কুমিল্লায় ভোটকেন্দ্র ফেরানোর দাবিতে এলাকাবাসীর সমাবেশ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৭ বার
কুমিল্লায় ভোটকেন্দ্র ফেরানোর দাবিতে এলাকাবাসীর সমাবেশ

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার আমড়াতলী ইউনিয়নে ভুবনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পুনরায় ভোটকেন্দ্র হিসেবে বহাল রাখার দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত ও ছয়টি মৌজার মধ্যবর্তী স্থানে থাকা এই কেন্দ্রটি পরিবর্তন করে গ্রামের এক প্রান্তে অবস্থিত আবুল হাসেম আব্বাসীয় উচ্চ বিদ্যালয়ে নেওয়ার উদ্যোগে ভোটারদের যাতায়াত ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।

সোমবার ভুবনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে আমড়াতলী ইউনিয়নের তৈলকুপি, শালুকমুড়া, ভুবনঘর, ইছারপাড়, কৃষ্ণপুর ও রামনগর মৌজার শতাধিক মানুষ অংশ নেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট এলাকার সুবিধার চেয়ে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সহজ যাতায়াত, নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার সুযোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ভুবনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ছয়টি মৌজার প্রায় মধ্যবর্তী অবস্থানে হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকার ভোটারদের জন্য একটি সুবিধাজনক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ১৯৯৭ সাল থেকে এখানে স্থানীয় নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হয়ে আসছে বলে জানান তারা। প্রায় চার হাজার ভোটারের জন্য কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত ও সহজগম্য একটি স্থান হিসেবেও বিবেচিত হয়ে আসছে।

সমাবেশে স্থানীয় বাসিন্দা আক্তার হোসেন বলেন, ছয়টি মৌজার মানুষের জন্য ভুবনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থান তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক। কেন্দ্রটি মাঝামাঝি হওয়ায় বিভিন্ন বয়সী ভোটার, নারী, বয়স্ক মানুষ এবং শারীরিকভাবে অসুবিধাগ্রস্ত ব্যক্তিরাও তুলনামূলক কম দূরত্ব অতিক্রম করে ভোট দিতে পারেন। ফলে কেন্দ্রটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলে সাধারণ ভোটারদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে বলে তিনি দাবি করেন।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভুবনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবর্তে আমড়াতলী ইউনিয়নের সীমানার দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত আবুল হাসেম আব্বাসীয় উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্র নেওয়া হয়েছিল। এতে ছয়টি মৌজার দূরবর্তী এলাকার ভোটারদের একটি অংশকে বেশি পথ পাড়ি দিয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, নারী ও শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য দূরের কেন্দ্রে যাতায়াত বাড়তি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে সমাবেশে তুলে ধরা হয়।

পরবর্তীতে ভুবনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে আবার ভোটকেন্দ্র হিসেবে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার কথা স্থানীয়রা জানান। তবে বর্তমানে একটি বিশেষ মহল কেন্দ্রটি পুনরায় পরিবর্তনের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সমাবেশে বক্তারা এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কেন্দ্র নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের বাস্তব সমস্যা ও ভোটারদের সুবিধা বিবেচনার আহ্বান জানান।

ভোটকেন্দ্রের অবকাঠামোগত সক্ষমতার বিষয়টিও সমাবেশে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। স্থানীয়দের দাবি, ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ভুবনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুটি ভবনে মোট ১২টি কক্ষ রয়েছে। ভোটকেন্দ্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সাতটি কক্ষ সহজেই এখানে ব্যবহার করা সম্ভব। ফলে ভোট গ্রহণের জন্য বিদ্যালয়টির অবকাঠামো যথেষ্ট উপযোগী বলে মনে করছেন তারা।

এ ছাড়া বিদ্যালয়টির পুরো এলাকা সীমানাপ্রাচীর দিয়ে ঘেরা থাকায় নিরাপত্তার দিক থেকেও এটি সুবিধাজনক বলে দাবি করেন বক্তারা। তাদের মতে, ভোটের দিন ভোটারদের প্রবেশ ও বের হওয়ার ব্যবস্থাপনা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একটি সুরক্ষিত সীমানাবেষ্টিত প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও বলেন, একটি ভোটকেন্দ্র শুধু ভোট গ্রহণের স্থান নয়; এটি সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। তাই কেন্দ্র নির্ধারণের সময় এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়, যার কারণে সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ অপ্রয়োজনীয় দূরত্ব অতিক্রম করতে বাধ্য হন। বিশেষ করে নির্বাচনের দিন প্রতিকূল আবহাওয়া, যানবাহনের সংকট বা অন্যান্য বাস্তব সমস্যার কারণে দূরের কেন্দ্রে পৌঁছানো অনেক ভোটারের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

সমাবেশে আবুল হাসেম আব্বাসীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, বিদ্যালয়টির পর্যাপ্ত সীমানাপ্রাচীর না থাকায় ভোটের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন হতে পারে। এতে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপরও বাড়তি দায়িত্ব তৈরি হতে পারে বলে বক্তারা মনে করেন।

তবে স্থানীয়দের এসব বক্তব্য ও অভিযোগের পাশাপাশি বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে যাচাই করে দেখা প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছেন অনেকে। কারণ ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ সাধারণত নির্দিষ্ট প্রশাসনিক ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হয়ে থাকে। ফলে কোনো কেন্দ্রের অবস্থান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের কারণ, ভোটারসংখ্যা, যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামো, নিরাপত্তা ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে কি না, তা পরিষ্কার হওয়া জরুরি।

সমাবেশে কয়েকজন বক্তা অভিযোগ করেন, কৃষ্ণপুর ও ভুবনঘর এলাকার কিছু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে ভোটকেন্দ্র স্থানান্তরের পক্ষে তৎপরতা চালাচ্ছেন। তাদের দাবি, এ ধরনের কোনো উদ্যোগ যদি সত্যিই থেকে থাকে, তাহলে তা ছয়টি মৌজার বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা উচিত। একই সঙ্গে কেন্দ্র পরিবর্তনের পেছনে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য সমাবেশে উপস্থাপন করা হয়নি।

ভোটকেন্দ্র নিয়ে স্থানীয়দের এই প্রতিবাদ মূলত সহজে ভোট দেওয়ার সুযোগ, নিরাপদ পরিবেশ এবং দীর্ঘদিনের ব্যবস্থাকে বহাল রাখার দাবিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। সমাবেশে অংশ নেওয়া মানুষের বক্তব্যে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে দূরত্ব ও যোগাযোগের বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে। তাদের মতে, ভোটকেন্দ্র এমন জায়গায় থাকা উচিত, যেখানে একটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ তুলনামূলক সমান সুযোগে পৌঁছাতে পারেন।

এলাকাবাসীর দাবি, ভুবনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কেন্দ্র হিসেবে পুনর্বহাল করা হলে ছয়টি মৌজার ভোটারদের বড় অংশের জন্য যাতায়াত সহজ থাকবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও সীমানাপ্রাচীর থাকায় ভোট গ্রহণের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও তুলনামূলকভাবে সহজ হবে বলে তারা মনে করছেন।

সমাবেশে মনিরুল আলম, সেলিম, ওবায়েদ, কাশেম, হিরণ, তারু মিয়া, মোস্তফা, স্বপন, মিন্টু মাওলানা, কাজল, মো. সাইফুল ইসলাম ও গোলাম মোস্তফাসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্থানীয় ভোটারদের বাস্তব দুর্ভোগ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশের শেষ পর্যায়ে ভুবনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ভোটকেন্দ্র হিসেবে পুনর্বহালের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে দলমত নির্বিশেষে সব ভোটারের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত, নিরাপদ পরিবেশ বজায় এবং কোনো ধরনের পক্ষপাত ছাড়াই ভোটকেন্দ্র নির্ধারণের দাবি জানান বক্তারা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের এই দাবির বিষয়ে এখন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন আমড়াতলী ইউনিয়নের ছয়টি মৌজার ভোটাররা। তাদের প্রত্যাশা, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধা, নিরাপত্তা, অবকাঠামো এবং দীর্ঘদিনের ভোট গ্রহণের অভিজ্ঞতা বিবেচনা করা হবে। এতে নির্বাচনের দিন ভোটারদের অংশগ্রহণ আরও নির্বিঘ্ন হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশও স্বস্তিদায়ক থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত