গাজায় স্কুলের কাছে ড্রোন হামলায় নিহত ১০

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৮ বার
গাজায় ড্রোন হামলা নিহত

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় আবারও রক্তঝরা সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত একটি স্কুলসংলগ্ন এলাকায় ড্রোন হামলার ঘটনায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। চলমান যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে এই হামলা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, বিশেষ করে যখন সেখানে অসংখ্য নিরীহ মানুষ আশ্রয় নিয়ে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন।

সোমবার (৬ এপ্রিল) গাজার কেন্দ্রীয় অঞ্চলের মাঘাজি শরণার্থী শিবিরের পূর্ব দিকে এই হামলা চালানো হয়। স্থানীয় সূত্র, প্রত্যক্ষদর্শী এবং চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, হামলার সময় এলাকাটি ছিল ঘনবসতিপূর্ণ এবং সেখানে বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষ অবস্থান করছিলেন। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে ভয়াবহ সেই মুহূর্তের চিত্র। তাদের দাবি, হামলার কিছুক্ষণ আগে একটি ইসরাইল-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী ওই স্কুলে প্রবেশ করে এবং কয়েকজনকে অপহরণের চেষ্টা চালায়। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিরোধ গড়ে তুললে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে হঠাৎ করেই আকাশ থেকে ড্রোনের শব্দ শোনা যায় এবং পরপর দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।

এই হামলায় ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন এবং অনেকেই গুরুতর আহত অবস্থায় আশপাশের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে বলে স্থানীয় চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। তবে নিহতদের পরিচয় ও তারা সবাই বেসামরিক নাগরিক কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আহতদের একজনের স্বজন জানান, তারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ওই স্কুলে এসেছিলেন। কিন্তু সেখানেও হামলার শিকার হতে হলো। তার কণ্ঠে ছিল অসহায়ত্ব ও ক্ষোভের মিশ্র প্রতিধ্বনি। “আমরা কোথায় যাব? ঘরবাড়ি নেই, খাবার নেই, এখন নিরাপদ জায়গাও নেই,”—বলছিলেন তিনি।

এই হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। উভয় পক্ষই একে অপরকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করে আসছে, যার ফলে স্থায়ী শান্তির সম্ভাবনা বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

অন্যদিকে, একটি ভিডিও বার্তায় সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর এক নেতা দাবি করেছেন, তারা হামাসের অন্তত পাঁচ সদস্যকে হত্যা করেছে। তবে এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে হামাসের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৭১৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৯৪০ জন আহত হয়েছেন। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও সহিংসতা পুরোপুরি থেমে নেই। বরং মাঝেমধ্যেই এমন হামলার ঘটনা ঘটছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও অনিরাপদ করে তুলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গাজা উপত্যকায় চলমান এই সংঘাতের মূল ভুক্তভোগী হচ্ছে সাধারণ মানুষ। তারা প্রতিনিয়ত সহিংসতার মধ্যে বসবাস করছে, যেখানে প্রতিটি দিনই অনিশ্চয়তায় ভরা। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল কিংবা আশ্রয়কেন্দ্র—কোনো জায়গাই এখন পুরোপুরি নিরাপদ নয়।

এই ঘটনার পর মানবাধিকার সংগঠনগুলো আবারও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যাতে গাজায় সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তারা বলছে, শুধু যুদ্ধবিরতির ঘোষণা নয়, বরং তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

গাজার বাসিন্দাদের জন্য প্রতিটি হামলা শুধু প্রাণহানির ঘটনা নয়, বরং এটি তাদের মানসিক অবস্থার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলছে। শিশুদের মধ্যে ভয়, আতঙ্ক এবং অনিশ্চয়তা দিন দিন বাড়ছে। তাদের শৈশব যেন হারিয়ে যাচ্ছে ধ্বংসস্তূপের নিচে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তির কোনো স্পষ্ট পথ দেখা যাচ্ছে না। একদিকে রাজনৈতিক টানাপোড়েন, অন্যদিকে সামরিক সংঘর্ষ—এই দুইয়ের মাঝে আটকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ সত্ত্বেও স্থায়ী সমাধান এখনো দূরবর্তী বলে মনে হচ্ছে।

সবশেষে বলা যায়, গাজায় স্কুলসংলগ্ন এলাকায় ড্রোন হামলার এই ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন সহিংসতা নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী সংকটের প্রতিফলন। যেখানে প্রতিটি বিস্ফোরণ শুধু ভবন ধ্বংস করে না, বরং মানুষের স্বপ্ন, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎকেও ভেঙে দেয়। এখন প্রয়োজন কার্যকর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ, যা এই সহিংসতার অবসান ঘটিয়ে গাজার মানুষকে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জীবনের আশা ফিরিয়ে দিতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত