তরুণ বোলারের থেকে আলাদা অবস্থানে রাখে।
শামির বক্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট যে, খেলোয়াড় হিসেবে তিনি নিজের দায়িত্বের বিষয়ে সচেতন। তার লক্ষ্য কেবল নিজের পারফরম্যান্স নয়, দলকে সেরা ফলাফল অর্জনে সহায়তা করা। তার কঠোর পরিশ্রম, ধারাবাহিকতা এবং অভিজ্ঞতা লখনৌর হয়ে খেলতে গিয়ে তার দলকে গুরুত্বপূর্ণ জয়ের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
শামি তার বক্তব্যের মাধ্যমে জাতীয় দলের নির্বাচক ও কোচদের প্রতি মৃদু বিরক্তি প্রকাশ করলেও, তার মূল মনোভাব সবসময়ই পেশাদারিত্ব এবং দলের উপকারে কাজ করার প্রতি নিবেদিত। তার প্রতিটি বোলিং, প্রতিটি ম্যাচ এবং তার ধৈর্যশীলতা ভারতীয় ক্রিকেটের একটি শক্তিশালী উদাহরণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।