প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
নড়াইলে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাসান শেখ (৪৮) মারা গেছেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহত হাসান শেখ নড়াইলের নড়াগাতী থানার কলাবাড়িয়া ইউনিয়নের চরকান্দিপাড়া এলাকার তারা মিয়া শেখের ছেলে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার সকালে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কলাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. সোহেলের পক্ষ এবং আবেদ গ্রুপের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। তাঁদের মধ্যে হাসান শেখ গুলিবিদ্ধ হন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও উত্তেজনা ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয় বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের সময় গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে। এতে হাসান শেখসহ কয়েকজন আহত হন। তবে সংঘর্ষের সূত্রপাতের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং গুলিবর্ষণের ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
সংঘর্ষের পর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গুলিবিদ্ধ হাসান শেখকে সেখানেই ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দিবাগত গভীর রাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে চরকান্দিপাড়া ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে।
নড়াগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হোসেন আলী জানিয়েছেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে সাতজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হাসান শেখ চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দিবাগত রাতে মারা যান।
ওসি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংঘর্ষের পর যাতে কোনো পক্ষ আবারও সহিংসতায় জড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য এলাকাটিতে সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সংঘর্ষের সময় অস্ত্রের ব্যবহার, গুলিবর্ষণের ঘটনা এবং হতাহতের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এ ধরনের সংঘর্ষে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। বিশেষ করে বসতবাড়ি ও জনবহুল এলাকায় সংঘর্ষ হলে নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। বুধবারের সংঘর্ষের পরও স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে কোনো সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে কি না, তা নিয়ে অনেকে সতর্ক রয়েছেন।
হাসান শেখের মৃত্যু তাঁর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি করেছে। পরিবারের সদস্যরা আকস্মিক এ ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন। একজন আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ায় সংঘর্ষের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও গুরুতর হয়ে উঠেছে। তবে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সংঘর্ষে আহত অন্য ব্যক্তিদের বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আহতদের মধ্যে কারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং কারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন, তা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল সূত্রের মাধ্যমে আরও পরিষ্কার হতে পারে।
স্থানীয় পর্যায়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলে। কোনো বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে তা একপর্যায়ে বড় ধরনের সংঘাতের জন্ম দিতে পারে। নড়াইলের কলাবাড়িয়া ইউনিয়নের ঘটনাতেও এমন একটি বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে বিরোধের পেছনের সব কারণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ এলাকায় অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এ ঘটনায় নতুন করে কোনো সংঘর্ষ যাতে না ঘটে, সে জন্য স্থানীয়ভাবে সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি পুলিশি নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
হাসান শেখের মৃত্যুর ঘটনায় এখন তদন্তের প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ, গুলিবর্ষণের উৎস এবং এতে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা। একই সঙ্গে সংঘর্ষে আহত সাতজনের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
একজন মানুষের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা আরও গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখন স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন সহিংসতা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সংশ্লিষ্টদের প্রধান দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।