আট দিন পর রামপালের দ্বিতীয় ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১২ বার
আট দিন পর রামপালের দ্বিতীয় ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আট দিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরেছে বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট। রোববার দুপুরে ইউনিটটিতে আবার উৎপাদন শুরু হয়। রক্ষণাবেক্ষণ ও ত্রুটি নিরসনের কাজ শেষে ইউনিটটি চালু হওয়ায় কেন্দ্রটির দুই ইউনিট থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এতে জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় রামপাল কেন্দ্রের স্বাভাবিক সক্ষমতা ফিরে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের বড় বিদ্যুৎ উৎপাদন স্থাপনাগুলোর একটি। কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। কোনো একটি ইউনিট যান্ত্রিক বা কারিগরি কারণে বন্ধ হয়ে গেলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা সাময়িকভাবে কমে যায়। ফলে একটি ইউনিটের দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

কেন্দ্রের মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আজিম দ্বিতীয় ইউনিট পুনরায় চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ইউনিটটিতে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর তা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ শেষে রোববার দুপুরে ইউনিটটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরেছে।

কেন্দ্রসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ সেপ্টেম্বর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ইউনিটটি সচল করতে কারিগরি কাজ শুরু করা হয়। ত্রুটি নিরসনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর ইউনিটটি আবার চালু করা হয়।

পুনরায় চালুর পর দ্বিতীয় ইউনিট থেকে প্রাথমিকভাবে ৩৬৮ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে দুটি ইউনিটেই পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন চলছে। ফলে দীর্ঘ আট দিন পর রামপাল কেন্দ্র আবার স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রমে ফিরেছে।

আনোয়ারুল আজিম বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ থাকায় কেন্দ্রটি ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রের যন্ত্রপাতিতে বিভিন্ন সময়ে কারিগরি সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত ত্রুটি শনাক্ত করে সমাধানের মাধ্যমে উৎপাদন পুনরায় চালুর চেষ্টা করা হয়। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন বজায় রাখাই কেন্দ্রের অন্যতম লক্ষ্য বলেও তিনি জানান।

বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের মতো বড় শিল্প স্থাপনায় যন্ত্রপাতির নিরবচ্ছিন্ন কার্যকারিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বয়লার, টারবাইন, জেনারেটরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সমন্বিতভাবে কাজ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হয়। এসব যন্ত্রের কোনো একটিতে সমস্যা দেখা দিলে পুরো ইউনিট বন্ধ করে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হতে পারে। রামপালের দ্বিতীয় ইউনিটের ক্ষেত্রেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

রামপাল কেন্দ্রের দুই ইউনিট চালু থাকায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে কেন্দ্রটির ভূমিকা আবার স্বাভাবিক পর্যায়ে এসেছে। একটি ইউনিট বন্ধ থাকাকালে কেন্দ্রের মোট উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। দ্বিতীয় ইউনিট চালু হওয়ায় সেই ঘাটতি কমাতে কেন্দ্রটি আবার আগের সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে কেন্দ্রটিতে পর্যাপ্ত কয়লা মজুত রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল কয়লা হওয়ায় বড় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে এবং বড় ধরনের কারিগরি সমস্যা না হলে কেন্দ্রটির উৎপাদন কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে।

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর পর থেকেই জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় এর উৎপাদন গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কেন্দ্রটির উৎপাদন জাতীয় গ্রিডের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদার সময়ে বড় উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর সচল থাকা বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

দেশে বিদ্যুতের চাহিদা সময় ও মৌসুমভেদে পরিবর্তিত হয়। শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, কৃষি ও আবাসিক খাতে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়লে জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন ও সরবরাহের ওপর চাপও বাড়ে। এ অবস্থায় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে উৎপাদন পরিকল্পনায় তার প্রভাব পড়তে পারে। একইভাবে বন্ধ থাকা ইউনিট দ্রুত উৎপাদনে ফিরলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বস্তি তৈরি হয়।

রামপাল কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট আট দিন বন্ধ থাকার পর চালু হওয়ায় কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতা পুনরুদ্ধার হয়েছে। তবে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে শুধু উৎপাদন শুরু করাই নয়, দীর্ঘমেয়াদে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রপাতির কারিগরি পরীক্ষা এবং সম্ভাব্য ত্রুটি আগেভাগে শনাক্ত করার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হয়।

কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ শেষে ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রের দুটি ইউনিট থেকেই পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চলছে। ফলে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র আবার তার নির্ধারিত সক্ষমতা অনুযায়ী জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে যুক্ত হয়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে দেশের অর্থনীতি ও মানুষের দৈনন্দিন জীবন সরাসরি জড়িত। শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের কার্যক্রম সচল রাখতে যেমন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন, তেমনি বাসাবাড়ি, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন জরুরি সেবাতেও বিদ্যুৎ সরবরাহের ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ। বড় উৎপাদন কেন্দ্রগুলো সচল থাকলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ সামাল দেওয়া এবং চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা বাড়ে।

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পুনরায় উৎপাদনে ফেরার ফলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা এখন পূর্ণমাত্রায় কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ১৩ সেপ্টেম্বর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের কাজ শেষে আট দিন পর তার অবসান হয়েছে। আপাতত দুটি ইউনিটই চালু থাকায় কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি এড়াতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি নজরদারি অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করা এবং যন্ত্রপাতির কার্যক্ষমতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বড় ধরনের উৎপাদন বিঘ্নের ঝুঁকি কমানো যেতে পারে। রামপাল কেন্দ্রের বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য হবে দুই ইউনিটের উৎপাদন ধারাবাহিক রাখা এবং জাতীয় গ্রিডে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত