রামপালে জমি বিরোধে সংঘর্ষ, যুবক নিহত

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৩ বার
রামপালে জমি বিরোধে সংঘর্ষ, যুবক নিহত

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাগেরহাটের রামপালে জমি-জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ এবং রাস্তায় বৃষ্টির পানি আটকে রাখাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে শেখ আহাদ আহামেদ ইতু (২৪) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার বাবা ফরিদুজ্জামান বয়াতি (৬০) ও মা নাজমা বেগম (৪৮) গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে উপজেলার ১০ নম্বর বাঁশতলী ইউনিয়নের ইসলামাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ইসলামাবাদ গ্রামের ফরিদুজ্জামান বয়াতির পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী মাসুম বয়াতি (৫৫) ও বাকি বয়াতির পরিবারের জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই উত্তেজনা ছিল বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। এর মধ্যেই সোমবার সকালে রাস্তায় বৃষ্টির পানি আটকে রাখা নিয়ে নতুন করে বিরোধের সূত্রপাত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, সকালে রাস্তায় জমে থাকা বৃষ্টির পানি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শেখ আহাদ আহামেদ ইতু, তার বাবা ফরিদুজ্জামান বয়াতি এবং মা নাজমা বেগম গুরুতর আহত হন।

হঠাৎ সংঘর্ষ ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলের পরিবেশ আতঙ্কজনক হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পরে তাদের রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শেখ আহাদ আহামেদ ইতুকে মৃত ঘোষণা করেন।

মাত্র ২৪ বছর বয়সী আহাদের মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের আবহ নেমে এসেছে। যে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল জমি-জায়গা ও দৈনন্দিন চলাচলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে, সেটিই শেষ পর্যন্ত একটি পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আহত অবস্থায় হাসপাতালে থাকা বাবা-মায়ের চিকিৎসা নিয়েও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

নিহত আহাদ ইসলামাবাদ গ্রামের ফরিদুজ্জামান বয়াতির ছেলে। সংঘর্ষে আহত তার বাবা ফরিদুজ্জামান বয়াতির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে আহত নাজমা বেগম রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার খবর পেয়ে রামপাল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের পর এলাকায় যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে।

রামপাল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ রাজিব আল রশিদ জানিয়েছেন, নিহত যুবকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও চলছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার প্রকৃত কারণ, সংঘর্ষে কারা কীভাবে জড়িত ছিল এবং কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জমি-জমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের সঙ্গে সোমবার সকালের পানিনিষ্কাশন সংক্রান্ত বিরোধ কীভাবে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নিল, সেটিও তদন্তের আওতায় আসবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রামাঞ্চলে জমির সীমানা, চলাচলের রাস্তা, পানি নিষ্কাশন কিংবা বসতভিটা ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ অনেক সময় পারিবারিক ও প্রতিবেশী সম্পর্কের ওপর চাপ তৈরি করে। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধও যদি সময়মতো মীমাংসা না হয়, তা বড় ধরনের সংঘর্ষের রূপ নিতে পারে। ইসলামাবাদের এই ঘটনাও সেই ধরনের একটি পরিস্থিতির করুণ পরিণতি কি না, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

এদিকে আহাদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় শোক ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরিবারের একমাত্র তরুণ সদস্যকে হারানোর শোকের পাশাপাশি আহত বাবা-মায়ের চিকিৎসা নিয়ে স্বজনদের উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে। স্থানীয়ভাবে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ঘটনাস্থলের বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

জমি-জায়গা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এমন প্রাণহানি শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, পুরো এলাকার সামাজিক পরিবেশেও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করা এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের সংঘর্ষ যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত