প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণে পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছরে স্বাস্থ্যখাতকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ার পাশাপাশি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও গাফিলতির কারণে এই খাতে প্রত্যাশিত উন্নতি হয়নি, বরং অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি র্যালিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। রাজধানীর শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া এই র্যালিটি পরে জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয়। কর্মসূচিতে বিভিন্ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
রুহুল কবির রিজভী তার বক্তব্যে বলেন, স্বাস্থ্যসেবা একটি মৌলিক অধিকার হলেও দেশে এই খাতকে দীর্ঘদিন অবহেলা করা হয়েছে। তার মতে, বিগত সরকারের সময় স্বাস্থ্যখাতে কাঠামোগত দুর্বলতা, ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি এবং দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ যথাযথ সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সেই ধারাবাহিকতা এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, বরং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও কার্যকর নজরদারির অভাবে অনেক সমস্যা রয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যখাতকে উন্নত করতে হলে শুধু নীতিগত ঘোষণা যথেষ্ট নয়, বরং মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়ন, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
রিজভী বলেন, জনগণ এখনও সরকারি হাসপাতালগুলোতে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের হয়রানি, চিকিৎসা ব্যবস্থার অপ্রতুলতা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ঘাটতি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতকে আধুনিক ও জনবান্ধব করতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানো জরুরি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল “স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ”। এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত র্যালিতে বক্তারা স্বাস্থ্যসেবার সার্বিক উন্নয়ন এবং জনগণের স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে প্রেসক্লাবে এসে শেষ হওয়া র্যালিটি এক ধরনের সচেতনতা কর্মসূচিতে রূপ নেয়।
রিজভী তার বক্তব্যে বর্তমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে উদ্দেশ্য করে বলেন, সমস্যা চিহ্নিত করার পাশাপাশি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, জনগণ পরিবর্তন চায় এবং সেই পরিবর্তনের জন্য স্বাস্থ্যখাতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রিজভীর এই বক্তব্য রাজনৈতিক সমালোচনার পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতের দীর্ঘদিনের বাস্তব চিত্রও তুলে ধরে। তারা মনে করেন, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে ধারাবাহিক সংস্কার ও কঠোর তদারকি ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি কঠিন।
অন্যদিকে আয়োজিত র্যালিতে অংশ নেওয়া বিভিন্ন পেশাজীবী ও স্বাস্থ্যকর্মীরা বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতে এখনো অনেক কাঠামোগত সমস্যা বিদ্যমান। বিশেষ করে গ্রামীণ পর্যায়ে চিকিৎসা সেবার ঘাটতি এবং শহরে রোগীর চাপ সামাল দেওয়ার সক্ষমতার অভাব বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে স্বাস্থ্যখাতের বর্তমান চিত্র, সমস্যা এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। রিজভীর বক্তব্য সেই আলোচনায় নতুন করে রাজনৈতিক মাত্রা যোগ করেছে, যা স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।