কলেজছাত্রীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১১ বার
কলেজছাত্রীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

গাজীপুরের শ্রীপুরে এক কলেজছাত্রীকে জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে পিয়ার আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. রিজভীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে রিজভী, তাঁর বাবা মনির হোসেন ও মা নিলুফা আক্তারের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর কলেজছাত্রীকে উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রিজভীকে তাঁর সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করেছে গাজীপুর জেলা ছাত্রদল।

অভিযোগের ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার সকালে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, পিয়ার আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ওই ছাত্রী বাড়ির সামনে একটি দোকানে কেনাকাটা করতে গেলে সেখানে আগে থেকেই কয়েকজন সহযোগী নিয়ে অবস্থান করছিলেন রিজভী। ছাত্রী দোকানের সামনে যাওয়ার পর তাঁকে টেনে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।

ঘটনার পরপরই পরিবারের সদস্যরা তাঁকে খুঁজতে বিভিন্ন স্থানে ছুটে যান। পরে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করে। স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কয়েকটি বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়েছে। তবে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই কলেজছাত্রীকে এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

শ্রীপুরের মাওনা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক শাহিনুর ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই কলেজছাত্রীকে উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। স্বজনদের দেখানো বিভিন্ন বাড়িতে অভিযান চালানো হলেও এখনো তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

পরিবারের অভিযোগ, কলেজে যাওয়া-আসার পথে রিজভী দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানানো হলে তাঁরা রিজভীকে এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করেন। পরে বিষয়টি রিজভীর বাবা-মাকেও জানানো হয়। পরিবারের দাবি, তাঁরা ছেলেকে শাসন করার পরিবর্তে ওই ছাত্রীর পরিবারের কাছে রিজভীর সঙ্গে তাঁর বিয়ের প্রস্তাব দেন। তবে ছাত্রীর পরিবার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এর কিছুদিন পর গত সোমবার সকালে বাড়ির সামনে দোকানে যাওয়ার সময় ওই ছাত্রীকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত, কলেজছাত্রীকে উদ্ধার এবং অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা যাচাইয়ে কাজ করছে।

অভিযোগ ওঠার পর একই দিন দলীয় পর্যায়েও ব্যবস্থা নেওয়া হয়। গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক সরকার মো. রাকিব হোসেনের সই করা এক চিঠিতে রিজভীকে পিয়ার আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। চিঠিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সোহাগ হোসেন জানিয়েছেন, রিজভীর বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠায় তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অর্থাৎ পুলিশের তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সংগঠনটির পক্ষ থেকেও অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে মো. রিজভীর বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে তাঁর নিজস্ব বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের স্বার্থে তাঁর বক্তব্য সামনে এলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও পরিষ্কার হতে পারে।

ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একজন কলেজছাত্রীকে তাঁর স্বাভাবিক চলাফেরার সময় জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী তরুণীদের নিরাপত্তা এবং তাঁদের স্বাধীনভাবে চলাফেরার পরিবেশ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

একই সঙ্গে ঘটনাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি দ্রুত দলীয় পর্যায়ে পৌঁছানো এবং অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া। কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে তা যথাযথভাবে তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণের আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত না করাও আইনি প্রক্রিয়ার মৌলিক বিষয়।

বর্তমানে পুলিশের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নিখোঁজ কলেজছাত্রীকে দ্রুত খুঁজে বের করা এবং তিনি কোথায় ও কী অবস্থায় রয়েছেন, তা নিশ্চিত করা। পরিবারের সদস্যদের উৎকণ্ঠার মধ্যে প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, স্বজনদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য স্থানগুলোতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

ঘটনার সঙ্গে রিজভীর বাবা-মায়ের নামও লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রকৃতি ও ঘটনায় তাঁদের কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা তদন্তের বিষয়। একইভাবে রিজভীর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিলেন কি না, সেটিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খতিয়ে দেখছে।

আইনগতভাবে একটি অভিযোগের পর তদন্ত, তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারিত হয়। এ ক্ষেত্রে পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের প্রাথমিক কার্যক্রম এবং অভিযুক্তের বক্তব্য—সবকিছুই তদন্তের অংশ হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা আদালত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।

এদিকে কলেজছাত্রীকে উদ্ধার করা গেলে তাঁর নিরাপত্তা ও মানসিক অবস্থার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের ওপর সামাজিক ও মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। তাই তদন্তের পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

শ্রীপুরের এই ঘটনা শেষ পর্যন্ত কীভাবে গড়ায়, তা এখন নির্ভর করছে পুলিশের তদন্ত ও উদ্ধার অভিযানের ওপর। কলেজছাত্রীকে দ্রুত উদ্ধার করে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই এখন প্রধান প্রত্যাশা। একই সঙ্গে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে—এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত